ফেলে রাখা বর্জ্য ও জমা পানিতে মশার বিস্তার!

৭১ কণ্ঠ ডেস্ক

দেশব্যাপী ডেঙ্গু জ্বরের রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গাইবান্ধা জেলাতেও এই রোগে আক্রান্ত সংখ্যা বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। এ কারণে সরকারি কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাইবান্ধা জেলায় সপ্তাহব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং মশক নিধনের ব্যাপক অভিযান পরিচালিত হয়। কিন্তু সে প্রভাব গাইবান্ধা সদর আধুনিক হাসপাতালে পড়েনি। ফলে গাইবান্ধা সদর আধুনিক হাসপাতাল চত্বরের চারদিকে ফেলে রাখা বর্জ্য, ড্রেন ও চত্বরের নিচু জায়গায় জমে থাকা পানি এবং রোগীদের ব্যবহূত শৌচাগারের দুর্গন্ধে টেকা দায় হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেই জেলার বিভিন্ন এলাকার নানা রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এছাড়া ঘটছে মশার বিস্তার।

গতকাল শনিবার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, হাসপাতালটির সামনে রোগীদের জন্য ওয়াল ঘেঁষে ড্রেনসংলগ্ন যে টিউবওয়েলটি বসানো হয়েছে। তার গোড়ায় রয়েছে জমানো পানি ও চারপাশে জমেছে বর্জ্যের পাহাড়। অন্যদিকে হাসপাতালের গেটের সামনের জায়গাটি নিচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই সেখানে পানি জমে। এছাড়া হাসপাতালের সামনে একটি পানির ফোয়ারা আছে। কিন্তু সেটি দীর্ঘদিন থেকে অচল হয়ে পড়ে আছে। ফলে তাতেও সারাক্ষণ পানি জমে থাকে। এ সব জমানো পানি ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে ব্যাপকহারে মশার বিস্তার ঘটাচ্ছে। এই হাসপাতালে ভর্তি রোগীকে দেখতে আসা গাইবান্ধা শহরের মধ্যপাড়া ফেরদৌস জুয়েল জানান, শুধু হাসপাতালের ভিতরেই নয়, বাইরে দেখেন ড্রেন, চত্বর করিডোর সবখানে নোংরা পরিবেশ। এছাড়া ওয়ার্ডগুলোতে শৌচাগারের দুর্গন্ধে থাকা যায় না। তারপরও বাধ্য হয়ে এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেই জেলার বিভিন্ন এলাকার নানা রোগে আক্রান্ত রোগীদের এখানে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

গাইবান্ধা জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মিহির ঘোষ জানান, এমন অবস্থা চলতে থাকলে এই হাসপাতালটি ডেঙ্গু রোগের বাহক এডিস মশার বংশ বৃদ্ধি এবং অন্যতম লালন ক্ষেত্রে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মাহফুজার রহমান জানান, পৌরসভার মূল ড্রেন আবর্জনায় ভরে ওঠায়; হাসপাতালের ড্রেনের পানি বের করে দেওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া প্রয়োজনীয় সংখ্যক পরিচ্ছন্নতা কর্মী না থাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কিছুটা ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে। এসব বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চেষ্টা অব্যাহত আছে।

Facebook Comments