ব্রাহ্মণপাড়া পাবলিক লাইব্রেরি ছয় বছর ধরে বন্ধ!

আলোকিত সকাল ডেস্ক

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার একমাত্র পাবলিক লাইব্রেরিটি (গণগ্রন্থাগার) গত ৬ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। জরাজীর্ণ ভবনের পলেস্তারা উঠে গেছে, স্যাঁতসেঁতে মেঝে। বৃষ্টিতে ছাদ চুঁইয়ে পানি ভেতরে পড়ে। এতে পানিতে ভিজে আর তেলাপোকায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে লাইব্রেরির মূল্যবান বই ও আসবাবপত্র। ঐ এলাকার বইপ্রেমীদের কোনো কাজে আসছে না ঐ লাইব্রেরি। দুর্লভ ও মূল্যবান বইগুলো নষ্টের হাত থেকে জরুরি ভিত্তিতে রক্ষা করার জন্য দাবি জানিয়েছেন বইপ্রেমী ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা। তবে সহসাই এই লাইব্রেরিটি নতুন আঙ্গিকে সাজানো হবে বলে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ সূত্র জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এটি ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার একমাত্র পাবলিক লাইব্রেরি। এ লাইব্রেরি ভবনের অবস্থা একেবারেই নাজুক। এ লাইব্রেরিতে থাকা কোরআনের তরজমা-তাফসির, শিশুদের বিভিন্ন বই, ইসলামি ডিকশনারি, উপন্যাস, রাজনীতি, আইন ও শিক্ষামূলক অসংখ্য বই রয়েছে। লাইব্রেরির প্রায় ২ লাখ টাকার মূল্যবান বই পানিতে ভিজে এবং তেলাপোকাসহ পোকামাকড়ে নষ্ট করে ফেলছে। এছাড়া ভবনের ভেতরে আটটি আলমারি, দুটি বই পড়ার বড় টেবিল, বই রাখার একটি শেলফ, কাঠের ছোটো-বড়ো ১৯টি চেয়ার, একটি সেক্রেটারিয়েট টেবিলসহ মূল্যবান আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরির সেক্রেটারি নাছিরউদ্দিন জানান, ‘ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। সামান্য বৃষ্টির পানিতে ভবনের ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ে, ভবনের পলেস্তারা খসে পড়ছে। ভবনের ভেতরে কোনো বিদ্যুত্ সংযোগও নেই। এ কারণে ৬ বছর ধরে লাইব্রেরিটি বন্ধ করে রাখা হয়েছে, ফলে পাঠকরাও বই পড়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দুর্লভ ও মূল্যবান বই এবং আসবাবপত্রগুলো অবিলম্বে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।’

জেলার লালমাই ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শিক্ষাবিদ মো.শফিকুর রহমান বলেন, ‘বইয়ের প্রতি মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধি এবং পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে আলোকিত মানবসমাজ গঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে গ্রন্থাগার স্থাপনের বিষয়ে বর্তমান সরকার বিশেষ গুরুত্বারোপ করছে। দেশের প্রধানমন্ত্রীও সবসময় সকল শ্রেণির মানুষের প্রতি প্রিয়জনকে বই উপহার দেওয়ার জন্য আহবান জানিয়ে আসছেন। এক্ষেত্রে একটি উপজেলার একমাত্র পাবলিক লাইব্রেরি দীর্ঘ ৬ বছর ধরে বন্ধ থাকার বিষয়টি দুঃখজনক।’

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ‘পাবলিক লাইব্রেরির এই ভবনটি ব্যবহারের জন্য উপযোগী নয়, এটি পরিত্যক্তও ঘোষণা করা হয়নি। তবে আগামী মাসে (আগস্ট) উপজেলা কমপ্লেক্সের সমপ্রসারিত নতুন ভবনের কাজ শুরু হচ্ছে। অন্য ভবনের সঙ্গে নতুন ভবনের কাজ শুরু করা হবে, তখন এই লাইব্রেরিটি নতুন আঙ্গিকে সাজানো হবে।’

আস/এসআইসু

Facebook Comments