বৌদ্ধ পূর্ণিমা ঘিরে গির্জাসহ উপাসনালয়গুলোতে নিরাপত্তা জোরদার

আলোকিত সকাল ডেস্ক

আগামী ১৮ মে (শনিবার) বৌদ্ধ পূর্ণিমা। দিনটিকে ঘিরে জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় দেশের মসজিদ, মন্দির, গির্জাসহ বিভিন্ন উপাসনালয়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। আগের ঘটনাবলী মাথায় রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে রোববার (১২ মে) দুপুরে দৈনিক জাগরণকে ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া এ কথা জানান।

তিনি বলেন, বিদেশিদের বাসা-কর্মস্থলে তাদের চলাফেরায় নজরদারি ও সতর্কতা বাড়ানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন পুলিশ সদর দফতরে দাখিল করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে জঙ্গিদের ব্যাপারে মাঠ পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ করে পুলিশ সদর দফতরে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, যে কোনো নাশকতা ঠেকাতে পুলিশকে আরও সতর্ক হতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় খুলনা জেলার ১৩১টি গির্জায় নজরদারি বাড়ানো রয়েছে। সেখানে কর্তব্যরত ধর্মযাজক ও ভিনদেশি নাগরিক বিশেষ করে চীন, ভারত ও নিউ জিল্যান্ডের নাগরিকদের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত জেলা কোর কমিটি এ সিদ্ধান্তের কথা জেলা প্রশাসন, কেএমপি ও জেলা পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েছে।

খুলনায় দু’টি প্রকল্প ও বিভিন্ন গির্জায় প্রায় ২শ’ বিদেশি নাগরিক অবস্থান করছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘‘খুলনার কয়রা উপজেলার আংটিহারা নৌ-সীমান্তে চেক পোস্টের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া নগরীর অভিজাত হোটেল রয়েল, ক্যাসেল সালাম, সিটি ইন, ওয়েস্টার্ন ইন ও টাইগার গার্ডেনে বিদেশিরা অবস্থান করছেন। তাদের পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। জেলার বড় বড় গির্জায় সিসি ক্যামেরা ও পুলিশি নিরাপত্তা নেয়া হয়েছে।’’

স্থানীয় দাকোপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোকাররম হোসেন জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩১ ও ৩২ পোল্ডারে বাজুয়া, সুতরখালী ও কামারখোলায় বেড়িবাঁধ নির্মাণে ৫৬ জন চীন দেশের নাগরিক কর্মরত রয়েছেন। বিদেশি নাগরিকদের অবস্থানরত এলাকার পাশে পুলিশ অস্থায়ী ক্যাম্প করা হয়েছে। প্রত্যেক ক্যাম্পে একজন করে অফিসার ও তিনজন করে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছেন। তবে উপজেলার ৪৪টি গির্জায় পুলিশি নিরাপত্তা দেয়া সম্ভব হয়নি বলেও তিনি জানান।

রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোল্লা জাকির হোসেন জানান, পাথরঘাটায় খুলনা ওয়াসার পানি ট্রিটমেন্ট প্রকল্পে কর্মরত ২৬ জন চীনের নাগরিককে নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে। এছাড়া উপজেলার তিলক ও জয়পুর গির্জায়ও নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে। এছাড়া জেলা কোর কমিটির সভায় উল্লেখ করা হয়, খুবি, কুয়েট, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও দু’টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় পর পর দু’দিন অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের তালিকা পুলিশকে অবহিত করার জন্য বলা হয়েছে।

পুলিশ সদর দফতরের এক কর্মকর্তা জানান, রোববার (১২ মে) দুপুরেই সর্তকতা ও তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে বিভিন্ন রেঞ্জের ডিআইজি, র‌্যাব, এসবি, সিআইডি, পিবিআইসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর প্রধানদের বার্তা পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি নদীবন্দরগুলোতেও নিরাপত্তার জোরদারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পুলিশ কর্তাদের নির্দেশনার পাশাপাশি দেশের বিমাবন্দরগুলোতে বাড়তি সতর্কতা নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে।

মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান তুহিন বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে দেশের সব বিমানবন্দরেই অধিকতর সতর্কতার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার তারিক আহমেদ জানান, পোশাকে এবং সিভিল ড্রেসে তাদের কর্মীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। স্ক্যানিংয়ের জায়গাতেরও লোকবল বাড়ানো হয়েছে। সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে নিরাপত্তা কর্মীদের। তিনি আরও জানান, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দুটি প্রবেশ পথে এপিবিএন এর সতর্কতা ও টহলও জোরদার করা হয়েছে।

দেশের সব কারাগারেও একই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়ে অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক ইকবাল হাসান বলেন, আগামী ১৮ মে বৌদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে কারাগারগুলোতে অধিকতর সতর্কতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এটি রেড অ্যালার্ট নয়, তবে সবাইকে অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কারাগারের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে মোট ৬৮ কারাগারে ৭০ হাজারের বেশি বন্দি রয়েছে। এরমধ্যে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারেই আড়াইশর বেশি জঙ্গি সদস্যকে রাখা হয়েছে।

কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারের সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, আমরা এমনিতেই সতর্ক। তারপরও সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। জঙ্গিদের আদালতে আনা-নেয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ নিরাপত্তা নেয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি রাজধানীর পার্শ্ববর্তী বসিলা এলাকায় জঙ্গি আস্তানায় হানা দেয় র‌্যাব। সেখানে র‌্যাবের অভিযান টের পেয়ে আস্তানায় জঙ্গিরা আত্মঘাতী বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দুজন মারা যায়। সেখানে ওই বাড়িটির টিনের চালা উড়ে যায়। এর একদিন পরই সন্ধ্যায় রাজধানীর ব্যস্ততম গুলিস্তানে টহল পুলিশের ওপর বোমা হামলা চালানো হয়। সেখানে হামলায় ২ পুলিশ সদস্য ও এক আনসার আহত হন। এ ঘটনাকে জঙ্গি হামলার বলে তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দারা।

আসন্ন বৌদ্ধ পূর্ণিমায় এমন কোন জঙ্গি হামলার আশঙ্কা রয়েছে কিনা জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, এমন কোন নির্দিষ্ট হুমকি নেই। তারপরও আমরা বিগতদিনের হামলার বিষয় মাথায় রেখেই এ সকল নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিতে যাচ্ছি।

আস/এসআইসু

Facebook Comments