ভারতেও ছেলেধরা গুজবে গণপিটুনির আতঙ্ক

আলোকিত সকাল ডেস্ক

ভারতেও ছেলেধরা গুজবে একের পর এক গণপিটুনির ঘটনা ঘটছে। আর এসব ঘটনা সামাল দিতে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছে দেশটির পুলিশ। এমনই দাবি করছে দেশটির গণমাধ্যম।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) ভারতীয় গনমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, সম্প্রতি ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলায় মাদারিহাট-ফালাকাটা রাজ্য সড়কের শালা মণ্ডল এলাকায়। সেখানে রান্নার গ্যাসের মেরামতের কাজে আসা পূর্ব মেদিনীপুরের তিন যুবককে ছেলেধরা সন্দেহে ধরে স্থানীয়রা গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে মাদারিহাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।

এছাড়া ভারতে এমনই গুজবের জেরে ঘটছে একের পর গণপিটুনির ঘটনা। জুনের মাঝামাঝি পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার শহরের কাছে পাটকাপাড়া চা বাগানে এমন ঘটনার সূত্রপাত। এরপর কখনো কালচিনির রায়মাটাং, তো কখনো ওই ব্লকের দলসিংহপাড়া বা আলিপুরদুয়ার জংশনের মাঝেরডাবরি বাগানে গণপিটুনির ঘটনা ঘটে।

এর আগে গত সোমবার আলিপুরদুয়ার জংশনের ভোলারডাবরি ও বীরপাড়ার দলগাঁও স্টেশনে ছেলেধরা সন্দেহে একই ব্যক্তিকে দুবার গণপিটুনি দেয়ার অভিযোগ ওঠে। এবার গণপিটুনির ঘটনায় নতুন এলাকা হিসেবে জুড়ে গেল মাদারিহাটের শালামণ্ডল এলাকার নাম।

পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার জানায়, বাড়ি বাড়ি গিয়ে রান্নার গ্যাসের মেরামতের কাজ করতে এ দিন মধ্য মাদারিহাট এলাকায় যান পূর্ব মেদিনীপুরের ছয় যুবক। একটি মারুতি ভ্যানে করে সেখানে গিয়েছিলেন। সঙ্গে গাড়ির চালকও ছিলেন। আচমকাই তাদের দেখে ছেলেধরা বলে সন্দেহ করতে শুরু করেন স্থানীয়রা।

কয়েক জন চিৎকারও শুরু করে দেন। বেগতিক বুঝে তারা গাড়ি নিয়ে পালাতে যান। শালামণ্ডল চৌপথীতে তাদের গাড়ি আটকে দেয় জনতা। বাকিরা পালাতে সক্ষম হলেও তিনজনকে ধরে শুরু হয় গণপিটুনি। ভাঙচুর করা হয় গাড়িটিও। খবর পেয়ে মাদারিহাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। মারমুখী জনতার হাত থেকে বহু কষ্টে ওই তিন জনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

সম্প্রতি ভারতের ছেলেধরা গুজবে ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনা:

১৬ জুন : পাটকাপাড়ায় ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি কবিরাজি ওষুধের ব্যবসায়ী এক বৃদ্ধকে। তাকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হয়েছিল পুলিশ।

২১ জুন : আলিপুরদুয়ার শহরের পলাশবাড়িতে চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে যাওয়া যুবককে গণপিটুনি।

২৩ জুন : ছেলেধরা সন্দেহে কালচিনির রায়মাটাংয়ে এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি।

৮ জুলাই : ছেলেধরা সন্দেহে কালচিনির দলসিংহপাড়ায় মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে গণপিটুনি। তাকে বাঁচাতে গিয়ে এবারও পুলিশ আহত হয়।

১৩ জুলাই : ছেলেধরা সন্দেহে আলিপুরদুয়ারের মাঝেরডাবরি চা বাগানে মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে গণপিটুনি। তাকে বাঁচাতে গিয়ে ফের আহত পুলিশ।

২১ জুলাই : ছেলেধরা সন্দেহে আলিপুরদুয়ার জংশনের বাদলনগরে মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে গণপিটুনি।

২২ জুলাই : ছেলেধরা সন্দেহে আলিপুরদুয়ার জংশনের ভোলারডাবরি ও বীরপাড়ার দলগাঁও স্টেশনে একই ব্যক্তিকে দুবার গণপিটুনি। দলগাঁও স্টেশনের ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ ওই ব্যক্তিরই ছেলে।

২৩ জুলাই : জিতি চা বাগানে মূক-বধির তরুণীকে গণপিটুনি।

২৪ জুলাই : মাদারিহাটের শালামণ্ডলে গ্যাস মিস্ত্রিদের ছেলেধরা সন্দেহে মার।

বর্তমানে ভারতের পুলিশও ছেলেধরা গুজবে গণপিটুনির ঘটনা রুখতে জেলাজুড়ে প্রচার চালাচ্ছে। বিডিও অফিসগুলোকেও এই প্রচারে শামিল হতে বলেছে প্রশাসন। তারপরও এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকায় চিন্তা বাড়ছে পুলিশের মধ্যে। জেলার এক পুলিশকর্তা বলেন, ‘এ দিনের মাদারিহাটের ঘটনাটি নিয়ে একটি মামলা দায়ের করা হচ্ছে। মারধরের ঘটনায় জড়িতদের পাশাপাশি ওই সাত যুবক ছেলেধরা বলে যে বা যারা গুজব ছড়িয়েছিলেন, তাদের খোঁজেও তল্লাশি শুরু হয়েছে।’

আস/এসআইসু

Facebook Comments