বন্যা কবলিত অঞ্চলে পণ্যমূল্য বাড়ছে

আলোকিত সকাল ডেস্ক

বকশীগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে নৌকা ভাড়া, গ্যাসের দাম, গ্যাস চুলার দাম, শুকনা খাবার, মাছ ধরার জাল প্রভৃতি পণ্যের দাম পাঁচ/ছয় গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে চিড়া ও মুড়ির তীব্র সংকট। কাঁচামালের দাম আকাশ ছোঁয়া।

বানের পানিতে ডুবে গেছে বকশীগঞ্জ উপজেলার ৯৫ ভাগ অঞ্চল। প্রায় দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। স্থায়ী-অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। গবাদি পশুসহ বানেভাসা মানুষ পানির সঙ্গে বেঁচে থাকার লড়াই করছে। বকশীগঞ্জ উপজেলায় লাশ দাফনের জায়গা নেই। ফলে লাশ বানের পানিতে ভাসিয়ে দিচ্ছে। অনেকেই প্রতিবেশী বন্যামুক্ত শ্রীবরদী উপজেলায় লাশ দাফন করছে।

বন্যাকে কেন্দ্র করে বকশীগঞ্জে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিস ও খাদ্যসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় নৌকার ভাড়া আট থেকে ১০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাড়িঘর বানের পানিতে ডুবে যাওয়ায় সাংসারিক মালামাল ও গবাদি পশু নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কাজে নৌকা ছাড়া বিকল্প যানবাহন নেই। তাই এই সুযোগে নৌকার অতিরিক্ত ভাড়া হাতিয়ে নিচ্ছে নৌকার মালিকরা।

মাদারের চরের আব্দুল খালেক জানান, দুইটি গরুসহ আধা কিলোমিটার নৌপথ অতিক্রম করতে আমার কাছে নৌকা ভাড়া নিয়েছে ১ হাজার টাকা। অতিরিক্ত নৌকা ভাড়ার কারণে হয়রানির শিকার হচ্ছেন অনেক বানভাসি মানুষ। অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ নিয়ে যেতেও বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছে বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি।

বাড়িঘর পানিতে ডুবে যাওয়ায় রান্নাবান্নার কাজে এলপিজি গ্যাস ও গ্যাসের চুলার চাহিদা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। লাকড়ির চুলা ব্যবহারের সুযোগ না থাকায় গ্যাস ও গ্যাসের চুলা কেনার জন্য মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। তাই আগের তুলনায় দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।

কলকীহরা গ্রামের কামাল জানান, গ্যাসের দাম আগের তুলনায় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিটি চুলার দাম বেড়েছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা।

শুকনা খাবার বিশেষ করে মুড়ি ও চিড়ার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজার থেকে মুড়ি ও চিড়া উধাও হয়ে গেছে। চাহিদার তুলনায় বাজারে মুড়ি ও চিড়া পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন ইচ্ছা থাকলেও বনার্তদের সাহায্যার্থে এগিয়ে যেতে পারছে না।

সেখেরচর গ্রামের আঙ্গুর মিয়া জানান, বাজারে চিড়া ও মুড়ি পাওয়া যাচ্ছে না। দুই দিন আগে মুড়ির ও চিড়ার বায়না দিয়ে অপেক্ষা করছি। পাওয়ার পরেই বন্যাকবলিত এলাকায় নিয়ে যাব। বাজারে চাল, ডাল ও কাঁচা শাকসবজির দাম চড়া।

বকশীগঞ্জ উপজেলায় প্রায় তিন হাজার পুকুর রয়েছে। সবগুলো পুকুরের মাছ বানের পানিতে ভেসে গেছে। তার পরেও পুকুরের মাছ আটকানোর জন্য পুকুর মালিকরা মাছ ধারার জাল ব্যবহার করছে। তাই জালের চাহিদার পাশাপাশি পূর্বের তুলনায় জালের দামও বেড়েছে পাঁচ থেকে ছয়গুণ।

খেওয়ারচর গ্রামের পুকুর মালিক জানান, সুবহান আলী জানান, পুকুরে ছেড়ে দেওয়া মাছ সংরক্ষণ করার বর্তমান ব্যবস্থা জালের উপর নির্ভরশীল। তাই বাজারে জালের চাহিদা বহুগুণ বেড়ে গেছে। কিন্তু দাম নিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছে পুকুর মালিক ও মাছ চাষিরা।

এ ব্যাপারে বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, উপজেলা প্রশাসন বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্বিক বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে। জনসাধারণের ভোগান্তি লাঘবে প্রশাসন সব সময় তত্পর।

আস/এসআইসু

Facebook Comments