বিক্ষোভে উত্তাল পাকিস্তান

আলোকিত সকাল ডেস্ক

ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে তথাকথিত ‘কালো দিবস’ পালন উপলক্ষে, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে পাকিস্তন। এসময় দেশটির বিভিন্ন শহরে আয়োজিত রাজনৈতিক সমাবেশ থেকে পাক প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের জোরাল দাবি তোলে বিরোধী দলগুলো।
ভিডিও লিংক: পাকিস্তানে চলমান বিক্ষোভের দৃশ্য- সূত্র: ইউটিউব (RUPTLY-এর সৌজন্যে)

শুক্রবার (২৬ জুলাই) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা ইয়াহু.কম প্রকাশিত সংবাদের তথ্য মতে, বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) দেশটিতে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ ২০১৮ সালের সাধারণ নির্বাচনের এক বছর পর, ইমরানের বিরুদ্ধে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ এনে বিরোধী দলগুলোর হাজার হাজার সমর্থক করাচী, পেশোয়ার, লাহোর, কোয়েটা এবং রাজধানী ইসলামাবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।
সমর্থকদের মাঝে মরিয়ম নওয়াজ- ছবি: ইন্টারনেট

বিরোধী দলগুলোর মধ্যে প্রধানত পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) এবং জামিয়াত উলেমা-ই-ইসলাম-ফজল (জেইআই-এফ) দুই রাজনৈতিক দলের নেতারা প্রাথমিকভাবে বক্তব্য রাখেন। সেখানে তারা ইমরানের খানের পদত্যাগ দাবি করেন।

দক্ষিণ-পশ্চিম শহর কোয়েট্টার একটি ফুটবল স্টেডিয়ামে হাজার হাজার সমর্থকদের উদ্দেশ্যে ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করার আহ্বান জানিয়ে পিএমএল-এন নেতা ও দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ তনয়া মরিয়ম নওয়াজ বলেন, ‘ইমরানের খানের উপস্থিতিতে প্রতিটা দিনই কালো দিন’। এসময় তিনি ওয়াশিংটন সফরের সময় মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘হুকুম’ গ্রহণের অভিযোগে খানকে অভিযুক্ত করেছেন এবং এর প্রতিবাদে নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ না করে ইসলামাবাদে একটি প্রতিবাদ মিছিল আয়োজনের প্রস্তাব করেছেন।

অপরদিকে দেশটির আরেক প্রধান বিরোধী দল ও আততয়ীর হাতে খুন হওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর পুত্র, পিপিপি-এর নেতা বিলওয়াল ভুট্টোর বক্তব্য শুনতে এদিন পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী করাচীতে হাজির হন পিপিপি-এর হাজার হাজার সমর্থক।
বিক্ষুব্ধ পাকিস্তান, ‘কালো দিবস’ উপলক্ষে করাচীর রাজপথে বিক্ষোভ- ছবি: ইন্টারনেট

এসময় বিভিন্ন ব্যানারে পিটিআই এর বিরুদ্ধে পাকিস্তানে ‘মূল্য বৃদ্ধি’, ‘মূল্যস্ফীতি’, ‘বেকারত্ব বৃদ্ধি’, ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ আনার’ উল্লেখ করে বিভিন্ন স্থানে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। লাহোর ও পেশোয়ারসহ অন্যান্য শহরে অনুরূপ প্রতিবাদ ছিল।

এদিকে ইমরানের ক্ষমতাসীন দল বিরোধী দলের এই প্রতিবাদকে প্রত্যাখান করেছে এবং পূর্ববর্তী সরকারগুলোকে ব্যাপক দুর্নীতি ও অর্থের অপব্যবহারের জন্য দোষারোপ করেছে। বিরোধী দলের নেতাদের দেশ থেকে অবৈধভাবে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার সরানোর দায়ে অর্থনৈতিক মন্দায় পড়েছে পাকিস্তান, এমন অভিযোগ আনেন ক্ষমতাসীন দল।

অপর দিকে, মরিয়ম নওয়াজ উপস্থিত হাজার হাজার জনতার কাছে জানতে চান, ‘যদি এই জাল সরকার, যারা ক্ষমতায় আসার জন্য ভোট চুরি করে, এটিকে চূড়ান্ত ধাক্কাটা দিতে, যদি … তাদের বিরুদ্ধে আমাদের ইসলামাবাদে যেতে হয়, বেলুচিস্তান কি তাহলে আমাদের সাথে যোগ দেবে?’

ইমরানের খানের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগে এনে গত বছর থেকেই নওয়াজ ও তার দল এক ধারাবাহিক জনবিক্ষোভের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। বৃহস্পতিবারকে (২৫ জুলাই) জাল ভোটের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বর্ষপূর্তী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
চলতি বছর পাকিস্তানের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত ‘অল পার্টিস কনফারেন্স’-এর একটি মুহূর্ত- ছবি: এপি’র সৌজন্যে

তবে, পাকিস্তানের একমাত্র ক্রিকেট বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দেশটিতে পিটিআই-এর নেতৃত্বে দুর্নীতি দমন অভিযান পরিচালনা করেন, যাতে দেশটির বিরোধী দলের অনেক নেতাই আটক হন।

এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ, তার ভাই শেহাবাজ, আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শহীদ খাকান আব্বাসি এবং অন্যান্য নেতাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। পাকিস্তানের অন্যান্য বিরোধী দলীয় নেতাও অভিযানে আটক হয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি বর্তমানে দুর্নীতির অভিযোগে জেলে রয়েছেন।

দেশটির বিরোধী দলগুলো ইমরানের খানকে দুর্নীতি দমন অভিযানের নামে রাজনৈতিক বিরোধীদের লক্ষ্যবস্তু বানানোয় অভিযুক্ত করেছে। যদিও পিটিআই বলছে, তারা পাকিস্তানের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে পরিষ্কার করছে।

II গণমাধ্যমের উপর ক্ষমতাসীনদের প্রভাবে ‘ব্ল্যাক আউট’

পাকিস্তানের স্থানীয় সংবাদ টেলিভিশন চ্যানেলে বেশ কিছু বিরোধীদলের প্রতিবাদ সরাসরি সম্প্রসারিত হলেও পিএমএল-এন নেতা মরিয়মের বিক্ষোভের বিষয়টি কোথাও দেখানো হয়নি। চলতি মাসের শুরুতে ফেডারেল মন্ত্রীসভার আদেশে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তাধীন বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদেরকে কভার করার ওপর নিষেদ্ধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলে জানা যায়।

পাকিস্তানে ‘বর্বর সেন্সরশিপ’ গ্রহণের বিষয়ে মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের সমালোচনা সেন্সর করা বা বিরোধী দলের ঘটনাগুলো কভারেজের বিষয়ে।

দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন, পিএমএল-এন এবং একটি ধর্মীয় ডানপন্থী দল জেইআই-এ-এর কয়েকশত সমর্থক প্রতিবাদ জানাতে শহরের প্রেস ক্লাবের বাইরে জড়ো হয়েছিল।

আস/এসআইসু

Facebook Comments