বৈরী আবহাওয়ার কারণে মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি ও মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া নৌপথে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ

বৈরী আবহাওয়ার কারণে মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি ও মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া নৌপথে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। কাঁঠালবাড়ি, মাদারীপুর, ০৭ আগস্ট। ছবি: অজয় কুন্ডুবৈরী আবহাওয়ার কারণে মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি ও মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া নৌপথে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ আছে। আজ বুধবার সকাল থেকে পদ্মা নদীতে প্রবল স্রোত ও বাতাস বয়ে যাওয়ার কারণে লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে। এর পর বেলা একটা থেকে আবহাওয়া আরও খারাপ হলে ফেরিসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করে ঘাট কর্তৃপক্ষ।

এদিকে ঘাট এলাকায় আটকা পড়া যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। অনেকেই ঘাট এলাকার যাত্রী ছাউনিতে আশ্রয় নেন। হঠাৎ নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় দুই ঘাটেই আটকা পড়েছে কোরবানির পশুবাহী ট্রাকসহ আট শতাধিক যানবাহন। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন এই নৌপথে আসা যাত্রী ও চালকেরা। অন্যদিকে যথাসময় পদ্মা পাড়ি দিতে না পারায় লোকসানের আতঙ্কে রয়েছেন গরুর ব্যাপারীরা।

আজ বিকেলে বিআইডব্লিউটিসি কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক মো. সালাম হোসেন বলেন, নদীতে প্রবল স্রোত আর বাতাস। একই সঙ্গে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। এ অবস্থায় নৌপথে দুর্ঘটনা এড়াতে আজ সকাল থেকে কোনো লঞ্চ ও স্পিডবোট ছাড়া হয়নি। সকালে দুটি ফেরি ছাড়া হলেও বেলা একটার পর আবহাওয়া বেশি খারাপ হলে ফেরিসহ সব নৌযান চলাচল সাময়িক বন্ধ করা হয়।

মো. সালাম হোসেন বলেন, এই অবস্থায় আবহাওয়া অফিস থেকে বার্তা না পেলে কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌপথে ১৮টি ফেরির একটিও ছাড়া হবে না। সাধারণত রাতে ৫-৬টি ফেরি চলাচল করে। এমন অবস্থায় আজ (বুধবার) রাতে ফেরি ছাড়া যাবে বলে মনে হচ্ছে না।কাঁঠালবাড়ি ও মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া নৌপথে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে কাঁঠালবাড়ি ঘাটের সংযোগ সড়কে আটকা পড়েছে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক। মাদারীপুর, ০৭ আগস্ট। ছবি: অজয় কুন্ডুসরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাটের চারটি ঘাটেই আটটি ফেরি নোঙর করে রাখা হয়েছে। ঘাটের চারপাশে ক্রমশই বাড়ছে যাত্রীদের চাপ। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই ঘাট থেকে একটু দূরে অবৈধভাবে বেশ কিছু ট্রলার যাত্রী তুলে ঝুঁকি নিয়ে পদ্মা পাড়ি দিয়েছে। ঘাটের সংযোগ সড়কগুলোতেও যানবাহনের দীর্ঘ সারি। পরিবহনগুলো টার্মিনালে রাখা হলেও গরু বোঝাই ট্রাক ও পণ্যবাহী ট্রাকগুলো সড়কের পাশে লাইন ধরে সারিবদ্ধভাবে ছিল।

ভাঙ্গা থেকে ছেড়ে আসা গরুর ব্যাপারী হারুন-উর রশীদ বলেন, ‘৭০টি গরু নিয়ে সকাল থেকেই ঘাটে আটকা পড়ে আছি। পদ্মায় অনেক ঢেউ থাকায় আমাদের ট্রাককে ফেরিতে তোলেনি। ট্রাক ফেরিতে না তুললে আমাদের বড় লোকসান হয়ে যাবে। হাটে নির্ধারিত দামে গরু বিক্রি করতে পারব না।’

শিবচর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘পদ্মা নদীর বিচিত্র রূপ ধারণ করছে। প্রবল বাতাস থাকায় মাঝ নদীতে বড় বড় ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়েছে। এই অবস্থায় নৌযান চলাচল করলে যেকোনো সময় বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই নৌযান চলাচল সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। আবহাওয়া একটু ভালো হলেই গরু বোঝাই ট্রাকগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপারের ব্যবস্থা করব।’

Facebook Comments