বাজারে পাওয়া হাওরের মাছ মধ্যবিত্তদের ইচ্ছা হলেও সামর্থ্য নেই খাওয়ার

আহম্মদ কবির তাহিরপুর হতে

সুনামগঞ্জ তাহিরপুর ঐতিহ্য বাহী দেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট মা মাছের অভয়ারণ্যে টাংগুয়া হাওরের অধিকাংশ ছোটকাট বিল নদীনালা এখন দূষণের শিকার।টাংগুয়ার হাওরের নদী-খাল, হাওর-বিলে প্লাস্টিকের তৈরী মাছ ধরার উপকরণ ধারা মৎস্য আহরণে, হাওরের পানির নিচে পড়ে থাকা প্লাস্টিক মাছের আশ্রয়স্থল হুমকির মুখে এবং টাংগুয়ার হাওরে ভ্রমণকারীদের অনিয়ম তান্ত্রিক ভ্রমণে, ভ্রমণকারীদের বর্জ্য, এছাড়াও চুনাপাথর ও কয়লা পরিবহনকারী ইঞ্জিনচালিত নৌকা জাহাজের ব্যবহার্য জ্বালানি তেলের বর্জ্য নিক্ষেপে পানিকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে।

একইভাবে টাংগুয়ার হাওরের চারিদিকে কৃষি জমিতে অধিক ফলনের আশায় অধিক হারে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ প্রয়োগ করায় টাংগুয়ার হাওরের জীববৈচিত্র এখন হুমকির মুখে।বিশেষ করে টাংগুয়ার হাওরে অপরিকল্পিত হাওর ব্যবস্থাপনার ফলে নির্বিচারে মৎস্য আহরণ ও বনজঙ্গল উজাড় করে দেওয়ায়। হাওরের মাছের অবস্থান, প্রজনন, বিচারণ ক্রমশ হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।যার ফলে দেশীয় প্রজাতির মাছ ধীরে ধীরে হারানোর পথে । এ ধারা যদি নিয়মিত অব্যাহত থাকে,তাহলে ‘মাছে ভাতে বাঙালি’বলে শতবছরের যে প্রবাদটি রয়েছে, তা হাওর পারের জনগোষ্ঠী একদিন গল্পের মত মনে করবে । নিশ্চয় এটি কারও কাম্য হতে পারে না।

স্থানীয় সুশীল সমাজ প্রতিনিধিরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনায় নিয়ে দ্রুতই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া দাবী জানান ।তারা বলেন এসব হাওর অঞ্চলের মানুষ বিভিন্ন ভাবে একমাত্র ফসলের ক্ষয়ক্ষতি লেগেই আছে, শেষ সম্বল মাছও হারালে -এই হাওর পাড়ের জনগোষ্ঠীর বাঁচবার শেষ আশ্রয় কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।

স্থানীয় এক মুরব্বি আলাপচারিতার মাধ্যমে জানা যায়, টাংগুয়ার হাওরের প্রায় অধিকাংশ বিল-নদী, খাল ও জলাশয় প্রভৃতি ক্রমাগত ভরাট ও -দূষণ ও হাওরের চারিদিকের বনজঙ্গল প্রায় উজাড় হয়ে যাওয়ায়।বাপ-দাদাদের কাছে শোনা আবার নিজের দেখা দেশি কৈ, মাগুর, শিং, পাবদা, টেংরা, সরপুঁটি, মলা, ঢেলা, চেলা, শৌল, বোয়াল, আইড়, ভ্যাদা, বোড়াল, বাইম, খলিসা, ফলি,বাচা, গারোয়া,গজার,কালিবাউশ,চেং,টাকি,চিতল,রুই, কাতল,পোয়া, বালিয়া, কাকিলাসহ প্রায় ৫১ প্রজাতির মাছ এখন ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে। আগে গ্রামে পৌষ-মাঘ মাসে নদী, খাল, ডোবা, থেকে দেশি মাছ ধরার ধুম পড়ত।

শীতকাল ছাড়া বর্ষাকালে বাড়ির আঙ্গিনায় বড়শি ও চাঁই পেতে মাছ ধরার রীতিও হারিয়ে গেছে অনেক এলাকা থেকে। যারা এক সময় নদী খাল-বিল, ডোবা-নালায় মাছ ধরে পরিবারের চাহিদা পূরণ করতেন তাদের অনেকেই এখন বাজার থেকে চাষের মাছ কিনতে বাধ্য।হাটবাজারে মাঝে মধ্যে দেশীয় প্রজাতির যে মাছগুলো দেখা যায় তা মধ্যবিত্তদের কাছে উটের মাংসের মতো হয়ে গেছে। ইচ্ছে থাকলেও সামর্থ্য নেই খাওয়ার, বাধ্য হয়ে পুকুরে চাষকৃত মাছে নিয়ে মাছের চাহিদা মেটাচ্ছে হাওর পাড়ের মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠী। তাই তাদের দেশীয় মাছ খাওয়ার বাসনাটা থেকেই যায়।

স্থানীয় একাধিক ব্যাক্তির তথ্যমতে জানাযায় টাংগুয়ার হাওরের নদ-নদী, দিয়ে কয়লা চুনাপাথর পরিবহনকারী ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও জাহাজের জ্বালানি বর্জ্য নিক্ষেপে মাছের বিচরণ, প্রজনন, অবস্থান হুমকির মুখে পড়ছে।

এর সঙ্গে যুক্ত টাংগুয়ার হাওরে অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার ফলে টাংগুয়ার হাওরে অবাধে কোনাজাল,কারেন্ট জাল ও প্লাস্টিকের তৈরী মাছ ধরার উপকরণ ব্যবহার, হাওরের মাছের অভয়াশ্রমে নেই কোন কাটা বাঁশ, এবং হাওরের চারিদিকে ফসলি জমিতে অপরিকল্পিত কীটনাশক ব্যবহার, জলাশয় দূষণ, হাওর খালবিল ও নদীতে নাব্য হ্রাস, হাওরে মাছের চলাচলের পথে বাঁধ নির্মাণ, সংশ্লিষ্ট খাল-বিলের গভীরতা কমে যাওয়া, ডোবা ও জলাশয় ভরাট হয়ে মা মাছের আবাসস্থলের অভাব, মা মাছের ডিম ছাড়ার আগেই ধরে পেলা।অবাধে হাওর বিলে বিভিন্ন প্রজাতির পোনামাছ নিধন।

টাংগুয়ার হাওর কেন্দ্রীয় সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড এর প্রতিনিধিদের কাছে জানতে চাইলে উনারা বলেন, আমরা প্রশাসনের কর্মকর্তাগনের শরণাপন্ন হয়ে বিষয়টি অবগত করবো এবং টাংগুয়ার হাওর এলাকায় মাইকিং করে টাংগুয়ার হাওরে প্লাস্টিকের তৈরী মাছ ধরার সরঞ্জাম বন্ধের প্রচারণা চালানোর জন্য আমাদের সভায় একটি সিদ্ধান্ত এনেছি যাহা অচিরেই বাস্তবায়িত করব।

আস/এসআইসু

Facebook Comments