ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কাঠাঁলের ফলন কম ॥ হতাশায় কাঠাঁল বাগান মালিকরা

মুখলেছুর রহমান অভি,ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলতি মৌসুমে ১৪ হাজার মেট্রিকটন কাঁঠাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এবছর অনুকুল আবহাওয়া বজায় না থাকায় কাঠাঁল উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা অর্জিত হবে না বলে জানিয়েছেন কাঠাঁল চাষীরা।

তবে কৃষি বিভাগের দাবী কাঁঠালের ফলন আশানুরুপ এবং লক্ষ্য মাত্রা অর্জিত হবে সেইসাথে কৃষকরা ও লাভবান হবে। এবছর জেলায় প্রায় ১৪ হাজার মেট্রিকটন কাঠাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করেছে কৃষি বিভাগ। যার বাজার মূল্য প্রায় ৮ থেকে দশ কোটি টাকা। তবে কাঁঠাল বাগান মালিকরা আশানুরূপ ফলন না পাওয়ার কথাই বলছেন।

কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় এবছর ১৩৫০ হেক্টর জমিতে কাঠালের আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে উচু ও পাহাড়ি এলাকা হিসেবে পরিচিত বিজয়নগর,কসবা ও আখাউড়া উপজেলাতেই কাঠালের আবাদ হয়েছে বেশী।এসব উপজেলার ৭’শ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে কাঁঠাল। মিষ্টির এলাকা বলে খ্যাত বিজয়নগর উপজেলার দাড়িয়াপুর, লতিফপুর, ধোরানাল, খাটিংগা, বিষ্ণুপুর, পাহাড়পুর, মুকুন্দপুর ও ছতরপুর প্রভৃতি এলাকাতে প্রায় ৪’শ হেক্টর জমিতে কাঠালের বাগান বা গাছ রয়েছে।সেখানে গাছে গাছে কাঠালের সমারোহ।

তবে এবছর কাঠাঁল বাগান মালিকরা খুশি নন। তারা বলছেন এবছর সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় ফলন কম হবে। সেকারনে কাঠালের মুল্যেও হবে বেশী।লতিফপুর গ্রামের আব্দুল হাসিম বলন (৭০),মো. ইসমাঈল (৬০)ও ইরন মিয়া আলোকিত সকাল কে বলেন,এবছর বৃষ্টি কম হওয়ায় গত বছরের তুলনায় এবছর কাঠাঁলের ফলন কম হয়ছে।গত মৌসুমে যে গাছে একশো থেকে দেড়শো কাঠাঁল ধরেছিল, এবছর সেখানে অর্ধেকের চেয়ে কম ফলন হয়েছে।

এখলাছুর রহমান সাকিব বলেন, আমাদের কাঠাঁল গাছে গত বছরের তুলনায় এবছর কম কাঠাঁল ধরেছে।বৃষ্টির জন্য এবছর কাঠালের ফলন কম হয়েছে। বিজয়নগর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মো.আশরাফুল আলম আলোকিত সকাল কে বলেন, উচু ও লাল মাটি হওয়ায় বিজয়নগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রচুর কাঠাল উৎপাদিত হয় এবং এই এলাকার কাঁঠাল সুস্বাদু হওয়ার কারণে দেশ বিদেশে এ অঞ্চলের কাঠাঁলের খ্যাতি রয়েছে।

তিনি আরো জানান,ঢাকা ,সিলেট সহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা গাড়ি নিয়ে এসে বাগান থেকে কাঠাঁল নিয়ে যায়। এব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আবু নাছের আলোকিত সকালকে জানান, ‘এবছর জেলায় ১৩ হাজার নয়শত সত্তর মেট্রিকটন কাঠাল উৎপাদিত হবে, যার বাজার মূল্য প্রায় ৮ থেকে দশ কোটি টাকা।আমরা কাঠাঁল চাষীদের প্রশিক্ষণ সহ বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা প্রদান করে যাচ্ছি।’ অত্যন্ত সুমিষ্ট ও সুস্বাদু জাতীয় ফল কাঠাঁল এই জেলায় আশানুরুপ উৎপাদন হবে এবং চাষীরা আর্থিক ভাবে লাভবান হবে এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সকলের।

আস/এসআইসু

Facebook Comments