পেঁয়াজের বাম্পার ফলনেও হাসি নেই কৃষকের

৭১কণ্ঠ ডকটম
অনুকূল আবহাওয়া আর কঠোর পরিচর্যায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয় ঢাকার প্রতিবেশী জেলা মানিকগঞ্জে। প্রতি বছরের মতো এবারো পেঁয়াজ চাষে ব্যস্ত সময় পার করছে মানিকগঞ্জের কৃষকরা। জেলার সাতটি উপজেলাতেই বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষাবাদ হয় পেঁয়াজের। তবে ঘিওর, হরিরামপুর, শিবালয় এবং সাটুরিয়া উপজেলায় পেঁয়াজের চাষ হয় সবচেয়ে বেশি।
ঘিওরসহ মানিকগঞ্জে চলতি বছরে মুড়ি কাটা পেঁয়াজের (সাগা) বাম্পার ফলন হলেও হাসি নেই কৃষকের মুখে। পেঁয়াজ চাষিরা বলছেন, গত বছর উপজেলায় পাইকারি বাজারে প্রতি মণ পেঁয়াজ এক হাজার ৮০০ থেকে চার হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হলেও এ বছর তা বিক্রি হচ্ছে এক হাজার টাকার নিচে। এতে কোনোরকমে উৎপাদন খরচ উঠলেও লাভের মুখ দেখা হবে না কৃষকদের। এ ব্যাপারে কয়েকজন পেঁয়াজ চাষির সাথে কথা বললে তারা জানান- জমি তৈরি, সার, বীজ, পরিচর্যা খরচসহ প্রতি শতাংশে খরচ হয় প্রায় এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ৩০০ টাকা। শতাংশ প্রতি উৎপাদন হয় প্রায় দেড় মণ। গতকাল বরংগাইল হাটে পেঁয়াজ আড়তে ৯৬০ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে।
ঘিওর উপজেলার দিয়াইল গ্রামের কৃষক মো: বারেক জানান, তিনি এ বছর ৩০ শতাংশ জমিতে মুড়ি কাটা পেঁয়াজের আবাদ করেছিলেন। জমি তৈরি, সার, বীজ, পরিচর্যা খরচ বাবদ তার প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে ৩৫ মণ। ইতোমধ্যে তিনি ১৬ মণ পেঁয়াজ এক হাজার টাকা দরে বিক্রি করেছেন। এখন বাজার দর আরও কমেছে। এতে কোনোরকমে খরচ উঠলেও কোনো লাভ হবে না। মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক শাহজাহান আলী বিশ্বাস বলেন, গেল মৌসুমে জেলায় পাঁচ হাজার ৩৪৩ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চাষাবাদ হয়েছিল। ভালো বাজারদরে পেঁয়াজ চাষিদের মাঝে আগ্রহ বাড়ছে। চলতি মৌসুমে মানিকগঞ্জে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পাঁচ হাজার ৯৫৪ হেক্টর, যা গত বছরের চেয়ে ৬১১ হেক্টর বেশি জমিতে পেঁয়াজের চাষাবাদ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Facebook Comments