ফাঁকা শহরে ঈদের আমেজ

আলোকিত সকাল ডেস্ক

ঈদের বাকি আর দুইদিন। নাড়ির টানে প্রিয়জনের সান্নিধ্যে ঈদ করার জন্য গন্তব্যে ছুটছেন অনেকেই। ঈদের আগে কর্মদিবস আছে আর মাত্র একটি, তাই ধারণা করা হচ্ছে, আজ সোমবার অফিস ছুটির পর বাড়ি ফেরার ঢল নামবে। এরইমধ্যে ফাঁকা হতে শুরু করেছে ঢাকা। রাজধানীর মার্কেট এলাকা ছাড়া তেমন কোনও ভিড় দেখা যাচ্ছে না। এছাড়া, ঈদের এই আমেজে যুক্ত হয়েছে আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা। মেঘলা আকাশ আর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ঈদের এই ছুটির আমেজকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আবহাওয়া অফিস বলছে, থেমে থেমে এই বৃষ্টি থাকবে আরও কয়েকদিন।

রাজধানীর ব্যস্ত এলাকাগুলো ঘুরে অনেকটাই ফাঁকা দেখা গেছে। এরমধ্যে রয়েছে কাওরান বাজার, এয়ারপোর্ট রোড, শাহবাগ, ফার্মগেট, মিরপুর রোড ও কলাবাগান। এসব রাস্তায় অন্যান্য দিনের তুলনায় অপেক্ষাকৃত যানবাহন কম এবং সাধারণ মানুষেরও তেমন কোনও জটলা দেখা যায়নি। তবে কিছুটা ভিড় দেখা যায়, বাস টার্মিনালে ও মার্কেটগুলোতে। সিএনজিচালক জাকিরও জানালেন একই কথা। তিনি বলেন, ‘রাস্তা মোটামুটি ফাঁকা। এয়ারপোর্ট থেইক্কা শাহবাগ আসছি ২৫ মিনিটের মতো লাগছে।’

রাস্তা ফাঁকা হওয়ার কথা জানালেন বাসচালকও। শাহবাগ থেকে উত্তরাগামী বাসের চালক সেলিম বলেন, ‘ভিআইপি রোড পুরোটাই ফাঁকা। রাস্তা ফাঁকা থাকলে ট্রিপ মারতে সুবিধা। বেশি ট্রিপ মারা যায়। আবার সমস্যাও আছে, যেমন যাত্রী থাকে না। আজকে যেমন গাড়িও কম, রাস্তায় যাত্রীও কম। অনেকে বৃষ্টির জন্য বাইর হয় নাই’।

দুপুরের পর থেকে বৃষ্টি বন্ধ হওয়ায় বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন অনেকে। তবে সেটা শপিং কিংবা নিতান্ত প্রয়োজনে। কাটাবনের বাসিন্দা তৌফিক সারাদিন বাসায় ছিলেন। বৃষ্টি থামার পর পরিবার নিয়ে বের হয়েছেন শপিংয়ে। এলিফ্যান্ট রোডেই যাবেন তারা, তিনি বলেন, সকাল থেকে বৃষ্টি। আবার আজকে অফিসও ছুটি। তাই সরাদিন বাসায় ছিলাম। এখন পরিবারের জন্য কিছু কেনাকাটার প্রয়োজনে একটু এলিফ্যান্ট রোডের দিকে যাচ্ছি। রাস্তাও দেখলাম মোটামুটি বেশ ফাঁকা। একদম ঈদ ঈদ ভাব চলে আসছে।

জেসমিন রহমানের বাসা মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডের কাছে। মেয়ের শ্বশুরবাড়ি আগারগাঁওয়ে। গতকাল রোববার সেখানে গিয়ে মেয়েকে নিয়ে ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে কেনাকাটা করতে যান। সব মিলিয়ে এই পথটুকু চলতে তাঁর আধা ঘণ্টার একটু বেশি সময় লেগেছে। জেসমিন বলেন, অন্য সময় এই পথ যেতে দুই ঘণ্টার বেশি লেগে যেত। রমজান মাসে সেটা আরও বেড়ে গিয়েছিল। তবে গতকাল ঢাকার রাস্তাগুলো ছিল ফাঁকা।

ঈদে স্বজনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানীর বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ গ্রামে যায়। তাই ঈদের সময়টাতে ঢাকায় যানজটের ধকল বা বেশি মানুষের চাপ থেকে কিছুটা নিস্তার মেলে। ঘরমুখী কয়েকজন যাত্রী বলেন, গত শুক্রবার থেকে নয় দিনের ঈদের ছুটি শুরু হয়ে গেছে। গতকাল ছিল পবিত্র শবে কদরের ছুটি। তাই মাঝে সোমবার এক দিন ছুটি নিয়ে অনেকে গ্রামের পানে ছুটছেন।

ঢাকার বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করা কয়েকজন বলেন, রমজানের শুরু থেকেই যে অসহনীয় যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল, তা এখন আর নেই। গন্তব্যে পৌঁছাতে আগের চেয়ে কম সময় লাগছে।

রাজধানীর যে এলাকাগুলোয় সবচেয়ে বেশি যানজট থাকে, এর মধ্যে মিরপুর অন্যতম। শুধু কাজীপাড়া থেকে ১০ নম্বর গোলচত্বর পার হতেই ঘণ্টাখানেক লেগে যেত। এই পথ এখন মিনিট দশের মধ্যেই পার হওয়া যায়। আজিমপুর থেকে উত্তরা রুটে চলাচলকারী বাস মিরপুর লিংকের চালক মোহাম্মদ খলিলুল্লাহ বলেন, এখন আর রাস্তায় যানজট নেই। রাস্তা ফাঁকা হয়ে গেছে। তবে ঈদ চলাকালে গাড়ির সংখ্যাও কিছুটা কমে যাবে বলে জানান তিনি।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, গত শনিবার থেকেই শুরু হয়েছে বৃষ্টি, গতকাল রোববারও সকাল থেকে একনাগাড়ে দুপুর পর্যন্ত চলছে। থেমে থেমে আগামী বেশ কয়েকদিন বৃষ্টি চলবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। চলতি সপ্তাহেই বর্ষা মৌসুমের ভারী বৃষ্টি শুরু হয়ে যেতে পারে বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ভারী বৃষ্টির কারণে নদীবন্দরে দুই নম্বর হুঁশিয়ারি সঙ্কেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর।

এ বিষয়ে আবহাওয়াবিদ কেএম নাজমুল হক বলেন, লঘুচাপের প্রভাবে এই বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে এটি থেমে যাবে। তবে আগামী দুদিন এর প্রভাবে থেমে থেমে বৃষ্টি হতে পারে। সাধারণত মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে যে বৃষ্টি হয় সেটি দীর্ঘক্ষণ হয়। চলতি সপ্তাহে দেশের উপক‚লে মৌসুমি বায়ু চলে আসার কথা। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে বর্ষা মৌসুমের আবির্ভাব ঘটবে। কমে যাবে তাপমাত্রাও।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box