পাকিস্তানে নতুন সাইবার ক্রাইম, অপরাধীরা হচ্ছে হিরো!

আলোকিত সকাল ডেস্ক

অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড যেমন চুরি, ডাকাতি, খুন, রাহাজানি, ধর্ষণ, জালিয়াতি, অর্থপাচার, যৌন নির্যাতন জনগণের কাছ নতুন কিছু নয়। কিন্তু বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের মাধ্যমে এক নতুন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সম্প্রতি পাকিস্তানের লাহোরে কিছু দুর্বৃত্ত চক্র- যারা অস্ত্র-গোলাবারুদ সংগ্রহ ও মজুত করে থাকে তারা ফেসবুকে গ্রুপ এবং পেজের মাধ্যমে সক্রিয় হতে শুরু করেছে।

এই সংগঠিত গ্রুপের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে অপরাধের নতুন দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করে আসছে। যেমন অপরাধীদের এবং আন্ডারওয়ার্ল্ডে যারা দীর্ঘ বিদ্রোহে নিহত হয়েছে তাদেরকে ‘হিরো’ হিসেবে উপস্থাপন করে আসছে। লাহোর পুলিশ এই দলের কয়েকজন সদস্যকে চিহ্নিত করেছে এবং উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

লাহোর পুলিশের এসএসপি ইসমাঈল খারেক এসব পেজ এবং ওয়েবসাইট বন্ধের জন্য পাকিস্তান টেলিকমিনিকেশন অথরিটি বরাবর চিঠি লিখেন। চিঠিতে তিনি এসব ওয়েবসাইটের লিঙ্ক এবং গ্রেফতারকৃত অপরাধীদের নামও উল্লেখ করেন।

এক্সপ্রেস ট্রিবিউনে এক সাক্ষাৎকালে এসএসপি বলেন, স্থানীয় পুলিশ পর্যবেক্ষণ করে জানতে পারে শহরের অবস্থানরত সন্ত্রাসীদের ‘হিরো’ উপাধি দেয়া হচ্ছে এবং এই কাজের সঙ্গে জড়িতরা বেশিরভাগই সোশ্যাল মিডিয়ার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এসব প্রচারণা চালাচ্ছে।

এসএসপি ‘লাহোর আন্ডারওয়ার্ল্ড’ নামে একটি ফেসবুক পেজের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব পেজে অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের ছবিসহ তরুণদের কাছে আদর্শ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। এসব দুর্বৃত্তদের বেশিরভাগই চাঁদাবাজ এবং খুনের মতো বড় বড় অপরাধের সঙ্গে জড়িত। এসব প্রচারের জন্য মূলত অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে যা দেশের আইনের ধরাছোয়ার বাইরে।

তিনি আরো বলেন, এই প্রচারের কারণে সোশ্যাল মিডিয়ায় এসব গ্রুপে ফলোয়ার এবং সদস্য সংখ্যা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। কয়েক মাস আগে লাহোর পুলিশ তরুণদের একটি গ্যাং গ্রেফতার করে যারা প্রথমে ফেসবুকে অস্ত্র নিয়ে ছবি প্রকাশ করতো এবং পরবর্তিতে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।

তদন্তে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ফ্যান্টাসি প্রকাশ করেছিল উল্লেখ করে এসএসপি বলেন, তারা প্রাদেশিক রাজধানীতে দুষ্কৃতদের নেতা হতে চেয়েছিল এবং তাদের স্বপ্ন ছিল সশস্ত্র বাহিনীর প্রোটোকল। এসব উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণ করার জন্য তারা ডাকাতি ঘটনার মাধ্যমে মানুষ হত্যা শুরু করেছিল।

মনোবিজ্ঞানী অধ্যাপক আনুম ফাতিমা বলেন, চাক্ষুষ সংস্কৃতি, দেশীয় বিষয়, শিক্ষা অভাব এবং লিঙ্গ বৈষম্য থেকে মূলত এসব অপরাধমূলক আচরণের সৃষ্টি হয়।

অপরাধীদের সঙ্গে তার কথোপকথন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা মূলত পারিবারিক সমস্যার জন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম সম্পূর্ণ করতে পারে না এবং তারা সমাজে উপস্থিতি তুলে ধরার পরিবর্তে অস্ত্র তুলে ধরতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

এসএসপি (তদন্ত) জেশান আজগর বলেন, তদন্ত পুলিশ ওয়েবসাইটগুলো খুঁজে বের করছে এবং এসপিসিআরও এবং এসপিসিআইএকে এই কাজে নিযুক্ত করা হয়েছে। সব অপরাধী অনুসারীদের ছবি এবং বিবরণ এসব ওয়েবসাইট থেকে নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে গ্রেফতারকৃতদের কি ধরনের মামলা দেয়া হবে এবং তাদের শাস্তি কি হবে সে বিষয়ে এখনো পরিষ্কার করে কিছু জানাতে পারেননি তিনি।

জেশান আজগর বলেন, সব পলাতক আসামিদের অবিলম্বে গ্রেফতার করা হবে এবং যারা জামিনে আছে তাদের ওপর কড়া নজরদারি রাখা হবে; যাতে করে তারা ভবিষ্যতে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে না পড়ে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments