বেনাপোল চেকপোস্টে ভ্রমণ পিপাসুদের উপচেপড়া ভিড়

৭১ কণ্ঠ ডেস্ক

কোরবানির ঈদের পরও বেনাপোল চেকপোস্টে ভ্রমণ পিপাসুদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। হাজার হাজার বাংলাদেশি যাত্রী বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে যাচ্ছে। কেউ যাচ্ছে বেড়াতে, কেউ যাচ্ছে ডাক্তার দেখাতে, কেউ যাচ্ছে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে। এদের অধিকাংশই তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে যাচ্ছেন। অভিযোগে জানা গেছে, বেনাপোল আন্তর্জাতিক প্যাসেনজার টার্মিনালে যাত্রীদের লাইনে দাঁড়িয়ে কাস্টম ইমিগ্রেশন করার নিয়ম থাকলেও সংরক্ষিত এলাকায় বহিরাগতদের যানবাহন থাকায় যাত্রীরা প্রধান সড়কে দাঁড়িয়ে থাকছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে প্রতিদিন ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার পাসপোর্ট যাত্রী দুই দেশের মধ্যে চলাচল করে থাকে। অন্য সময়ের তুলনায় এখন দ্বিগুণের চেয়ে বেশি যাত্রী ভারতে যাচ্ছে। প্রতিদিন এ চেকপোস্ট দিয়ে পাঁচ হাজার থেকে ছয় হাজার পাসপোর্ট যাত্রী ভারতে যাচ্ছে। কেউ যাচ্ছে বেড়াতে, কেউ যাচ্ছে ডাক্তার দেখাতে, কেউবা যাচ্ছে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে। এদের অধিকাংশই তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে যাচ্ছেন।

৮ আগস্ট থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত এ চেকপোস্ট দিয়ে প্রায় ৯৫ হাজার যাত্রী ভারতে যাতায়াত করেছেন। ভারত থেকে এসেছে কম। তবে চলাচলে যাত্রীরা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। একজন পাসপোর্ট যাত্রীকে নো-ম্যান্স ল্যান্ডে পৌঁছাতে বাংলাদেশ সাইডে সাত জায়গায় লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। কোনো কোনো যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, আমরা লাইনে দাঁড়িয়ে আছি অথচ অর্থের বিনিময়ে লাইন ছাড়া প্যাসেনজার টার্মিনালে যাত্রী ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন থেকে পার হয়ে দুই দেশের নো-ম্যান্স ল্যান্ড এলাকায় আবারও বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। ভারতীয় গেটে ধীরগতিতে পাসপোর্ট চেকিং করায় নো-ম্যান্স ল্যান্ড এলাকায় দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে এ লাইন আরো বাড়তে থাকে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে এসব পাসপোর্ট যাত্রীদের ভারতীয় সীমান্তেও। রোদ-বৃষ্টি আর ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে যাত্রীরা। বিশেষ করে ছোটো বাচ্চা ও রোগীদের নিয়ে মহাবিপাকে পড়তে হচ্ছে তাদের।

বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার উত্তম চাকমা বলেন, বেনাপোল চেকপোস্টে যাত্রী সেবার মান বৃদ্ধি করা হয়েছে। কোনো যাত্রী যাতে হয়রানির শিকার না হয় তার জন্য আমরা তদারকি করছি। রোগী ও শিশুর সাথে থাকা যাত্রীদের লাইন ছাড়া প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

ইমিগ্রেশন পুলিশের ওসি আবুল বাশার জানান, অন্য সময়ের চেয়ে এখন দ্বিগুণ যাত্রী ভারতে যাচ্ছে। গত আট দিনে এ চেকপোস্ট দিয়ে প্রায় ৯৫ হাজার যাত্রী ভারতে যাতায়াত করেছে। রোগী ও বয়স্ক যাত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

Facebook Comments