ফি বাড়ানোর প্রস্তাব নাকচ, সহজলভ্য থাকছে স্মার্টকার্ড

আলোকিত সকাল ডেস্ক

নষ্ট বা হারানো জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তুলতে আর গুণতে হবে না বাড়তি অর্থ। ‘কাগুজে’ এনআইডি হারিয়ে বা নষ্ট হলে তার পরিবর্তে নাগরিকদের স্মার্টকার্ড দেয়ার আড়ালে বাড়তি অর্থ আদায়ের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিবন্ধন অনুবিভাগ।

নিবন্ধন অনুবিভাগের ডিজি ও স্মাটকার্ড প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, ২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা তৈরির পর থেকে ইসির এনআইডি অনুবিভাগ নাগরিকদের মধ্যে বিনামূল্যে কাগুজে পরিচয়পত্র বিতরণ করে আসছিল। পরে ২০১৫ সালে এসে ইসি হারানো বা নষ্ট জাতীয় পরিচয়পত্র পুনঃইস্যুর জন্য নামমাত্র ফি নির্ধারণ করে দেয়। এ বছর এসে ইসির কাছে হারানো বা নষ্ট পরিচয়পত্র পুনঃইস্যুর ফি বাড়ানোর প্রস্তাব করে নিবন্ধন অনুবিভাগ। যুক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়, নাগরিকদের মধ্যে কাগুজে পরিচয়পত্রের বদলে স্মার্টকার্ড দেয়ার উদ্যোগকে। নতুন প্রস্তাবে নষ্ট বা হারানো এনআইডি তুলতে নাগরিকদের কাছ থেকে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকার মধ্যে যে কোনও অঙ্কের ফি আদায়ের প্রস্তাব করা হয়েছিল। প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, ‘‘নতুন ফি নির্ধারণের পর থেকে কাগুজে মুদ্রিত লেমিনেটেড কার্ডের পরিবর্তে নাগরিকরা স্মার্টকার্ড পাবেন। কার্ড হারালে, নষ্ট হলে এমনকি সংশোধনেও এই বিধানটি কার্যকর হবে।’’

ইসির সভায় এ যুক্তিও তুলে ধরা হয়, বর্তমানে একটি সাধারণ লেমিনেটেড কার্ড ভুলের কারণে সংশোধনের প্রয়োজন হলে গ্রাহকরা কত টাকা ফি দেন তা উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, ‘‘লেমিনেটেড কার্ড সংশোধনের পর নতুন আরেকটি কার্ড পেতে গ্রাহককে প্রথম সংশোধনে ২০০ টাকা, দ্বিতীয় বার ৩০০ টাকা এবং তৃতীয়বার বা পরবর্তী সময়ে যতবার এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হবেন তাকে প্রতিবারে দিতে হয় ৪০০ টাকা।’’

লেমিনেটেড কার্ডের নিয়মের আলোকে স্মার্টকার্ডের ফি বা চার্জ যথাক্রমে ৫০০ টাকা, ৭৫০ টাকা ও ১ হাজার টাকা করা প্রস্তাব করা হয়। বর্তমানে নষ্ট বা হারানো এনআইডি পেতে ব্যাংকিং চার্জ ও ভ্যাটসহ সাধারণভাবে ব্যয় হয় ২৬৬ টাকা। এর মধ্যে ইসির নির্ধারিত ফি ২০০ টাকা। আর জরুরিভিত্তিতে তা পেতে ফি দিতে হয় ৩৬৫ টাকা (ইসির নির্ধারিত ফি ৩০০ টাকা, বাকিটা ব্যাংকিং চার্জ/ভ্যাট)।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইসি নিবন্ধন অনুবিভাগের ফি বাড়ানোর প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে। এ বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত করে নিবন্ধন অনুবিভাগের ডিজি ও স্মাটকার্ড প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম। তিনি দৈনিক জাগরণকে বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র পুনঃইস্যু করার ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়নি। নাগরিকরা আগের নির্ধারিত ফি পরিশোধ করেই হারানো বা নষ্ট বা সংশোধিত কার্ড পাবেন। কাগুজে লেমিনেটেড কার্ডের পরিবর্তে স্মার্টকার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রেও বাড়তি অর্থের প্রয়োজন হবে না। স্বয়ংক্রিয়ভাবেই নাগরিকদের হাতে ধাপে ধাপে স্মার্টকার্ড পৌঁছে যাবে।

দেশে বর্তমানে ১০ কোটি ৪২ লাখ ভোটারের তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে ইসির তথ্যভাণ্ডারে। বর্তমানে যে লেমিনেটিং করা ম্যানুয়াল কার্ড দেয়া হয়, তার মেয়াদ ১৫ বছর। তবে চলমান স্মার্টকার্ডের মেয়াদ ১০ বছর। ফলে আগামী ১০ বছর পর এই কার্ড নবায়ন করতে হবে সবাইকে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box