পশ্চিমের জেলাগুলোতে রোপা আমনচাষ ব্যাহত

আলোকিত সকাল ডেস্ক

বৃষ্টির অভাবে পশ্চিমের জেলাগুলোতে রোপা আমন চাষ ব্যাহত হচ্ছে। শ্রাবণ মাসেও অনেক স্থানে মাঠ ফেটে চৌচির হয়েছে। চাষিরা এখন আর বৃষ্টির জন্য আকাশের দিকে না চেয়ে থেকে সেচের মাধ্যমে চারা রোপণ শুরু করে দিয়েছে। এবার চাষ নাবি হবে বলে চাষিরা জানায়।

কৃষি সম্প্রসারণ আধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমের পশ্চিমের যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া জেলায় রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ৪ লাখ ৫৬ হাজার ১২২ হেক্টরে। গতকাল বুধবার পর্যন্ত চাষ হয়েছে ১৭ হাজার ৩৭৫ হেক্টরে। আমন চাষ বৃষ্টি নির্ভর। জুন মাসে বৃষ্টির পানিতে চাষি বীজতলা তৈরি করে। জুলাইয়ের শুরুতে চারা রোপণ শুরু করে দেয়। এবার প্রয়োজনীয় বৃষ্টির অভাবে অনেক স্থানে বীজতলা তৈরি করা যায়নি। আবার বীজতলা পানির অভাবে ফেটে চৌচির হয়েছে। ফের নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে হচ্ছে।

অন্যান্য বছর এ সময়ে রোপা আমন চাষের শতকরা ৬০ ভাগের বেশি জমিতে চারা রোপণ শেষ হয়ে যায়। এবার প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে পিছিয়ে পড়েছে। মেহেরপুর সদর উপজেলার তেরঘরিয়া গ্রামের চাষি জিয়াউর রহমান জানান, এবার তাদের এলাকায় বৃষ্টিপাত কম। মাঝে মাঝে দু এক পশলা বৃষ্টি হলেও মাঠে পানি জমছে না। এতে চাষি জমি কাদা করে চারা রোপণ করতে পারছে না। অনেকে শ্যালো মেশিনে সেচ দিয়ে চারা রোপণ করছে। মঙ্গলবার শৈলকুপা উপজেলার নওপাড়া গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টির অভাবে আমন বীজতলা ফেটে চৌচির হয়েছে। চাষি গোলাম মোস্তফা জানান, জিকে সেচ খালও পানি সরবরাহ করছে না। তারা সমস্যায় আছে। রোপা আমন চাষ ব্যাহত হচ্ছে। একই উপজেলার সাধুহাটি গ্রামের চাষি নুরুল ইসলাম জানান, কয়েক দিন আগে জিকে সেচ খালে পানি দিয়েছিল। আবার বন্ধ করে দিয়েছে। এতে তারা পাট জাগ ও রোপা আমন চাষে সমস্যায় পড়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক সুরেন্দ্র শেখর মালাকার জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সেচ দিয়ে বীজতলা তৈরি ও চারা রোপণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। চাষিরা বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা না করে সেচের মাধ্যমে বীজতলা তৈরি ও চারা রোপণ শুরু করে দিয়েছে। তনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments