ফেসবুকে গুজবের পোষ্ট শেয়ার দেয়া থেকে সাবধান

আলোকিত সকাল ডেস্ক

সম্প্রতি বাংলাদেশে মেলেছে গুজবের ডালপালা। গুজবের বলি হয়ে ৬ জনকে প্রাণ দিতে হয়েছে। এছাড়া গুজব ছড়িয়ে সন্দেহের বশে আহত করা হয়েছে অনেককে। তাই গুজব প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার।

জানা গেছ, সোমবার গুজব রোধে সারা দেশের পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিন পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক চিঠিতে সারা দেশের পুলিশের ইউনিটকে এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, গণপিটুনি দিয়ে হত্যা এবং গুজব ছড়িয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করা ফৌজদারি অপরাধ।

চিঠিতে ছেলেধরার গুজব বন্ধ করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব এবং ব্লগগুলো নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ছেলেধরা সংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর পোস্ট দিলে বা শেয়ার করলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, গুজব ছড়ানোর দায়ে এখন পর্যন্ত মোট ১০৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি থাকা মাস্টারমাইন্ডদের গ্রেফতারে চলছে সাঁড়াশি অভিযান। এছাড়া গুজব ছড়ানোর সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে ইতোমধ্যেই ৬০টি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, ২৫টি ইউটিউটব অ্যাকাউন্ট ও ১০টি অনলাইন পোর্টাল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

কেউ ফেসবুকে গুজব ছড়ালেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে গুজব সৃষ্টির মাধ্যমে কতগুলো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটছে। ঘটনাগুলো কারো কাছে কাম্য নয়। সবগুলো নিছক গুজব, এগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে গণপিটুনির মতো ঘটনা ঘটাবে তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, যারা বিবেচনা না করে আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে, যারা গণপিটুনিতে অংশ নিচ্ছেন, তাদের একজন বা এক শ’ জনও যদি এমন ঘটনা ঘটান, শাস্তি একই রকম হবে। এই ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটলে আমরা দোষীদের অবশ্যই আইনের মুখোমুখি করব। আইন অনুযায়ী তাকে শাস্তি পেতেই হবে।

এদিকে, গুজবের বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করা হচ্ছে। এছাড়া বাজার, ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে সভা-সমাবেশ চলছে।

অন্যদিকে, আজ শুক্রবার (২৬ জুলাই) জুমার নামাজের আগে দেশের বিভিন্ন মসজিদের ইমামরা গুজবের বিষয়ে কথা বলেছেন। তারা গুজবের বিষয়ে মুসল্লিদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গুজবের বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে ইতোমধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদরাসা ও ধমীয় প্রতিষ্ঠানে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে প্রচারণা চালানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

জানা যায়, প্রায় দেড় মাস আগ থেকেই দেশে গুজব ছড়ানোর কাজটি চলছিল। পদ্মা সেতু নিয়েই গুজবটি ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। পদ্মা সেতুর গুজবের অবসানের পর ছেলেধরার গুজব ছড়িয়ে দেয়া হয়। এসব গুজবের বলি হয়ে প্রাণ গেল ৬ জনের।

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল সুপরিকল্পিতভাবে দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে এ ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে। এ সংক্রান্ত প্রথম যে পোস্টটি আমাদের নজরে আসে সেটি ছিল দুবাই থেকে। দুবাইয়ের এক ব্যক্তি এই পোস্টটি করেন।

তিনি আরও বলেন, গুজব ও গণপিটুনির ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩১টি মামলা হয়েছে। গুজবের ঘটনায় এ পর্যন্ত যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের কয়েকজনের সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলের লিংক পেয়েছি। জড়িতদের প্রোফাইল তৈরির কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। আমরা অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছি। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে ভিকটিম না হয়, সে বিষয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি। পুলিশ যেকোন প্রয়োজনে আপনাদের সঙ্গে থাকবে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments