বিদ্রোহী ইস্যুতে কৌশলী আওয়ামী লীগ

আলোকিত সকাল ডেস্ক

সম্প্রতি অনুষ্ঠেয় উপজেলা নির্বাচনে যারা আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তের বাহিরে অবস্থান নিয়েছিলেন সেই সব বিদ্রোহী প্রার্থীদের তালিকা তৈরি করেছে দলটি। তালিকা অনুযায়ী খুব শিগগির সাংগঠনিক ব্যবস্থা বা শাস্তির কথা জানানো হয়েছে সংগঠনটির পক্ষ থেকে। তবে এর আগে অভিযুক্তদের অভিযোগের বিষয়ে যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দলের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনকে সামনে রেখে দলের শৃঙ্খলা আরো জোরদার করতে এমন কৌশল হাতে নিয়েছেন দলটি।

দলীয় সূত্র বলছে, অভিযুক্তদের মধ্যে সরাসরি বহিষ্কার হবেন কেউ কেউ। অন্যদিকে, অপরাধ বিবেচনায় কারণ দর্শানোর নোটিশ পাবে একটি অংশ। জবাব সন্তোষজনক না হলে তারাও বহিষ্কার হবেন। তবে কেউ যেন মিথ্যা অভিযোগের বলি না হয়, সেজন্য সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

পাঁচ ধাপে শেষ হওয়া ৪৭৩টি উপজেলার নির্বাচনে ১৪৯টিতে চেয়ারম্যান পদে জিতেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এই স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ১৪০ জনই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে তাকে দলের বিদ্রোহী হিসেবে ধরে নেয় দলটি। অভিযুক্ত দুই শতাধিক নেতার মধ্যে খুলনায় ৪১ জন, রাজশাহীতে ২০ জন, সিলেটে ৩২ জন, রংপুরে ২৬ জন, বরিশালে ১৭ জন, ময়মনসিংহে ২০ জন, ঢাকায় ৪৫ জন এবং চট্টগ্রামে ১৭ জনের নামের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া বিদ্রোহীদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করার অপরাধে ৬২ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-এমপিদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে অভিযুক্তদের নানা অভিযোগ ক্ষতিয়ে দেখতে কাজ করছে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের নেতৃত্বে গঠিত আট বিভাগের আটটি টিম। এই টিম আগামী ২৭ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযোগ বিচার বিশ্লেষণ করবেন। পরবর্তীতে অপরাধ বিবেচনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী যেই হোক, তার বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নেবে দল। এরই মধ্যে আমরা অভিযোগগুলো সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেয়া শুরু করেছি। যদি অভিযুক্ত কেউ সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকও হয়, তিনিও শাস্তির আওতায় আসবেন। ২৭ তারিখ পর্যন্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখে ২৮ তারিখ থেকে সিদ্ধান্ত কার্যকরের দিকে যাব।

এদিকে আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারনী একটি সূত্র জানিয়েছে, ঢালাও ভাবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে না দল। তবে অপরাধ বিবেচনায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। গুরুতর অপরাধের জন্য কঠোর এবং লঘু অপরাধে জন্য স্বল্প শাস্তি দেয়া হবে। তবে শর্ত সাপেক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সাধারণ ক্ষমাও ঘোষণা করা হতে পারে। সেজন্য শোকজ নোটিশকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। আত্মপক্ষ সমর্থনে করে শোকজের উপযুক্ত জবাব দিবেন বা অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণ করতে পারবেন তাদের শাস্তি মওকুফ করা হবে।

এদিকে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সভা সূত্রে জানা গেছে, বিদ্রোহী বা তাতে সমর্থন জানানো নেতারা এবারে দলীয় সহানুভূতি পাচ্ছেন না। এ বিষয়ে দলের শীর্ষ পর্যায়ে কঠোর মনোভব রয়েছে। ভবিষ্যতে দলীয় মনোনয়নের বাইরে গিয়ে যাতে কেউ নির্বাচন না করে সেজন্য এবার দৃষ্টান্ত স্থাপন করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

আস/এসআইসু

Facebook Comments