ভালো কাজে পুরস্কার, মন্দে শাস্তি: সিএমপি কমিশনার

আলোকিত সকাল ডেস্ক

নগরীর একে খান এলাকা থেকে ইয়াবাসহ এক যুবককে আটক করে আকবর শাহ থানা পুলিশ। তাকে মাদক আইনে মামলা দিয়ে আদালতে চালান দেয়া হয়। পরে আসামির বাবা সিএমপি কমিশনার বরাবর আবেদন করেন, ‘তার ছেলে নির্দোষ। তাকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়েছে আকবর শাহ থানার এসআই আফসার ও এএসআই নাছির।’

সিএমপি কমিশনার মাহবুবুর রহমান রিপন বিষয়টি তদন্ত করতে দায়িত্ব দেন উপ-কমিশনার জয়নুল টিটুকে। সাত কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলেন তিনি। শুধু তদন্ত দিয়েই থেমে থাকেন নি পুলিশ কমিশনার। খোঁজ খবর নিয়েছেন নিজেও।

তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেন উপ-কমিশনার। তদন্ত প্রতিবেদন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ওই দুই পুলিশের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রজু করতে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন কমিশনার।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে কর্মরত এসআই সিদ্দিকুর রহমান ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত থাকার তথ্য পান সিএমপি কমিশনার। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে নিজস্ব সোর্স দিয়ে খোঁজ খবর নেন তিনি। তথ্যের সতত্যা পেয়ে সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটকে দায়িত্ব দেন তাকে গ্রেফতার করতে।

গত ১৪ জুন রাতে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ডবলমুরিং থানার আগ্রাবাদ থেকে সিদ্দিকুর রহমানকে গ্রেফতার করে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও র‌্যাব। গ্রেফতারকৃত সিদ্দিকুর রহমান সে সময় সিএমপি’র বন্দর বিভাগে টিএসআই (টাউন সাব-ইন্সপেক্টর) পদে কর্মরত ছিলেন।

এমন আরো উল্লেখযোগ্য ঘটনা রয়েছে। মাদক নির্মূলসহ অপরাধ দমনে এভাবেই নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন সিএমপি কমিশনার মাহবুবর রহমান রিপন। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ছাড় দিচ্ছেন না কাউকেই। যখনই তার কাছে অভিযোগ এসেছে তখনই গুরুত্বের সঙ্গে পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি। হোক সে অপরাধী বাহিরের কিংবা পুলিশ বাহিনীর।

অপর দিকে যারা নিরলস কাজ করে বাহিনীর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছেন সেসব পুলিশ সদস্যকে উৎসাহ যোগাতে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি উদ্যোগে নানাভাবে উৎসাহ যোগাচ্ছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিট পুলিশের উর্দ্ধতন এই কর্মকর্তা। দিচ্ছেন পুরস্কারও।

মে মাসে ভালো কাজ করার জন্য সিএমপির ৫১ পুলিশ সদস্য ও সিভিল স্টাফকে পুরস্কৃত করেছেন সিএমপি কমিশনার। এছাড়া কোনো পুলিশ সদস্যের ভালো কোনো কাজের খবর পেলে সঙ্গে সঙ্গে নিজ কার্যালয়ে ডেকে ব্যক্তিগতভাবে নানাভাবে উৎসাহ দেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

সিএমপি কমিশনারের এমন কর্মকাণ্ডে আতংকের মধ্যে রয়েছেন সিএমপিতে কর্তরত অসাধু পুলিশ সদস্যরা। যেকোনো সময় গ্রেফতার কিংবা বিভাগীয় বিচারের সঙ্কায় নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছেন অপরাধ কর্মকাণ্ড থেকে।

সিএমপি কমিশনার মাহবুবর রহমান বলেন, পুলিশের একজন সদস্য হিসেবে ভালো কাজ করার সুযোগ অনেক বেশি। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে যে পুলিশ মানবসেবার মনোভাব নিয়ে কাজ করবে আমি তাকে পুরস্কৃত করবো। আর যিনি খারাপ কাজ করে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি নষ্ট করবেন তাকে শাস্তি পেতে হবে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments