পুলিশ ধরার পর অসুস্থ্য হয়ে গেলেন দিনমজুর আরিফ

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ সুস্থ্য আরিফ হোসেন (৩০) এখন অসুস্থ্য। মা-বাবা কেউ নেই। স্ত্রী আর এককন্যা শিশু রয়েছে। মসজিদের কাছে পুলিশ এসেছে শুনে হাজির। এতেই বিপত্তি। প্রথমে থাপ্পর মারলেন পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোশারফ হোসেন। তারপর প্রকাশ্যে লাটিপেটা করে গাড়ীতে উঠিয়ে থানার লকাপে। রাত দুইটায় ঘুমন্ত আরিফকে জেগে উঠানো হলো। মোশারফ মিয়া পশ্চিমের রুমে নিয়ে মারধর শুরু করে। আরো দুই পুলিশ সদস্য ছিল। দুই ঘন্টা ধরে মোটা লাটি দিয়ে বেধড়ক পিটুনী। পুলিশকে শতবার বাবা ডেকেও রক্ষা হয়নি। কুত্তার মতো মেরেছে। ফ্লোরে ফেলে দুই পায়ের তালুতে। হাতের তালুতে। এক পুলিশ সদস্য বুকের উপর পা রেখেছে। আরেকজন পায়ের হাটুতে চাপ দিয়ে রাখে। এদিকে মোশারফর মিয়া লাটিপেটা করে। আবার সকাল ৮ টা থেকে ৯ টা পর্যন্ত। একঘন্টা লাটিপেটা। এবার অচেতন হয়ে পড়ল আরিফ। বেহুশ পুলিশ কর্মকর্তার হুশ হলো। জাগ্রত হলো বিবেক। আরিফকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠালেন।

শুক্রবার সকালে তাকে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়ার জন্য ভর্তি করানো হয়। শুক্রবার এক ভিডিও সাক্ষাতকারে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নির্মম পুলিশি নির্যাতনের কথাগুলো বললেন আরিফ হোসেন। শনিবার বিকালে আরিফ হোসেনকে চাঁদপুর আদালতে হাজির করানো হলে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন।

গত ১ আগস্ট বৃহস্পতিবার দুপুরে আরিফ হোসেনকে হাজীগঞ্জ পৌরসভার বদরপুর দরবার শরীফ কমপ্লেক্স সম্মূখে থেকে আটক করা হয়। আরিফ হোসেন ও তার পরিবার শনিবার সকালে সাংবাদিকদের জানান, শুক্রবার রাতে আমাকে প্রহরীর দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা হাতে হ্যান্ডক্যাপ দিয়ে রেখেছে। রাতে আমি টয়লেটে যেতে পারিনি। খুব কষ্ট পেয়েছি।

বিষয়টি জানাজানি হলে শনিবার তড়িগড়ি করে আমাকে আবার থানায় নিয়ে যায়। পরে চাঁদপুর আতাদলতে হাজির করানো হয়। আরিফ আরো জানায়, পুলিশের ওই কর্মকর্তাকে আমি কতবার বাবা ডেকেছি। তবুও আমাকে মেরেছে। আমার মৃত মা-বাবাকে গলাগালি করেছে।

আরিফের স্ত্রী বলেন, ‘আমার স্বামী দিনমজুর। পুলিশ আমার স্বামীকে প্রতিবন্ধি করে দিছে। আমার স্বামী সুস্থ্য ছিল। এখন অসুস্থ্য হয়ে গেল। কিভাবে চিকিৎসা চালামু।’ পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন বলেন, ‘আমি মারধর করিনি। এসব মিথ্যা কথা। আরিফ একটি মামলার এজহারভূক্ত আসামী।’

উল্লেখ্য, বদরপুর গাউছুল আজম জিলানী নামের একটি মসজিদ নির্মাণ কাজ নিয়ে আদালতে চলমান মামলার আপিল করেছে এলাকাবাসী। ওই মসজিদের নির্মাণ কাজ করতে গিয়ে বাধার সৃষ্টি হয়। পরে আরিফ হোসেনকে আটক করায় এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে বদরপুর দরবারের প্রতিষ্ঠাতা, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রেসিডিয়াম সদস্য মাও. আবু সুফিয়ান খাঁন আবেদী আল কাদেরীর উপর হামলা করে। ওই হামলায় আরো তিনজন আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। গুরুতর আহত মাও. আবু সুফিয়ান খাঁনকে (৫৫) কে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহত অন্যান্যরা হলেন রাজমিস্ত্রি শাহিদুর রহমান (২৭), মসজিদের সাবেক ইমাম আ. সাত্তার মৃধা (৬০) এবং মাদরাসার ছাত্র দিদার হোসেন (১৬)।

Facebook Comments