বড় একা হয়ে গেলেন মেসি!

আলোকিত সকাল ডেস্ক

দলে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় থাকলে সেটা আসলে একটি সমস্যাই বটে! না, লিওনেল মেসির ব্যাপারে কোনো সমস্যা নেই, এখনো তিনি বার্সার হয়ে খেলতে নামা প্রথম দিনটির মতোই উজ্জ্বল, হয়তো তার থেকেও বেশি দীপ্তিমান।

শনিবার রাতে (২৫ মে) চলতি মৌসুমের স্প্যানিশ লীগ কাপ ‘কোপা দেল রে’র ফাইনালে ভ্যালেন্সিয়ার কাছে ২-১ গোলে হেরেছে বার্সা। ম্যাচে বার্সার হয়ে একমাত্র গোলটি করেছেন মেসিই। ৫৫ মিনিটে প্রতিপক্ষের পাঁচ খেলোয়াড়কে কাটিয়ে নেয়া শটটি অল্পের জন্য জড়ায়নি জালে। যদি বলটি জাল খুঁজে পেত কোপা ফাইনাল ইতিহাসের সবচেয়ে নান্দনিক গোলের স্বীকৃতি পেত ওই গোলটিই, তাতে সন্দেহ নেই। তাই মেসির ব্যাপারে প্রশ্ন তোলারই কোনো অবকাশ নেই।

এই মুহূর্তে ব্লুগ্রানাদের প্রধান সমস্যা হচ্ছে, অন্যান্য খেলোয়াড়দের ‘মেসিই পারেনি আমরা আর কি করব’ মনোভাব! পাশেই যখন মেসি আছেন, খামোখা ড্রিবল করে এগিয়ে লাভ কি, মেসিকে দিয়ে দিলেই তো হয়! ফাঁকায় থাকা কাউকে বলটা এগিয়ে দাও, সে বলটাকে মেসির পা পর্যন্ত পৌঁছে দিক, তবে তো দায়িত্ব সারা!

কিন্তু এমন করে আর কতদিন? বার্সেলোনার বা আর্জেন্টিনা যেখানেই মেসি খেলুন না কেন, প্রতিপক্ষের কোচ তার ডিফেন্ডারদের নিয়ে বসে যান কিভাবে মেসিকে আটকানো যায় সেই ছক কষতে। বার্সার প্রতিপক্ষরাও এখন জেনে গেছে, মেসির দিকে বার্সার সবাই তীর্থের কাকের মতো চেয়ে থাকেন। তাই তাকে আটকানো গেলো তো সব সমস্যার সমাধান হয়ে গেলো। অথবা সে যাকে দিয়ে গোল করাতে চাইবে তাকে এমনভাবে বেধে রাখো যাতে বল দেয়ার অন্য কোনো জায়গা না থাকে।

কোপার ফাইনালে ম্যালকমই ছিলেন বার্সার একমাত্র খেলোয়াড় যিনি এই মেসি নির্ভরতার বাইরে গিয়ে কিছু একটা করতে চেয়েছিলেন। লুইস সুয়ারেজ দলে থাকলে তিনিও চেষ্টা করেন মেসির ঘাড় থেকে চাপটা কিছুটা হলেও কমাতে। তবে সুয়ারেজের ওপরও আস্তে আস্তে ভর করছে বয়সের ভার ও নানা সীমাবদ্ধতা। ডেম্বেলেকে নিয়ে আশার আলো দেখার চেষ্টা থাকলেও ইনজুরি এই ফরাসি তরুণের নিত্যসঙ্গী। এখন পর্যন্ত বার্সার জার্সির চাপ তাকে নিতে হয়নি পুরোপুরি।

বিগত বছরগুলোতে মেসির সাথে দায়িত্ব ভাগাভাগি করার জন্য কোনো না কোনো খেলোয়াড় ছিলই বার্সেলোনা দলে। লুইস এনরিকের জমানায় ছিলেন নেইমার। গার্দিওলার আমলে তো অভাব ছিল না; জাভি, ইনিয়েস্তা, দানি আলভেস। ছিলেন স্যামুয়েল ইতো, ইব্রাহিমোভিচ, পেদ্রো, অ্যালেক্সিস সানচেজ যারা একের পর এক মৌসুমে দলের গোলস্কোরারের ভূমিকা কাঁধে নিতে প্রস্তুত ছিলেন। এরা সবাই মেসিকে আগলে রাখতেন, তার সেরা খেলাটা বের করে আনতে তাকে সাহায্য করতেন। তারাই মেসিকে বিশ্বসেরার আসন পর্যন্ত এগিয়ে নিয়ে গেছেন। কিন্তু এখন সবাই মেসিকে জানেন এক জাদুকর হিসেবে। ভক্ত সমর্থকদের তো বটেই খোদ কোচ-খেলোয়াড়দেরই এখন বিশ্বাস জন্মে গেছে, যাই হয়ে যাক না কেন মেসি ঠিকই ম্যাচ জিতিয়ে ফিরবেন।

ঐকতানে প্রত্যেক বাদ্যযন্ত্রের জন্যই হয়তো বিশেষ বিশেষ অংশ বরাদ্দ থাকে, কিন্তু একটি মাত্র বাদ্যযন্ত্র দিয়ে কখনো কন্সার্ট সম্পন্ন করা যায় না। আরনেস্টো ভালভার্দের এই বার্সেলোনার ঐকতান থেমে আছে, চলছে শুধু মেসির ‘সলো’ সঙ্গীত। তাতে চিরচেনা বার্সার সুর দিন দিন শুধু তাল হারিয়েই যাচ্ছে। সর্বশেষ দুটো লা-লীগা শিরোপা যদি তাদের ঘরে না যেত, তবে নিশ্চয় মেসির এই নিঃসঙ্গতা নিয়ে না ভেবে পারতেন না বার্সেলোনার হর্তা কর্তারা!

আস/এসআইসু

Facebook Comments