বিশ্ব মঞ্চে আলো ছড়ানোর অপেক্ষায় সাইফউদ্দিন

আলোকিত সকাল ডেস্ক

ওদের হাতে বিশ্বকাপ মশাল। ওদের কাছে ১৬ কোটির প্রত্যাশা। ওরাই স্বপ্নের ধারক। ওরা বাংলার টাইগার। ওরা বাংলাদেশের বিশ্বকাপ স্বপ্নসারথি। ওদেরই একজন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ১৫ খেলোয়াড়কে নিয়ে প্রতিদিন লিখা প্রকাশ করছে রাইজিংবিডি’র ক্রীড়া বিভাগ। আজ পড়ুন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের গল্প, লিখেছেন আমিনুল ইসলাম।

বাংলাদেশের হয়ে যে সাতজন প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন তাদের একজন সাইফউদ্দিন। যিনি ভবিষ্যত সাকিব আল হাসান হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। তাইতো জাতীয় দলে তার জার্সি নম্বরও সাকিব আল হাসানের কাছাকাছি- ৭৪। বিশ্বকাপের সেরা একাদশে সুযোগ পেলে নিজেকে মেলে ধরবেন ফেনীর এই অলরাউন্ডার। ছড়াবেন আলো।

সাইফের জন্ম ১৯৯৬ সালে ফেনীর শিবপুরে। বাংলাদেশের অন্য দশজন তরুণ ক্রিকেটারের মতো সাইফেরও ছোটবেলা থেকে ক্রিকেটের প্রতি ঝোঁক ছিল। দিনমান ক্রিকেট নিয়েই পড়ে থাকতেন। ২০০৭ বিশ্বকাপের সময় তার বয়স ছিল ১১ বছর। মাশরাফি, তামিম, সাকিব, মুশফিক, আশরাফুলরা তাকে রীতিমতো মুগ্ধ করতো। এক যুগ পর সেই সাইফ-ই বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন বিশ্বকাপে। পাশে আছেন অনুপ্রেরণার উৎস মাশরাফি, তামিম, সাকিব ও মুশফিকরা। এতো স্বপ্নকেও হার মানানোর মতো ব্যাপার। কিন্তু এই স্বপ্নের পথটা অবশ্য খুব সহজ ছিল না।

২০০৯ সাল থেকে ফেনীতে স্কুল ক্রিকেট ও অনূর্ধ্ব-১৪ ক্রিকেট খেলেছেন সাইফ। ২০১৩ সালে তিনি বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলে সুযোগ পান। ২০১৪ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার অভিষেক হয়। ঘরোয়া ক্রিকেটে হয়ে ওঠেন নিয়মিত।

তার উত্থান মূলত ২০১৬ যুব বিশ্বকাপে। ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত সেই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ১৩ উইকেট নিয়েছিলেন। পাশাপাশি রানও করেছিলেন বেশ কিছু। এরপর ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ তথা বিপিএলে বল ও ব্যাট হাতে আলো ছড়ান।

তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দলে ডাক পান। ওই বছরের ৪ এপ্রিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কলম্বোতে হয়ে যায় তার অভিষেক। একই বছর অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কিম্বার্লিতে হয় ওয়ানডে অভিষেক। অবশ্য টি-টোয়েন্টি কিংবা ওয়ানডে অভিষেকে চমক দেখাতে পারেননি। টি-টোয়েন্টি অভিষেকে বল হাতে ৩ ওভারে ২৩ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য। আর ওয়ানডে অভিষেকে ৫ ওভার বল করে ৪৬ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য।

সেই থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে ৯টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। রান করেছেন ৯৪ (সর্বোচ্চ ২৯*)। উইকেট নিয়েছেন ৫টি (সেরা বোলিং ২/৫৩)। আর ওয়ানডে খেলেছেন ১২টি (১৭ মে, ২০১৯ পর্যন্ত)। ব্যাট হাতে করেছেন ১৭৫ রান। তার মধ্যে একটি হাফ সেঞ্চুরিও রয়েছে। বল হাতে উইকেট নিয়েছেন ১১টি। সেরা বোলিং ফিগার ৪৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট।

তবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার উইকেট সংখ্যা ৬০টি। এক ম্যাচে সেরা বোলিং ফিগার ১২১ রান দিয়ে ৭ উইকেট। আর এক ইনিংসে সেরা বোলিং ৪১ রান দিয়ে ৫ উইকেট। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে রান করেছেন ১ হাজার ২৫৬। একটি সেঞ্চুরির পাশাপাশি ৯ হাফ সেঞ্চুরিও রয়েছে তার।

২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজে সুযোগ পান। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচেই ইনজুরিতে পড়েন। এরপর আট মাস আর খেলা হয়নি তার। আটমাস পর ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ডাক পান। প্রথম ম্যাচেই ব্যাট হাতে ৫০ রান করেন। বল হাতে ৭ ওভারে ১ মেডেনসহ ২৯ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন। পরের ম্যাচেই ১০ ওভার বল করে ১ মেডেনসহ ৪৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। হন ম্যাচসেরা।

এরপর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডে তিন ম্যাচে ব্যাট হাতে ৪১, ০ ও ৪৪ রান করেন। বল হাতে অবশ্য সুবিধা করতে পারেননি। তবে বিপিএলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে শিরোপা জেতেন। আর আবাহনীর হয়ে ওয়ালটন ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের শিরোপা জিতেন। সেখানে বল ও ব্যাট হাতে অবদান রাখেন তিনি। তার পুরস্কার হিসেবে বিশ্বকাপের স্কোয়াডে জায়গা হয়েছে তার। এখন বিশ্বকাপকেই পাখির চোখ করেছেন তিনি। নিজের সেরাটা দিয়ে পাদপ্রদীপের আলো কেড়ে নিতে প্রস্তুত। তার লক্ষ্য বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ভালো খেলা।

ক্যারিয়ারের লক্ষ্য কমপক্ষে আরো ১০-১২ বছর ক্রিকেট খেলে যাওয়া। সাকিব আল হাসানের মতো হওয়া। অল্প বয়সেই বাবাকে হারানো সাইফ উদ্দিনের ক্রিকেটার হয়ে ওঠার পেছনে তার বড় ভাই কফিল উদ্দিনের অবদান সবচেয়ে বেশি।

আস/এসআইসু

Facebook Comments