বাঁশখালীতে ছোট বাচ্চাদের ঝগড়াকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৩৫

নিজস্ব সংবাদদাতা

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছাড়া ইউনিয়নে ফোরকানিয়া মাদ্রাসায় পড়তে গিয়ে পড়া শেষে বাসায় ফিরার পথে দুই সহপাঠী সোহেল ও নাঈনের ঝগড়ার ঘটনার জের ধরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছে। গত সোমবার (২৪ জুন) দুপুরে বাঁশখালী উপজেলার পশ্চিম বাহারছড়া গ্রামের ১নং ওয়ার্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহতবস্থায় আহত দের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসলে, তার মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশংকা জনক হওয়াতে তাদের কে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। অনন্য আহত রা বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে গিয়ে স্থানীয় সৃত্রে জানতে পারি ওই এলাকার মৃত বদি আহমদের পুত্র আনছার ও আবদুল মতলবের পুত্র আশরফ পক্ষের সাথে এলাকার মৃত হাজী সিরাজুল ইসলামের পুত্র হাজী রেজাউল করিম পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে জানান।

দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহতরা হলেন- করিম( ৩২) সুমন (৩৫) সাবের (৪৫) জাকের (৪০) নাসির( ৪৫) তামিম (১৬) সৈয়দ( ৩০) আজগর( ৩৩) মিজান (৩০) আনোয়ার (২৮) বক্কর (২৫)জেবল হোসেন (৪৪) আব্দুস সবুর( ৪০) মতলব (৪২) হাসিনা আক্তার (৩৫), সিরাজুল ইসলাম (৩০), নুর আহামদ (৪০),মোঃ ফরিদ (৪৫),মোঃ জসিম (৩৬),মোঃ ফোরকান (৩০), মোঃ শাহ আলম (৪৫), নবী হোসেন (৫০), জহির আহমদ (৫২), আবদুল করিম (৪২), আবু রশীদ (৩৫), পারভেজ (১৮) মোঃ ওসমান (৪০), আবদুল মালেক (৪৬), জাহেদুল ইসলাম (২৩),মোঃ সোলাইমান (৩৮), আবদুর রশীদ (৩০) মৌলভী ফজল কাদের (৪৬), মোরশেদা বেগম (৩২),আবু আহমদ (৬০), সৈয়দ মিয়া (৪৬)সহ আহত হয়েছেন অন্তত ৩৫ জন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন আগে স্থানীয় দেওয়ানজী জামে মসজিদ ফোরকানিয়া মাদ্রাসার ছাত্র আবদুল মালেকের ছেলে সোহেল ও জেবুল হোসেনের ছেলে নাঈম এর মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। এরই রেশ ধরে সোমবার দুপুরে দুপক্ষের লোকজনের মাঝে প্রথমে উত্তেজনা ও পরে তা সংঘর্ষে রূপ ধারণ করে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের লোকজন দা, কিরিচ, লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করে বলে জানা যায়।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে গিয়ে নাঈমের ভাই ইকবালের সাথে কথা বলে তিনি বলেন আমার ভাই নাঈম( ৬) যখন মাদ্রাসা থেকে পড়া শেষ করে বাড়ী আসার পথে হঠাৎ করে সোহেল (১০) আমার ভাই নাঈমকে মারধর করলে নাঈম বাড়ি এসে মা কে সেই বিষয় টি জানান,পরে মা নাঈমকে সাথে নিয়ে সোহেলের বাসায় তার বাবা-মাকে এই বিষয়টি জানালে উল্টো আমার মাকে সোহেলর বাবা মা গালমন্দসহ গায়ে হাত তোলে, পরে এই বিষটি জানাতে পেয়ে, সায়মা হোসেন সোহেলর বাড়িতে গিয়ে তার মাকে কেন গালমন্দ ও গায়ে হাত তোলা হলো জানতে চাইলে হঠাৎ করে কোথায় হতে প্রায় ১৮ – ২০ জন মিলে সায়মা হোসেনকে মেরে রক্তাক্ত করে তারাই প্রথমে হামলা করেছে বলে জানান ইকবাল।

আহত হাজী রেজাউল করিম জানান, ছেলেদের ঝগড়াকে কেন্দ্র করে বিনা উস্কানিতে আনছার ও আশরাফের নেতৃত্বে বসতঘরসহ আমাদের উপর হামলা চালায়।

পরে সাবেক মেম্বার গিয়াস উদ্দিন সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এলাকার কিছু বখাটে ও মাদক সেবীর নেতৃত্বে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে হাজী রেজাউল করিম পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। অপরপক্ষের ও বেস কয় জন আহত হয়েছে বলে জানান, কথার শেষ মূহুর্তে গিয়াস উদ্দিন ও বলেন আনছার বাহিনী লোকেরা প্রথমে হামলা করেছে বলে জানান তিনি। এই ব্যয়াপারে বাঁশখালী থানার ওসি মো. রেজাউল করিম মজুমদার জানান, বাহারছড়ায় সংঘর্ষের খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে এখনো কোন পক্ষ থানায় অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box