ফাগুন আমাদের অহংকার, এ দেশে কেউ নিরাপদ নয়

আলোকিত সকাল ডেস্ক

সাংবাদিক ইহসান ইবনে রেজা ফাগুন ২১ মে ঢাকা থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে খুন হন। ঘটনার পর ১০ দিন পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত হত্যা মামলার তেমন কোনো অগ্রগতি দিতে পারেনি পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, শুরু থেকেই অবহেলা করছে পুলিশ।

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাসকাওয়াথ আহসান বলেছেন, একজন তরুণ সম্ভাবনাময় সাংবাদিক খুন হলেও সাংবাদিকদের মধ্যে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া নেই, প্রতিবাদ নেই। তারা রয়েছেন নিজেদের আখের গোছাতে। তবে ছেলেকে নিয়ে লিখেছেন ফাগুনের বাবা জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক কাকন রেজা। বেশ কয়েকটি লেখা প্রকাশিত হয়েছে সংবাদমাধ্যমে।

আমার ছেলে খুন হয়েছে, আপনারা কি নিরাপদ? শিরোনামে ২৯ মে দৈনিক প্রথম আলোর অনলাইনে একটি লেখা প্রকাশিত হয়েছে, লিখেছেন কাকন রেজা।

লেখাটি পড়ে অনেকেই তাদের মতামত ব্যক্ত করেছেন। সেখান থেকে কয়েকজনের মন্তব্য তুলে ধরা হলো-

আমিরুল আলম খান লিখেছেন,

ফাগুন মারা যায়নি; ফাগুন আমাদের অহংকার। এমন ফাগুন যদি জন্ম নিত ঘরে ঘরে তাহলে দেশের এই হাল হতো না। আপনার মতো সন্তানহারা আজ দেশের অগণিত মানুষ।

এই মৃত্যু উপত্যকায় কে কতক্ষণ নিরাপদ? একমুহূর্ত এ দেশে কেউ নিরাপদ নয়।

কাকে দুষব? নিজেকে ছাড়া? ঘরে ঘরে ফাগুন জন্ম নেয়নি; কিন্তু ঘরে ঘরে তোষামদকারীর অভাব নেই। যখন একটি দেশের ছাত্র শিক্ষক, স্নগবাদিক পুলিশ, প্রশাসক, ব্যবসায়ী, বিচারক তোষামদে মত্ত হয়, তখন কারো সন্তান, কোনো আদম সন্তানই আর নিরাপদ থাকে না।

সংবাদ সম্মেলনে সেমিনারে টকশোতে বাজারে অফিসে-আদালতে সাংবাদিক, শিক্ষক, উকিল, ব্যবসায়ী, রাজনীতিক, বিচারকদের যে কুৎসিত রূপ দেখি, তখন মনে হয় না এ দেশে কোনো মানুষের বিবেক বলে আর কিছু অবশিষ্ট আছে।

এই সত্য উপলব্ধি করার ক্ষমতাও আমরা হারিয়ে ফেলেছি। এমন বিবেকহীন এমন নির্লিপ্ত এমন বশংবদ সমাজ এ দেশে অতীতে কখনও ছিল না। ছিল না এমন দুর্নীতিবাজ, লুটেরা, হন্তারকের এমন নিরাপদ আবাসভূমি।

এখানে এখন তারুণ্য নির্জীব, ইয়াবাঘুমে অসাড়, যৌবন বীর্যহীন, কাপুরুষত্ব এদের পরিচয়। আজ বাংলার দামাল ছেলেরা মৃত।

কোথায় আশ্রয় খুঁজব? কার কাছে বিচার চাইব? কে শোনাবে জাগরণের সে অভয়বাণী? এ মৃত্যু উপত্যকা শুধুই শ্মশাণ, এখানে এখন মাংসগন্ধে মুগ্ধ শ্মশাণের প্রান্তচরাদের উল্লাস ধ্বনী।

কী সান্ত্বনা দেবো? না, কোনো সান্ত্বনা দেবার ভাষা আমাদের জানা নেই। আছে শুধু এক নিরুদ্দেশ যাত্রা!

