পলাশবাড়ীতে কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডবে বসতবাড়ি পানবরজ ও গাছপালাসহ মৌসুমী উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি

পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডবে হোসেনপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের বসতবাড়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, দোকানপাট, পানবরজ, মৌসুমী উঠতি ফসলসহ গাছপালা উপড়ে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে।

রোববার রাতে প্রচন্ড গতিতে ঝড়ের তান্ডব শুরু হয়। প্রায় আধঘন্টার ঝড়ে অসংখ্য বসত বাড়ীর চালা ও পল্লী বিদ্যুৎ সরবরাহের বেশ কয়েকটি খুঁটি তার ছিঁড়ে দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে য়ায়। বিদ্যুৎ বিভাগের জনবল বিরতিহীন কাজ করেও এখনো বিদ্যুৎ সঞ্চালন সম্ভব হয়নি বলে জানা যায়। এছাড়া পান চাষ অধ্যুষিত উপজেলার হোসেনপুর ইউপি এলাকার পানবরজের ছাউনি উড়ে যাওয়ায় নিদারুন কষ্টে পড়েছেন ঝড় এলাকার সর্বস্তরের মানুষজন। সরেজমিন গেলে এসব অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতির দৃশ্য চোখে পড়ে।

হোসেনপুর ইউপির শ্রীখন্ডি গ্রামের মাধুরী বেগমের আঙ্গিনার দু’টি গাছ ভেঙ্গে পড়ে বসত ঘরে পড়ে। এসময় সৌভাগ্যক্রমে পরিবারের লোকজন প্রাণে বেঁচে গেলেও গোটা বাড়ী লন্ডভন্ড হয়ে যায়।

একই এলাকার আশরাফ আলী, আমিনুল ইসলাম, আবুল কালাম, লাইজু বেগম, দিগদারী ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের জয়নাল আবেদীন, শিশুদহ গ্রামের আঃ লতিফ মিয়া, পশ্চিম ফরিদপুরের সুজন কুমারের বসতবাড়ীর অপূরণীয় ক্ষতিসাধন হয়।

শ্রীখন্ডি গ্রামের আলম মিয়া, হেলাল মিয়া, আকবর আলী, পশ্চিম ফরিদপুরের সাকোয়াত গাছু, আবু বক্কর, মজনু মিয়া, মতি মিয়া, আব্দুল জলিল, আজিজার রহমান, ফজলু মিয়া, জিয়াউল ইসলাম, সাবিদ মন্ডল, শিশুদহ গ্রামের এখলাছ মন্ডল, আঃ লতিফ প্রধান, দেবত্তর কলাগাছী গ্রামের শিরিকুল, রিপন মিয়া, হাফিজার, মাহাবুব মাস্টার, হবিবরসহ অনেক কলা চাষীর কলার বাগান লন্ডভন্ড হয়ে ক্ষতিসাধন হয়।

এদিকে পশ্চিম ফরিদপুর গ্রামে একটি মসজিদ ঘরের চালা উড়ে নিয়ে যায়। একই গ্রামের পান চাষী শহিদুল গাছু ও নুরুজ্জামানের পানবরজ লন্ডভন্ড হয়ে যায়।
বিদ্যুতের খুঁটি ছাড়াও আম, কাঁঠাল ও লিচুসহ বিভিন্ন ফলদবৃক্ষ উপরে পড়ে। হোসেনপুর ইউপি চেয়ারম্যান তৌফিকুল আমিন মন্ডল টিটু জানান, প্রকৃতির চিরায়িত এমন কালবৈশাখী করাল গ্রাসে অসময়ে আমার এলাকার সর্বস্তরের মানুষের অপূরণীয় ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ইউপির নিজস্ব সাধ্যানুযায়ী আর্থিকসহ অন্যান্য সাহায্য-সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। তার নির্দেশে ইউপির সদস্যবৃন্দের মধ্যে আব্দুল মান্নান ও ইউপি চেয়ারম্যানের বিশেষ সহকারী হেলাল মিয়াসহ দায়ীত্বশীলরা ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার গুলোর সার্বিক খোঁজ-খবর অব্যাহত রেখেছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আজিজুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করে ওই এলাকায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে চাইলে তিনি বলেন ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ধারনা করা হচ্ছে। তবে মাঠ পর্যায়ে ক্ষতি নিরূপণে প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। সব বিষয়ে তালিকার কাজ শেষ হলেই প্রকৃত ক্ষতি নিরূপণ সম্ভব হবে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments