ভরা বর্ষায় পশ্চিমের জেলাগুলোর নদ-নদীর পানি তলানিতে

আলোকিত সকাল ডেস্ক

ভরা বর্ষাকালেও পশ্চিমের জেলাগুলোর ওপর দিয়ে প্রবাহিত নদ-নদীগুলোতে পানি এখনো তলানিতে। কচুরিপানায় ভরপুর। পরিবেশ ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে। মৃত নদীগুলোকে পুনরায় জীবিত করার উদ্যোগ নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ছোটো-বড়ো নদ-নদীর সংখ্যা ২৫টি। প্রাকৃতিক ও মানুষের সৃষ্ট কারণে এসব নদী মরে গেছে। মরে যাওয়া অনেক নদীতে এক সময় লঞ্চ, স্টিমার ও বড়ো বড়ো মহাজনী নৌকা চলতো। এ কথা নতুন প্রজন্মের কাছে কল্পকাহিনির মতো শোনায়।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, শুধুমাত্র পদ্মার প্রধান শাখা গড়াই নদী জীবিত আছে। সারা বছর প্রবাহ থাকে। অপর শাখা মাথাভাঙ্গা জীবিত নদী বলে ধরা হলেও সীমান্ত এ নদীর উত্সমুখ বর্ষা শেষে চর পড়ে প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। গঙ্গা কপোতাক্ষ প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় ১৯৬০ সালের দিকে গড়াইয়ের শাখা কালী ও ডাকুয়া নদীর উত্সমুখে বাঁধ দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেই থেকে এ নদী দুইটি মরে গেছে। এ নদী দুইটির মাধ্যমে কুমার প্রবাহ পেত। পানিপ্রবাহ না পাওয়ায় কুমারও মরে গেছে। মাথাভাঙ্গার মাধ্যমেও কুমার প্রবাহ পেত। চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার কাছে ভরাট হয়ে কুমারের উত্সমুখ বন্ধ হয়ে গেছে। কুমারের প্রায় ১০০ কিলোমিটার মরে গেছে। এ অঞ্চলের অন্যতম নদী ছিল নবগঙ্গা। চুয়াডাঙ্গা জেলার মাথাভাঙ্গা থেকে উত্পত্তি হয়ে ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মধুমতিতে মিশেছে। অনেক বছর আগে নবগঙ্গার উত্সমুখ বন্ধ হয়ে গেছে। নদীটি এখন মৃত। ঝিনাইদহ জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত বেগবতী, বেতনা ও ফটকি নদীও মরে গেছে। চুয়াডাঙ্গা জেলার মাথাভাঙ্গা থেকে উত্পত্তি হয়ে ঝিনাইদহ জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নড়াইল জেলা হয়ে রূপসায় মিশেছে চিত্রা। চিত্রার দৈর্ঘ্য ১৩০ কিলোমিটার। বহু বছর আগে চিত্রার উত্সমুখ ভরাট হয়ে প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ভৈরবের ভৈরবী গর্জনও থেমে গেছে অনেক আগেই। এ ছাড়াও এ অঞ্চলের ওপর দিয়ে প্রবাহিত, যমুনা, টেকা, হানুসহ কয়েকটি নদীর অস্তিত্ব মানচিত্রে থাকলেও বাস্তবে নেই। ভূমিদস্যুরা নদীর জমি গ্রাস করেছে। সীমান্ত নদী কোদলার অবস্থাও একই রকম। মেহেরপুরের হিসনা ও কাজলা নদী দুটিও মৃত।

কয়েক বছর আগে মেহেরপুরে ভৈরবের ৩০ কিলোমিটার খনন করা হয়। এ অংশটুকু জীবন ফিরে পেয়েছে। যশোর ও ঝিনাইদহ জেলায় ভৈরবের কিছু অংশ খনন করা হয়েছে। গত বছর মাগুরায় নবগঙ্গার ১১ কিলোমিটার খনন করা হয়। নদীবক্ষের প্রশস্ত আছে প্রায় ৩০০ মিটার। একটি খালের মতো করে খনন করা হয়েছে। চলতি বছরে আরো খনন করা হবে।

এ অঞ্চলের নদ-নদীগুলোর বর্তমানে পানির উত্স বৃষ্টির পানি। এ বছর ভরা বর্ষা মৌসুমেও প্রত্যাশিত বৃষ্টি নেই। ভারী বর্ষণ না হওয়ায় নদীগুলো ভরছে না। কচুরিপানায় ভরে গেছে। পাট জাগ দেওয়ায় পানি দূষণ হচ্ছে।

ঝিনাইদহের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সারওয়ার জাহান সুজন জানান, গত অর্থবছরে মহেশপুরে করতোয়া নদী খনন করা হয়েছে। তিনি জানান, চলতি অর্থবছরের নবগঙ্গা, চিত্রা, বেগবতী, বেতনা ও কোদলা খননের পরিকল্পনা আছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কুষ্টিয়ার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান জানান, নদ-নদীগুলোর উত্সমুখ বন্ধ হওয়ায় মরে গেছে। এগুলোকে জীবিত করা কঠিন ব্যাপার। গত অর্থবছরে প্রতি উপজেলায় একটি করে খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে প্রতি উপজেলায় পাঁচটি করে খাল-বিল, জলাশয় ও নদী খননের কর্মসূচি আছে। এতে নদীগুলোতে পানি থাকবে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments