বন্ধুকে নিয়ে শিক্ষক ধর্ষণ করল ছাত্রী

আলোকিত সকাল ডেস্ক

বন্ধুকে সাথে নিয়ে ছাত্রীকে ধর্ষণ করলো শিক্ষক। এতে মেয়েটি দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। এ ঘৃণ্য ঘটনা ঘটেছে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায়। শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাবনায় ধর্ষণের শিকার ৬ষ্ঠ শ্রেণির স্কুলছাত্রী ৫ মাসের গর্ভবতী হয়ে হাসপাতালে কাতরাচ্ছে। এছাড়া সাভারে পোশাক শ্রমিক, হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে প্রথম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এদিকে, মাগুরার শালিখায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণ ও গর্ভের বাচ্চা নষ্ট করার অভিযোগে ১ জনসহ বিভিন্নস্থানে ৪ জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক স্কুল শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম বাপ্পা সেন। তিনি উপজেলার সৈয়দপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক। গত শুক্রবার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে মেয়ের বাবা বাদী হয়ে জগন্নাথপুর থানায় নারী ও শিশু নিয়াতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় দুইজনকে আসামি করা হয়।

পুলিশ ও মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা স্থানীয় বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর (১৩) সঙ্গে পার্শবর্তী সৈয়দপুর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বাপ্পা সেনের সঙ্গে প্রেমের সর্ম্পক ছিল। গত মার্চ মাসে মেয়েটিকে বেড়ানোর কথা বলে বাপ্পা সেন বিদ্যালয় থেকে জেলার ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সামাদের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে বাপ্পা ও তার বন্ধু সামাদ মিলে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে মেয়েটি দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে মেয়েটি তার পরিবারকে ধর্ষণের বিষয়টি জানায়। জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতেয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। গতকাল আসামিকে সুনামগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করা হবে।

পাবনা : পাবনার ভাঙ্গুড়ায় মজনু (৪০) নামের ৪ সন্তানের জনকের বিরুদ্ধে ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১২) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ধর্ষণের শিকার ওই মেয়েটি এখন ৫ মাসের গর্ভবতী। মেয়েটিকে মুমূর্ষু অবস্থায় পাবনার ভাঙ্গুড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযুক্ত মজনু ভাঙ্গুড়া উপজেলার পাটুলিয়াপাড়া গ্রামের নুরুজ্জামান মাস্টারের ছেলে।

স্বজনরা জানান, ৫ মাস আগে এক সন্ধ্যায় মজনু তার বাড়ির পাশের ওই মেয়েটিকে বাড়িতে একা পেয়ে ধর্ষণ করেন এবং এ ঘটনা কারও কাছে প্রকাশ করলে তাকে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেয়। এ কারণে মেয়েটি ভয়ে বিষয়টি চেপে যায়। কিন্তু এরই মধ্যে মেয়েটি গর্ভবতী হয়ে পড়ে এবং গত বুধবার তাকে গুরুতর অবস্থায় ভাঙ্গুড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ধর্ষিতার স্বজনরা আরও জানান, ধর্ষক মজনু ৪ সন্তানের জনক এবং লম্পট প্রকৃতির। গত শুক্রবার বিকেলে মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে মজনুর বিরুদ্ধে থানায় ধর্ষণের মামলা করেন।

সাভার (ঢাকা) : নারী শ্রমিককে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করেছেন ওই ভুক্তভোগী। গত শুক্রবার দুপুরে সাভার মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি দায়ের করা হয়। এঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ধর্ষক মো. হাফিজুর রহমানকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত হাফিজুর রহমান নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার হাসানপুর গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মলয় কুমার সাহা জানান, ভুক্তভোগী নারী থানায় মামলা দায়ের করলে ধর্ষক হাফিজুর রহমানকে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে।

হবিগঞ্জ : হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় প্রথম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে অষ্টম শ্রেণিপড়ুয়া এক কিশোর। ঘটনার পর কিশোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার বিদ্যুৎ বর্মা (১৫) উপজেলার উমরপুর গ্রামের বিনোদ বর্মার ছেলে। গত শুক্রবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বর্মাকে কারাগারে পাঠানো হয়। বিদ্যুৎ বর্মা একই উপজেলার কাদিরগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটিকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে সে। পাশাপাশি ধর্ষণের শিকার শিশুকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য গত শুক্রবার রাতে সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে বানিয়াচং থানায় মামলা করেছেন।

মাগুরা : মাগুরার শালিখায় পঞ্চম শ্রেণির স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও গর্ভের বাচ্চা নষ্ট করার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় আব্দুল মান্নান (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার (২৫ মে) দুপুরে মাগুরা সদরের একটি গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত আব্দুল মান্নান উপজেলার হাজরাহাটি গ্রামের আরজন মোল্লার ছেলে।

শালিখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, আব্দুল মান্নান পাঁচ-ছয় মাস আগে প্রতিবেশী পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রীকে ফুসলিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় তিনি ঘটনা কাউকে জানালে তাকে মেরে ফেলার ভয় দেখান। যে কারণে মেয়েটি ভয়ে বিষয়টি প্রকাশ করেনি।
সম্প্রতি, ওই স্কুল ছাত্রীর অস্বাভাবিক শরীরিক গঠন দেখে তার পরিবার পেটে টিউমার হয়েছে মনে করে তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায়। এরপর চিকিৎসক জানান, ওই ছাত্রী পাঁচ মাসের গর্ভবতী। বিষয়টি জানাজানি হলে আব্দুল মান্নান বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে আব্দুল মান্নান তার লোকদের দিয়ে মেয়েটিকে ভাল ডাক্তার দেখানোর কথা বলে মাগুরায় একটি ক্লিনিকে নিয়ে তার পেটের বাচ্চা নষ্ট করে। ওসি বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত আব্দুল মান্নান পুলিশের কাছে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।’

আস/এসআইসু

Facebook Comments