তার পরেও গাইব, ‘চলে যেতে যেতে রাত বলে যায়, আঁধারের পর দিন আসে।’

অর্ণব ভট্টাচার্য লিখেছেন,

এটি খুবই দুঃখজনক ও হৃদয় বিদারক। আপনাকে সান্ত্বনা দেওয়ার কোনো ভাষা আমার জানা নেই। ন্যায় বিচারের অপেক্ষায় আছি।

পার্থ নামের একজন লিখেছেন,

আমি মনে করি, এমন ঘটনার জন্য পুরো সাংবাদিক সমাজ দায়ী। তারা ধারাবাহিকভাবে অন্যায় নিয়ে উচ্চকণ্ঠ হয়নি এবং জাতীয় পর্যায়ের অন্যায়-অনিয়ম নিয়ে নোংরা চর্চা করছে। এমনকি তারা অনেক সত্যও লুকাতে সহযোগিতা করেছে। ফলে এখন দেশ ও মানুষকে ভুগতে হচ্ছে।

আতাউর লিখেছেন,

জনাব রেজা, আপনাকে সান্তনা দেবার ভাষা জানা নেই। আমরা সত্যিই মৃত্যু উপত্যকায় আছি। সেটা কার জন্য, কে কীভাবে সৃষ্টি করেছে, সে আলোচনায় যাব না। তবে এটা শুধু মৃত্যু উপত্যকা নয়। এখানে হন্তারকরূপে জানোয়ারেরা বাস করে। যাদের কাছে ছোট-বড়, নিষ্পাপ-ফুলের মতন বলে কিছু নেই…। প্রশ্ন একটাই, অ্যা বিলিয়ন ডলার কোয়েশ্চেন, এই মৃত্যু উপত্যকা পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে আরো ফাগুনের লাশ দরকার? আরো কত ফাগুনের লাশ পড়লে আমরা জাগবো? শেষ পর্যন্ত লাশ হয়ে পড়ার মতো ফাগুন কি অবশিষ্ট থাকবে তো?

মোরশেদুল ইসলাম লিখেছেন,

হত্যাকারীর বিচার চাই। বিচার হোক প্রতিটি অন্যায়ের, প্রতিটি গুম আর খুনের।

মাহফুজা বুলবুল লিখেছেন,

আপনার ২১ বছরের যে সন্তান তার পেশায় নির্ভীক থেকে যেভাবে কাজ করে গেছে, আজকের এই দুর্দিনে সত্যই তা দুর্লভ।

সুবীর চৌধুরী লিখেছেন,

অপরাধীর কাছে কেহ নিরাপদ না। যারা অপরাধীকে সাপোর্ট করে তারাও নিরাপদ না। সমাজে যারা অপরাধীকে সাপোর্ট করে তারা কি একটাবার চিন্তা করে না যে, তারা যখন অপরাধের শিকার হয় তখন তারা কোন নৈতিক ভিত্তিতে সমাজ থেকে ন্যায় বিচার চায়? একজন আমার জায়গার ওপর ভোর রাতে বেড়া দিলো, সেই লোকটাকে সমাজের মানুষ সাপোর্ট করছে। আইনকে সে কিনে ফেলছে।

দীপক নামে একজন লিখেছেন,

এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।

মাসুদ রানা লিখেছেন,

এটা একটা অপরাধ। এখন বেশিরভাগ অপরাধের সাজা হয় না। সরকারের ব্যর্থতা।

এর আগে গত আমি নিহত সাংবাদিক ফাগুন রেজার পিতা বলছি শিরোনামে ২৬ মে প্রিয়.কমে কাকন রেজার একটি লেখা প্রকাশ হয়। লেখাটি পড়ে অনেকে তাদের মতামত জানিয়েছেন।

আজাদ নোমান লিখেছেন,

সাগর-রুনি, তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী, ফাগুন রেজা, আদনান খাসেগি, এভাবেই চলছে তামাম দুনিয়াজুড়ে সাংবাদিক হনন। আমরা সাংবাদিক নেতাদের হাস্যলাস্যময় বচনামৃত শ্রবণ করি রাষ্ট্রীয়ভোজন সভায়।

এম এ রানা হামিদ লিখেছেন,

আজ সাংবাদিক সমাজ ঘুমের ঘোরে নিমজ্জিত। তারা আর নিরপেক্ষ নেই। তারা আজ কোনো-না-কোনো দলের এজেন্ট। যার কারণে সত্য কথা বলতে আজ তারা ভুলে গেছে। অবশ্য সবাই না। দুএকজন যারা আছে, তারা ফাগুনের মতো নির্মম মৃত্যুর কোলে…

আর কত? হে সাংবাদিক বন্ধুগণ আপনারা আর চুপ করে বসে থাকিয়েন না। আপনারা আওয়াজ তুললেই বন্ধ হবে সকল অপকর্ম।

দিগন্ত সৌরভ লিখেছেন,

পরিকল্পিত এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই। ফাগুনের সকল খুনিদের কঠিক শাস্তির আওতায় আনা হোক।

আতোয়ার হোসেন লিখেছেন,

আমরা তো এই লেখাটাও পড়তে পারি না। আমরা তো উন্নয়নের সংবাদ লিখতে লিখতে ব্যস্ত হয়ে পড়ছি।

তারিফ জাফরী লিখেছেন,

সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে এই নির্মম হত্যার সাথে জড়িত নরপিচাষদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

আস/এসআইসু

Facebook Comments