পৌর নির্বাচনে প্রচারণায় এগিয়ে মেয়র প্রার্থী আলমগীর হোসেন

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুরের রামগতি পৌরসভা নির্বাচন আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারী (রোববার) ইলেট্রিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) এর মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ৭ জন পৌর মেয়র পদপ্রার্থী ভোটারদের ধারপ্রান্তে গিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তারা। তবে নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণা ও জনপ্রিয়তায় অন্যান্য প্রার্থীর থেকে এগিয়ে রয়েছেন জাতীয় পাটির মনোনীত প্রার্থী লাঙ্গল প্রতীকের মো. আলমগীর হোসেন। নির্বাচনে জয়ী হলে পৌরবাসীর জন্য বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের কথা জানান তিনি।

প্রায় ৩০ বছর রাজনৈতিক জীবনে সাধারণ জনগণের উপকার কাজ করেছেন ৫৫ বছর বয়সী এ ব্যক্তি। দীর্ঘ এ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এবং বিগত দিনের উন্নয়নকে কাজে লাগিয়ে ভোটারদের আস্থা অর্জন করে যাচ্ছেন তিনি।

আলমগীর হোসেন ১৯৯০ সালে রামগতি উপজেলা জাতীয় পার্টির প্রচার সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। এর পর থেকে সাংগঠনিক বিভিন্ন পদের দায়িত্ব পালন করে বর্তমানে উপজেলা জাতীয় পাাির্টর সদস্য সচিব এবং জাতীয় মৎস্যজীবি পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির জনসংখ্যা বিষয়ক সদস্যের দায়িত্বে রয়েছেন।

পৌর এলাকার নদীভাঙা ভূমিহীন এবং গৃহহীনদের পুর্নবাসন করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রামগতি এলাকায় নদী ভাঙ্গ কবলিত এলাকা। বিগত দিনে আমি রামগতির অসহায় দারিদ্র, ভূমিহীন, ছিন্নমূল ও নদী ভাঙ্গা মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।’ জানান, উপজেলার আলেকজান্ডার এলাকা যখল নদী ভাঙ্গনের মূখে পড়েছে- ওই সময় লক্ষ্মীপুর-২ আসনের জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য মো. নোমানের মাধ্যমে তৎকালীন পানি সম্পদ মন্ত্রী আনিছুল ইসলাম মাহমুদ এর দারস্ত হন তিনি। মন্ত্রী ভাঙন কবলিত এলাকা পরির্দশন করে দুইশ’ কোটি টাকা ব্যয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণের ব্যবস্থা করেন। সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল্যাহ আল মামুনের সার্বিক সহযেগীতায় বাঁধটি নির্মাণের ফলে ভাঙ্গ থেকে রক্ষা পেয়েছে উপজেলা পরিষদসহ আলেকন্ডার এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সরকারী-বেসরকারী স্থাপনাসহ বাসিন্দাদের বসতবাড়ি।

নির্বাচনী ইশতেহারে তিনি আরও উল্লেখ করেন, পৌর মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হতে পারলে পৌরকর সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা, রিক্সা এবং অটোরিক্সার ট্যাক্স শিথিল করা, মুসলমানদের জন্য লিল্লাহ কবরস্থান এবং হিন্দুদের জন্য শশান, পৌর এলাকার উন্নমূলক বরাদ্দে সরকারী নীতিমালা মোতাবেক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন, পৌর এলাকার সকল সড়কে বৈদ্যুতিক লাইটিং এর ব্যবস্থা, অনুন্নত রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় স্থানে পুল ও কালভার্ট নির্মাণ, আধুনিক বাস-ট্রাক টার্মিনাল ও যাত্রীছাউনি নির্মাণ, প্রতিটি এলাকায় সুপেয় পানির ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা নিরসন ও পয়: নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় শৌচাগার এবং পৌর আধুনিক মার্কেট নির্মাণ করা হবে। একই সাথে পৌর এলাকার বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধীদের ভাতা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমি যে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি- মেয়র নির্বাচিত হলে এগুলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।’
নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘সুষ্টুভাবে নির্বাচন হলে আমি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবো। ভোটাররা যেন কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারে সে পরিবেশ সৃষ্টির জন্য আমি প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানাই। নির্বাচনে প্রচারণা চালাতে গিয়ে প্রতিদ্বন্ধী নৌকা প্রতীকের কর্মীদের বাঁধার সম্মূখীন হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।’

Facebook Comments