বাতি জ্বলবে কবে

আলোকিত সকাল ডেস্ক

মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার উদ্বোধনের পর পেরিয়ে গেছে ২ বছর। গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইওভারটির ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে রশি টানাটানি। অবশেষে গত বছরের নভেম্বরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) দায়িত্ব বুঝে নিলেও ফ্লাইওভারটির রক্ষণাবেক্ষণে কোনো ভূমিকা রাখেনি। ফ্লাইওভারে স্থাপিত বাতিগুলো জ্বলছে না।

বৈদ্যুতিক তার (ক্যাবল) ও বাক্স চুরি হয়ে যাওয়ায় রাতে অন্ধকার থাকছে ৮ দশমিক ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ফ্লাইওভার। এ কারণে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দায়িত্ব গ্রহণের চিঠি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের টেবিলেই পড়ে রয়েছে।

রক্ষণাবেক্ষণ ও লাইট লাগানোর জন্য পিপিপি তৈরি করা হলেও তার কোনো অগ্রগতি নেই। দুই সিটি করপোরেশনের সূত্র জানায়, ফ্লাইওভারটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাস্তবায়ন করেছে। তবে এর কাজের মান নিয়ে বেশ কয়েকবার প্রশ্ন ওঠে। এমনকি নির্মাণ ব্যয়ও বাড়ানো হয় কয়েকবার।

৮ দশমিক ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভার ২০১৭ সালের উদ্বোধনের সময়ে লাইটপোস্টের বাতি জ্বললেও বর্তমানে সবগুলো অকেজো। ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাতরাস্তা-মগবাজার-হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল অংশের উদ্বোধন করেন। পরে ১৫ সেপ্টেম্বর ইস্কাটন-মৌচাক অংশের যান চলাচল উদ্বোধন করেন তৎকালীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

১৭ মে ২০১৭, খুলে দেওয়া হয় ফ্লাইওভারটির এফডিসি মোড় থেকে সোনারগাঁও হোটেল পর্যন্ত কারওয়ানবাজারমুখী অংশ। মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারে চারশতাধিক লাইটপোস্ট রয়েছে। বর্তমানে এর একটিও আর জ্বলে না। অবশ্য উদ্বোধনের পর কিছুদিন বাতিগুলো আলো দেয়। লাইটপোস্ট লাগানোর দায়িত্ব ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ছিল। তা ছিল খুবই নিম্নমানের। ফলে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বেশিরভাগ অকেজো হয়ে যায়।

নিরাপত্তার ব্যবস্থা না থাকায় তার-বাল্ব চুরি করে নিয়ে যায় মাদকসেবীরা। এর পর দীর্ঘদিন ধরেই অন্ধকারে ডুবে আছে পুরো ফ্লাইওভার। নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান, বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা এলজিইডি, রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন কেউই ফ্লাইওভারের দেখভালের দায়িত্বে ছিল না দীর্ঘদিন। তবে গত বছরের নভেম্বরে এলজিইডি থেকে দায়িত্ব বুঝে নেয় ডিএসসিসি।

কীভাবে ফ্লাইওভার চলবে সে জন্য সিটি করপোরেশনের ১৬ ইঞ্জিনিয়ারকে ট্রেনিংও দেওয়া হয় বুয়েট থেকে। এর পর সংশ্লিষ্টরা এ নিয়ে আর কোনো কাজ করেননি। বাতি লাগানো, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখাসহ কোনো কাজেই হাত দেননি তারা। এমনকি ফ্লাইওভারে আলোকোজ্জ্বল করার বাতির জন্য পিপিপি তৈরি করা হলেও এ বিষয়েও আর কোনো অগ্রগতি নেই।

সরেজমিন রাতে ফ্লাইওভারের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা যায় তেজগাঁও সাতরাস্তা থেকে রমনা থানা (পুরাতন) পর্যন্ত একটি লাইটপোস্টেও আলো জ্বলে না। চৌধুরীপাড়ার আবুল হোটেল থেকে শান্তিনগর বাজার এবং রাজারবাগ পুলিশ লাইন পর্যন্ত ফ্লাইওভারের একটি বাতিও সচল নেই। এমনকি গভীর রাতে এই অংশে বিরাজ করে ভুতুড়ে পরিবেশ। মৌচাক থেকে বাংলামোটর পর্যন্ত ফ্লাইওভারের বাতিগুলোরও একই অবস্থা।

ইস্কাটন থেকে মগবাজার ওয়্যারলেস গেটে নামার মুখেও অন্ধকার। সরেজমিন দেখা যায়, সন্ধ্যা হলেই ফ্লাইওভারের ওপরে মোটরসাইকেল নিয়ে আড্ডা শুরু হয়। রাতে দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেলের সঙ্গে চলন্ত প্রাইভেটকারের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। যানবাহনের আলোয় কিছুটা সময় আলোর বিচ্ছুরণ ঘটলেও ভোরের আলো ফোটার আগ পর্যন্ত আলো-আঁধারের খেলায় মেতে থাকে উড়াল সড়কটি।

ফ্লাইওভারের কোনো কোনো উঁচু অংশে আশপাশের বাড়ির আলোর দেখাও মিলে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উদ্বোধনের সময় সব বাতিই সচল ছিল। এর পর ক্রমান্বয়ে সব বাতিই অকেজো হয়ে যায় নজরদারির অভাবে। এভাবে চলতে থাকলে কয়েক মাস পর বাতির স্ট্যান্ডগুলোও পাওয়া যাবে না। এ জন্য সঠিক নজরদারির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

এ বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ফ্লাইওভারটির দায়িত্ব বুঝে পেয়েছি। এর রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে। বাতি লাগানোর প্রক্রিয়াও চলমান।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box