পার পেয়ে যাচ্ছে নৌকাবিরোধীরা

আলোকিত সকাল ডেস্ক

দেশজুড়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পদ্মা সেতু তৈরিতে মাথা লাগবে— এমন গুজব ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে আ.লীগ সরকার। এসব সমস্যা মোকাবিলায় কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত মাঠে নেমেছে ক্ষমতাসীন দলটির নেতাকর্মীরা।

সেকারণে দলটির জাতীয় সম্মেলনসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক কার্যক্রম পিছিয়ে যাচ্ছে। একই সাথে আপাতত পার পেয়ে যাচ্ছে দলটির নৌকাবিরোধী নেতাকর্মীরা।

সূত্র মতে, রাজধানীসহ সারা দেশে এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু জ্বর মহামারি রূপ নিয়েছে। এরই মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বেশ কয়েকজন মানুষ মারাও গেছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে অনেক রোগী।

এ পরিস্থিতিতে সম্প্রতি ডেঙ্গু নিয়ে দলীয় এমপি-মন্ত্রী ও দলের দায়িত্বশীল নেতাকর্মীদের বক্তব্য নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়েছে আওয়ামী লীগকে। শুধু ডেঙ্গু নয়, পদ্মা সেতুতে মাথা লাগাবে— এমন গুজবে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ‘ছেলেধরা’ আতঙ্ক।

বিশেষ করে ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে বিভিন্ন স্থানে নিরীহ মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ নিয়ে সারা দেশেই উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি জীবনযাপন করছেন প্রায় ১৭ জেলার মানুষ।

বিশেষ করে নদীতে বিলীন হয়েছে শতশত ঘরবাড়ি। এমন পরিস্থিতিতে বন্যাকবলিত এলাকার অনেক মানুষ খোলা আকাশের নিচে বাস করছেন। আবার কিছু কিছু স্থানে বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও দেখা দিয়েছে পানিবাহিত রোগ।

যা নিয়ে বন্যাকবলিত ওই অঞ্চলের সাধারণ মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে। এসব ইস্যু মোকাবিলায় অনেকটাই চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে সময় পার করছে ক্ষমতাসীন আ.লীগ। এসব কারণে ঘর গোছানোসহ বেশকিছু সাংগঠনিক কাজে পিছিয়ে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দলটি।

আ.লীগ সূত্র জানায়, দলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী অক্টোবরে। নিয়ম অনুযায়ী অক্টোবরেই সম্মেলন করতে চেয়েছিলেন দলটির সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিশেষ করে কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগেই জেলা-উপজেলার মোদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠন করতে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাকর্মীদের নির্দেশনাও দিয়েছিলেন তিনি। নেত্রীর নির্দেশনা পাওয়ার পর বেশকিছু জেলায় সম্মেলন করেন তারা।

আ.লীগের ২১তম ওই সম্মেলনের আগেই সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে দলের মধ্যে থাকা অনুপ্রেবেশকারীদের বের করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্নভাবে অনুপ্রবেশকারীদের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই করে প্রায় ১৮ হাজার অনুপ্রবেশকারীর তালিকা চূড়ান্ত করেন।

ওইসব অনুপ্রবেশকারীদের জেলা-উপজেলার নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে ছেটে ফেলা হবে। বিশেষ করে সমপ্রতি বিএনপি ও জামায়াত থেকে অনেকেই বিভিন্নভাবে আওয়ামী লীগে ভিড়েছেন।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের অনেক নেতা নিজর গ্রুপ ভারী করতে তাদের স্থান করে দিচ্ছেন এবং কাছে টানছেন।

এতে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব্ব আরও বাড়ছে। বিশেষ করে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ওইসব অনুপ্রবেশকারী প্রকাশ্যে নৌকার বিরোধিতার পাশাপাশি তৃণমূলপর্যায়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে দ্বন্দ্ব্ব তৈরি করছিলো।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গত সাত মাসে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে আট শতাধিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওইসব নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীরা।

বিশেষ করে নিজ দলের পদধারী নেতা মনোনয়নবঞ্চিত হওয়ার ক্ষোভ এবং স্থানীয় এমপি-মন্ত্রীদের ইন্ধনে ভোটের মাঠে দলের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে কাজ করেন তারা। যে কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে নৌকার পরাজয় ঘটে।

তবে ওইসব এলাকায় নৌকার পরাজয় মানতে পারেনি দলটির প্রধানসহ দায়িত্বশীল নেতাকর্মীরা। তারা সহস্রাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী ও মদতদাতা চিহ্নিত করেছেন। ওই বিরোধিতাকারীদের শাস্তির আজ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও তা আপাতত বন্ধ রয়েছে।

আ.লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সূত্রে জানায়, দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ ও পদ্মা সেতুতে মাথে লাগবে— এমন গুজব ঠেকানো আ.লীগ নেতাকর্মীদের জন্য চ্যালেঞ্জ।

মূলত ডেঙ্গুকে কেন্দ্র করে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো আ.লীগের ব্যাপক সমালোচনার করছে। শুধু ডেঙ্গু নয়, পাশাপাশি ছেলেধরা গুজব সরকারকে বিপাকে ফেলে। যা মোকাবিলাকে চ্যালেঞ্চ হিসাবে নিয়েছে আ.লীগ নেতাকর্মীরা।

আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ মহামারি রূপ নেয়াকে সহজভাবে নিচ্ছি না, সিরিয়াসলি নিয়েছি। এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা আ.লীগের জন্য চ্যালেঞ্জ।

অনেক স্থানে আমরা সচেতনতামূলক, সতর্কতামূলক সভা-সমাবেশ করব, জনগণকে উদ্বুদ্ধ করব। এডিস মশানিধনে কার্যকর ওষুধ সরবরাহসহ ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা নিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন।

কাদের বলেন, সারা দেশে বন্যাদুর্গতদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করা আরেকটি চ্যালেঞ্জ। এ দুটি চ্যালেঞ্জ নিয়ে আমরা মাঠে নেমেছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমাদের ছয়টি ত্রাণ টিম প্রথম দিন থেকেই সর্বাত্মক কাজ করছে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments