ফের দুস্থদের পাশে পূর্ণিমা-মম

আলোকিত সকাল ডেস্ক

অভিনয়ের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কর্মকান্ডে অংশ নিয়ে মাঝে মাঝেই আলোচনায় আসেন চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা এবং লাক্স তারকাখ্যাত অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম। সেই ধারাবাহিকতায় এবার অসহায়, দুস্থ ও এতিম-প্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়িয়ে আবারও প্রশংসা কুড়ালেন এই দুই তারকা। শুক্রবার আলাদা আলাদাভাবে এমন দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন তারা।

জানা গেছে, শুক্রবার রাজধানীর উত্তরার ১১ নং সেক্টরের মসজিদের পাশে প্রায় ত্রিশজন অসহায় এতিম, প্রতিবন্ধী নিয়ে ইফতার করেছেন জাকিয়া বারী মম। ইফতার শেষে নিজ অর্থায়নে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন তিনি। তাদের সঙ্গে বেশ খানিকটা সময় অতিবাহিত করার পাশাপাশি তাদের সবার মধ্যে ঈদ উপহার বিতরণ করেন এ অভিনেত্রী। এই সময় মমকে পাশে পেয়ে সবাই ছিল বেশ উচ্ছ্বসিত এবং আনন্দিত।

সেদিন উত্তরাতেই হাবিব শাকিলের ‘মাধবীলতা’ নাটকের শুটিং করছিলেন মম। তার এমন একটি কাজের প্রতি সাধুবাদ জানিয়ে নির্মাতা হাবিব শাকিল শুটিংয়ে বিরতি দিয়ে মমকে অনেকটা সময়ের জন্য ছেড়ে দেন। তাতে মম অনেকটাই মানসিক প্রশান্তি নিয়ে এতিম-প্রতিবন্ধীদের সঙ্গে নিজের মতো করে সময় কাটাতে পারেন। ‘স্বপ্নডানা’ নামক একটি সংগঠনের সহযোগিতায় মম এতিম, প্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়াতে পেরেছিলেন।

জাকিয়া বারী মম বলেন, ‘সত্যি বলতে কী আমি তো অতি সাধারণ একজন শিল্পী, সাধারণ একজন মানুষ। কিন্তু আমার সব সময়ই ইচ্ছে করে সাধারণ মানুষের জন্য কিছু করতে, অসহায় এতিম-প্রতিবন্ধীদের জন্য কিছু করতে। আমাদের শিল্পীদের মধ্যে আমি অনেককেই অনেক সময় তাদের পাশে দাঁড়াতে দেখেছি। দেখেছি শুধু দেশেই নয়, দেশের বাইরেও বিশ্বব্যাপী অসহায় এতিম প্রতিবন্ধী শিশুদের পাশে দাঁড়িয়েছেন আমাদের দেশের গর্ব শ্রদ্ধেয় ববিতা আপা। তার এই বিষয়টিও আমাকে অনেক অনুপ্রেরণা দেয়। আমারও সব সময় ইচ্ছে করে তাদের পাশে দাঁড়াতে। আমার যদি অনেক অর্থ থাকত, তাহলে হয়তো সমাজের সব অসহায় এতিম প্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়াতাম। তাদের আর কোনো কষ্ট থাকত না। তারপরও তাদের জন্য আমি যতটুকুই করতে পেরেছি, সেটাই আমার জন্য অনেক ভালো লাগার, আনন্দের। আমি কৃতজ্ঞ স্বপ্নডানার কাছে, কারণ তারা আমাকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে নিজে থেকেই।’ এদিকে আগামী ঈদে অনেক নাটক টেলিফিল্মে দেখা যাবে মমকে।

 

একইদিনে চিত্রনায়িকা পূর্ণিমাকে দেখা গেছে বৃদ্ধাশ্রমে অসহায় বৃদ্ধদের পাশে দাঁড়াতে। শুক্রবার রাজধানীর উত্তরার উত্তরখান এলাকার মৈনারটেক জিয়াবাগ বৈকাল স্কুলের পাশে অবস্থিত ‘আপন নিবাস বৃদ্ধাশ্রম’। সেখানে বর্তমানে পঞ্চাশেরও বেশি বৃদ্ধ মা ও বেশ কিছু প্রতিবন্ধী রয়েছেন। তাদের সঙ্গে সময় কাটাতে গিয়েছিলেন পূর্ণিমা। বয়স্ক অসহায় মানুষগুলোর মুখে হাসি ফুটিয়ে এসেছেন তিনি। তাকে কাছে পেয়ে খুশিতে মন ভরেছে তাদের। পূর্ণিমা বৃদ্ধাশ্রম ঘুরে এসে সেখানকার বেশ কিছু ছবিও পোস্ট করেছেন নিজের ফেসবুক পেইজে।

পূর্ণিমা বলেন, ‘আমি বৃদ্ধাশ্রমের মানুষগুলোর সঙ্গে একবেলা খাবার খেয়েছি, তাদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছি। সেখানে গিয়ে আমার ভীষণ ভালো লেগেছে। বৃদ্ধাশ্রমটিতে প্রায় পঞ্চাশজনের মতো বৃদ্ধ রয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকের বয়সই একশর বেশি। এছাড়া কিছু যুবতী রয়েছে। রয়েছে কিছু প্রতিবন্ধী, যারা চোখে দেখতে পায় না। আমার কাছে এটা ভালো লেগেছে যে তারা একটি নির্ভরযোগ্য স্থানে আছে, যেখানে তারা সঠিক যত্নটা পাচ্ছে।’

পূর্ণিমা আরও বলেন, ‘তাদের সঙ্গে সময়টা কাটিয়ে এবং একবেলা খাওয়াতে পেরে অনেক ভালো লেগেছে। শান্তি অনুভব করছি। আমার মতো করে আপনারা যারা আছেন সবাই আসুন, তাদের সঙ্গে সময় কাটান একবেলা। সবাইকে অনুরোধ করব তাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর জন্য।’

আপন নিবাস বৃদ্ধাশ্রমটির নির্বাহী প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সৈয়দা সেলিনা শেলী বলেন, আমাদের এই বৃদ্ধাশ্রমে এসেছিলেন সবার প্রিয়মুখ পূর্ণিমা। অসম্ভব ভালো মনের মানুষ তিনি। মায়েদের জন্য খাবার এনেছেন, গল্প করেছেন, গান করেছেন আর অফুরন্ত ভালোবাসা দিয়েছেন। দিনটির কথা আমাদের মা এবং ছোট প্রতিবন্ধী বোনেরা কখনোই ভুলবে না।

আস/এসআইসু

Facebook Comments