ভারতের রানপাহাড় ডিঙাতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া

আলোকিত সকাল ডেস্ক

ইংল্যান্ডে আইসিসির টুর্নামেন্ট হলেই জ্বলে ওঠেন শিখর ধাওয়ান। ক্যারিয়ারের ১৭টি শতরানের ইনিংসের চারটিই ইংল্যান্ডে, যার একটিও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নয়! দ্বিপক্ষীয় সিরিজ নয়, বরং ইংল্যান্ডে আইসিসির টুর্নামেন্টেই ধাওয়ানের যত কারিশমা! চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দুটি আসরে ইংল্যান্ডে খেলতে এসে করেছিলেন তিনটি শতরান, প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে এসে করলেন ইংল্যান্ডে চতুর্থ শতরান। শিখর ধাওয়ানের শতরানের সঙ্গে বিরাট কোহলির প্রায় শতরান (৮২) ও রোহিত শর্মার অর্ধশত রানের ইনিংসে ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ৩৫২ রানের বড় সংগ্রহই দাঁড় করায় ভারত।

এত রান তাড়া করে জেতার জন্য অসাধারণ ব্যাটিং করা চাই। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে সেই বিস্ফোরণটাই দেখা যায়নি কেনিংটন ওভালে। স্টিভেন স্মিথ-ডেভিড ওয়ার্নারের সাবধানী হাফসেঞ্চুরির সঙ্গে শেষ দিকে অ্যালেক্স কেরির ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে দলীয় স্কোর তিন শ পেরোলেও তাই লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনি অ্যারন ফিঞ্চের দল। অস্ট্রেলিয়াকে ৩১৬ রানে আটকে দিয়ে ৩৬ রানের সহজ জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে বিরাট কোহলির দল।

বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল দলের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সমর্থনপুষ্ট দলটির লড়াই সব সময়ই এনে দেয় বাড়তি উত্তেজনার আঁচ। গত বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ভারতকে হারিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া; জিতেছিল পঞ্চম শিরোপা। তার আগেরবার, ২০১১ বিশ্বকাপে আবার ভারত কোয়ার্টার ফাইনালে হারিয়েছিল অস্ট্রেলিয়াকে, এরপর হয়েছিল চ্যাম্পিয়ন। সব মিলিয়ে অনেকের কাছেই এই ম্যাচটা ফাইনালের ‘ড্রেস রিহার্সাল’, সময়ের সেরা সব ক্রিকেটারের দ্বৈরথ। ওভালে গুরুত্বপূর্ণ টসটা জিতে ব্যাটিং নিয়েছিলেন বিরাট কোহলি। অধিনায়কের আস্থা রেখেছেন রোহিত শর্মা ও শিখর ধাওয়ান; মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্সের ছোড়া গোলা সামলে ২৩ ওভারে দুজনে মিলে এনে দিয়েছেন ১২৭ রানের উদ্বোধনী জুটি।

স্নায়ুর চাপের ম্যাচে বড় উদ্বোধনী জুটি অনেকটাই নিশ্চিন্ত করে অধিনায়ককে। উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে রোহিত ফিরে যাওয়ার পর ব্যাট করতে এসে কোহলি তাই ফুরফুরে মেজাজে। হাসছেন, সতীর্থের সঙ্গে রসিকতা করছেন। হাসতে হাসতেই অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের ঘাম ছুটিয়েছেন কোহলি-ধাওয়ান। দ্বিতীয় উইকেটে দুজনের ৯৩ রানের জুটি, ব্যক্তিগত ১২৭ রানে ধাওয়ান আউট হলেও অন্য প্রান্তে ছিলেন কোহলি। তাঁর সঙ্গে যোগ দেন ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন পাওয়া হার্দিক পাণ্ডে। তাঁর ২৭ বলে ৪ বাউন্ডারি আর ৩ ছক্কায় খেলা ৪৮ রানের ক্যামিওতে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে যায় ভারত। অথচ উইকেটের পেছনে অ্যালেক্স কেরি ক্যাচটা হাতে জমাতে পারলে অন্য রকম হতো ম্যাচের ভাগ্য। ধোনিও খেলেন ১৪ বলে ২৭ রানের কার্যকর ইনিংস। তবে আক্ষেপ করতেই পারেন বিরাট কোহলি। বিশ্বকাপে আরেকটা শতরানের খুব কাছে গিয়েও যে তিন অঙ্কে পৌঁছানো হলো না ‘ভিকে’র। ২০১১ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে, বাংলাদেশের বিপক্ষে শতরান করেছিলেন কোহলি, সেটিই ছিল বিশ্বকাপে তাঁর প্রথম ম্যাচ। এরপর ২০১৫ বিশ্বকাপে শতরান করেছিলেন পাকিস্তানের বিপক্ষে। কাল ইনিংসের শেষের দিকে তো স্ট্রাইকই পেলেন না কোহলি, শেষের আগের বলে ক্যাচ দিয়ে আউট হওয়ার আগে করেছেন ৭৭ বলে ৮২ রান। ৪টি বাউন্ডারি, দুটি ছয়ের মার।

১০৯ বলে ১৬ বাউন্ডারিতে ১১৭ রান করা ধাওয়ানের এটি ক্যারিয়ারের ১৭তম শতরান। ওয়ানডে শতরানের সংখ্যায় ধাওয়ান এখন ভারতীয়দের ভেতর পঞ্চম। শতরানের সংখ্যায় ছাড়িয়ে গেছেন বীরেন্দর শেবাগ ও রাহুল দ্রাবিড়ের মতো কিংবদন্তিকেও। রেকর্ড হয়েছে আরো। কাল ২০ রান করলেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২০০০ রান হতো রোহিতের। শুধু ২০ রানে সন্তুষ্ট না থেকে করেছেন ৫৭ রান। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২০০০ রান রোহিত করেছেন ৩৭ ইনিংসে। এই মাইলফলকে পৌঁছতে শচীন টেন্ডুলকার নিয়েছিলেন ৫১ ইনিংস, ডেসমন্ড হেইনসের লেগেছিল ৫৯ ইনিংস আর ভিভ রিচার্ডসের ৪৫ ইনিংস।

৩৫৩ রানে জয়ের লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা ছিল সাবধানী। তবে বেশি দেখেশুনে খেলতে গিয়েই রানরেটটা চড়িয়ে দিয়েছেন দুই ওপেনার অ্যারন ফিঞ্চ ও ডেভিড ওয়ার্নার। ওয়ার্নারের হাফসেঞ্চুরি আসে ৭৭ বলে, এতটা ধীরে ব্যাটিং করাটা একদমই বেমানান এই বাঁহাতির সঙ্গে। ৩৫ বলে ৩৬ রান করে ফিঞ্চ হয়েছেন রানআউট, সিঙ্গেলসের পর ডাবলস নিতে গিয়ে ভুল-বোঝাবুঝিতে। অনেকটা সময় ধৈর্য ধরে খেলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ দিয়েছেন ওয়ার্নার। বিদায় নিয়েছেন ৮৪ বলে ৫৬ রান করে। জাসপ্রিত বুমরাহকে কাট করতে গিয়ে ৪২ রানে বোল্ড উসমান খাজা। সম্ভাবনার অঙ্কে তখনো ম্যাচে হয়তো ছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু ভুবনেশ্বর এক ওভারে আস্থার সঙ্গে খেলা স্মিথ এবং মার্কাস স্টোয়নিসকে ফেরালে ম্যাচ পুরো বেঁকে যায় ভারতের দিকে। ৭০ বলে ৬৯ রান করে স্মিথ এলবিডাব্লিউ হওয়ার পর এক বল বিরতি দিয়ে শূন্য রানে বোল্ড হয়ে যান স্টোয়নিসও। পরের ওভারে যুযবেন্দ্র চাহাল শুরু থেকে চড়াও হয়ে খেলা গ্লে ম্যাক্সওয়েলকে (১৪ বলে ২৮) ফেরালে জয়টা সময়ের ব্যাপার হয়ে যায় ভারতের। অ্যালেক্স কেরির ৩৫ বলে ৫৫ রানের ঝড়টা তাই হারের ব্যবধানই শুধু কমিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার। ভারতের ৩৫২ রানের জবাবে অস্ট্রেলিয়া করে ১০ উইকেটে ৩১৬ রান। ভুবনেশ্বর এবং বুমরাহ প্রত্যেকে নিয়েছেন ৩টি করে উইকেট, চাহালের শিকার ২টি।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box