বেপরোয়া এস আলম’র গাড়ির চালক

মোঃ মিজানুর রহমান চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

বেশির ভাগ সড়ক দুর্ঘটনার জন্যই চালক দায়ী। বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে প্রাণহানি ঘটালেও শাস্তির নজির কম। ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে বিআরটিএতে সততার চর্চা বাড়াতে হবে। সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে চার লেন করা হয়েছে, সড়কের প্রস্থ বৃদ্ধি ও সংস্কার হওয়ার পরেও এস আলম গাড়ি চট্ট-মেট্রো ব ১১-০৫৯৪ নাম্বারের চালকের বেপরোয়া ভাবে নোহা গাড়িকে ওভারটেক করে দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছিল।

একটুর জন্য দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যায় নোহা গাড়ি, নোহায় থাকা ওমরাহ পালনে সৌদি পথযাত্রী আশরাফ মিয়া ও সাকেরা বেগম বলেন দুর্ঘটনা থেকে আল্লাহ আমাদের রক্ষা করেছেন।
এসব গাড়ির চালকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। দক্ষ ব্যক্তিকে লাইসেন্স দিতে হবে। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রথমে ড্রাইভারদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো কঠোর হতে হবে। ২/৫/১৯ ইং তারিখে ১.৩০ ঘটিকায় এ ঘটনা ঘটে দক্ষিণ চট্টগ্রামে মইজ্জারটেক। আমাদের দেশে দেখা যায় অনেক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীরাও গাড়ি চালায়।

ভালো ভাবে পর্যবেক্ষণ করেই ড্রাইভিং লাইসেন্স দিতে হবে। ওভারটেকিং মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে চালকদের। সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ অদক্ষ চালক। সেই সঙ্গে ফিটনেসবিহীন গাড়ি। হাইওয়ে পুলিশ থাকলেও অদক্ষ চালকরা অর্থের বিনিময়ে পার পেয়ে যাচ্ছে।

ভুয়া লাইসেন্সধারী, ফিটনেসবিহীন গাড়িকে আটক করতে হবে। কোনো চালক যদি একবার দুর্ঘটনা ঘটায় সে যেন আর কোনোভাবেই রাস্তায় গাড়ি নিয়ে নামতে না পারে সে ব্যাপারে প্রশাসনকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।

বেশির ভাগ বাস-ট্রাকের কাঠামোই অবৈধ, ঝুঁকিপূর্ণ। চালকের অযোগ্যতা ও অদক্ষতা হয় যদি সড়ক দুর্ঘটনার ব্যক্তিক কারণ, তবে এই অবকাঠামোগত ত্রুটি হলো নৈর্ব্যক্তিক বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কারণ। মোটরযান তৈরির সময়ই এর জন্য উপযোগী আকারের নির্দেশনা দেওয়া থাকে। মোটরযান আইন অনুযায়ী মূল কাঠামো বা আকার-আকৃতির পরিবর্তন অবৈধ। কিন্তু অনেক বাস-ট্রাকের মালিকই এ নির্দেশনা মানে না।

ট্রাকের সামনে-পেছনে সংযোজন করা হয় অতিরিক্ত বাম্পার, যা অতিরিক্ত মালামাল পরিবহনের কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আবার কাভার্ড ভ্যানের চালকের কেবিনের চেয়ে মালামাল পরিবহনের অংশ চওড়া করে বহনক্ষমতা তিন গুণ পর্যন্ত করা হয়। একই পরিবর্তন করা হয়ে থাকে বাসের কাঠামোতেও। আসনসংখ্যা এভাবে আকৃতি বদল ও ধারণক্ষমতার অধিক বড় করার কারণেও মহাসড়কের বাহনগুলো ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে বিভিন্ন দুর্ঘটনা ডেকে আনছে প্রতিনিয়ত। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হলে শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে নিজের, শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে রাষ্ট্রের নিয়োজিত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের।
পরিবহন খাতে সরকার, মালিক ও শ্রমিক সংগঠন সব একাকার হয়ে গেছে। নীতি ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে জনস্বার্থ উপেক্ষিত হচ্ছে। কিছু কিছু সিদ্ধান্ত জনগণের পক্ষে গেলেও তা বাস্তবায়ন করতে পারে না সরকার। বিআরটিএর তথ্য অনুসারে, সারা দেশে নিবন্ধিত ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও ডেলিভারি ভ্যান রয়েছে দেড় লাখেরও বেশি। নকশা অনুযায়ী যানবাহন যেমন হওয়ার কথা, সেই জায়গায় নিতে পারছে না বিআরটিএ।

বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর কারণেই প্রায় ৯০ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। অদক্ষ ও লাইসেন্স বিহীন চালক নিয়োগ এবং চালকেরা মোবাইল ফোনে কথা বলা, খেয়ালিপনা, ফাঁকা রাস্তা পেয়ে প্রতিযোগিতামূলক গাড়ি চালানো, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, হেলপার দিয়ে গাড়ি চালানো, ট্রাফিক আইন না মানা, ফুটপাত দখল, ওভারটেকিং, রাস্তার নির্মাণ ত্রুটি, গাড়ির ত্রুটি, যাত্রীদের অসতর্কতা, গুরুত্বপূর্ণ সড়কে জেব্রাক্রসিং না থাকা ও থাকলেও না মানা, নির্ধারিত গতিসীমা অমান্য করা, ধারণক্ষমতার চেয়ে ঈদের সময়ে অতিরিক্ত যাত্রী তোলা ও রাস্তায় ওভারটেক করার তীব্র মানসিকতা সড়ক দুর্ঘটনার কারণ। সড়কে সিসি ক্যামেরা বসাতে হবে। যান নিয়ন্ত্রণে পুলিশি তত্পরতা অব্যাহত রাখতে হবে। অদক্ষ বা আধাদক্ষ চালক দ্বারা গাড়ি চালালে মালিকদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাস্তার যেকোনো ত্রুটির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীকেও শাস্তির আওতায় আনতে হবে। একটি দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না। এ জন্য ব্যক্তি মানুষের সচেতনতাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আমরা সড়কের আর কোনো কান্না দেখতে চাই না। পুরনো গাড়ির ব্যবহার বন্ধ করে প্রশিক্ষিত, দক্ষ চালক নিয়োগ দিতে হবে। ট্রাফিক আইন মেনে চলতে চালকদের বাধ্য করতে হবে। পরিবহন মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ার কারণে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রশাসনকে আইন প্রয়োগে বিভিন্নভাবে বাধার সৃষ্টি করে। ফলে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কোনো আপস নয়। প্রশাসনকে দ্রুত আইন প্রয়োগে কঠোর হতে হবে। আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনা দেশে অনেক বেড়ে গেছে।

অপরাধ প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে—এই কঠোর আইনের প্রয়োগও দেখতে চাই। শ্রমিকরা কিছু হলেই যান ধর্মঘটে নামে। তাদের কেউ অপরাধ করলে কি শাস্তি দেওয়া যাবে না? যদি দক্ষ চালক গাড়ি চালায় তাহলে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে।

সড়ক দুর্ঘটনায় কিছু বিশিষ্ট মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হলে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা কিছুটা উচ্চবাচ্য করেন, যদিও কিছুদিন পর আবার তা আগের অবস্থায় ফিরে আসে।

তাই দুর্ঘটনার কারণগুলো চিহ্নিত করে এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধের জন্য বিআরটিএতে একটি বিশেষ শাখা খোলা প্রয়োজন, যারা সড়ক দুর্ঘটনার কারণগুলো চিহ্নিত করবে ও প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেবে। এ ছাড়া ট্রাফিক আইনের শক্তিশালী প্রণয়ন ও প্রয়োগের মাধ্যমে চালকদের মধ্যে আইনের ভীতি ও সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। পাশাপাশি যারা দুর্ঘটনার শিকার হয় তাদের পুনর্বাসনের দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box