প্রস্তাবিত বাজেট বিনিয়োগবান্ধব : প্রধানমন্ত্রী

আলোকিত সকাল ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেট ব্যবসা-বাণিজ্য সহায়ক ও বিনিয়োগবান্ধব। আগামী বছর শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের ৯৩ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ৩ কোটি নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। কৃষি খাতের উন্নয়নে ২০ শতাংশ প্রণোদনা এবং পোশাক খাতে নগদ প্রণোদনাসহ সব ধরনের সুবিধা অব্যাহত থাকবে।

শুক্রবার (১৪ জুন) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। বিকাল ৩টার দিকে সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়। নিয়ম অনুযায়ী অর্থমন্ত্রীর এ সংবাদ সম্মেলন করার কথা। তবে তিনি অসুস্থ হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সংবাদ সম্মেলনে বাজেট বিষয়ে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।

প্রসঙ্গত, অর্থমন্ত্রী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। বৃহস্পতিবার বাজেট পেশ করার জন্য হাসপাতাল থেকে তিনি সরাসরি জাতীয় সংসদে যান। বাজেট উপস্থাপনের সময়ও তিনি অসুস্থ ছিলেন। এমনকী বাজেট বক্তব্য কিছুটা পড়ে বাকিটা পড়ার জন্য একটু সময় নেন। কিন্তু অসুস্থতার কারণে পরে আর তিনি বাজেট বক্তৃতা শেষ করতে পারেননি। পরে অর্থমন্ত্রীর হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে বাজেট পেশ করেন।

সংবাদ সম্মেলন শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঞ্চে ডেকে নেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে। এ ছাড়াও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশী, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ হুমায়ুন, এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া মঞ্চে রয়েছেন।

অর্থসচিব আব্দুর রউফ তালুকদার সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন। শুরুতেই তিনি জানান, অসুস্থতার কারণে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল উপস্থিত হতে পারেননি। তিনি অর্থমন্ত্রীর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

পরে অর্থসচিব বলেন, অসুস্থতার কারণে অর্থমন্ত্রী গতকাল (বৃহ্স্পতিবার) বাজেট বক্তৃতা শেষ করতে পারেননি। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাজেট বক্তৃতা শেষ করেন। এটি বাংলাদেশের সংসদে একটি নজিরবিহীন ঘটনা।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) বিকালে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। মূল বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১৮ দশমিক ১ শতাংশ।

এবারের বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১১ শতাংশ। এনবিআর বর্হিভূত রাজস্ব আয় ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৫ শতাংশ। আরকর বহির্ভূত রাজস্ব আয় ৩৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। এটি জিডিপির ১ দশমিক ৩ শতাংশ।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box