পণ্য পরিবহনে গুরুত্ব হারাচ্ছে চাক্তাই খাল

আলোকিত সকাল ডেস্ক

বাণিজ্যিক গুরুত্ব কমেছে চাক্তাই খালের। ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও মাঝি-মাল্লাসহ অনেক পক্ষ চাক্তাই খাল দিয়ে পণ্য পরিবহনে জড়িত ছিল। চাক্তাই খাল দিয়ে নৌযানে পণ্য পরিবহন কমে যাওয়ায় তারা সকলেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক সময় খাতুনগঞ্জ ও চাক্তাই থেকে সিংহ ভাগ পণ্য চাক্তাই খাল দিয়ে নৌযানে পরিবহন হতো। বর্তমানে খালের অবস্থা বেহাল। খালের দুই পাশে অবৈধ দখল ও ভরাট হয়ে সরু হয়ে গেছে। এর ফলে জোয়ারের সময় নৌযান খালের ভেতরে ঢুকে পণ্য বোঝাই করে বের হয়ে যায়। এক সময় ভাটার সময়ও নৌযান চলাচল করতে পারত চাক্তাই খালে। আবার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় বেশির ভাগ পণ্য সড়ক পথে পরিবহন হচ্ছে।

চাক্তাই খালের দৈর্ঘ্য প্রায় ৬ কিলোমিটার। চামড়ার গুদাম এলাকায় চাক্তাই খালের মোহনা থেকে বহদ্দারহাট পর্যন্ত খালের বিস্তৃতি। এক সময় খালের বিভিন্ন স্থানে দুই পাশ থেকে পণ্য উঠা-নামা হতো। তবে খালের খাতুনগঞ্জ ও চাক্তাই এলাকার অংশে ব্যবহার বেশি হয়ে থাকে। ফলে খালের মোহনা থেকে ভেতরের ৩ কিলোমিটার অংশে পণ্য উঠা-নামা বেশি হয়ে থাকে।

খালের পূর্ব পাশে চাক্তাই ও পশ্চিম পাশে খাতুনগঞ্জ ও আছাদগঞ্জ অবস্থিত। নৌ-পথে পণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে খালের দুই পাশে রয়েছে শত শত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে পাইকারি মুদির দোকান, চালের আড়ত, ঢেউটিন, লোহা, শুঁটকির আড়ত, আটা-ময়দার মিল, ডালের মিলসহ নানা রকম ভোগ্যপণ্য ও মানুষের ব্যবহূত পণ্যের পাইকারি দোকান। খুচরা পাইকাররা পণ্য কিনে নৌযানে করে নিয়ে যায়।

ব্যবসায়ীরা জানান, চাক্তাই খাল দিয়ে পণ্য পরিবহন কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহরে পণ্য আনা নেওয়ার জন্য চাক্তাই খাল ছিল অন্যতম মাধ্যম। রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, বোয়ালখালী, আনোয়ারা, পটিয়া, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, বাঁশখালী, সন্দ্বীপ ও কুতুবদিয়া থেকে বিভিন্ন মৌসুমি সবজিসহ অন্যান্য পণ্য নৌযানে করে চট্টগ্রামে বিক্রির জন্য আনা হতো। চামড়া গুদাম এলাকায় রয়েছে কয়েকটি কাঁচা সবজির আড়ত। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে কাঁচা পণ্য এসব আড়াতে বিক্রির জন্য নৌযানে করে আনা হতো। এখন একটি মাত্র আড়ত চালু রয়েছে। আবার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ থেকে ভোগ্যপণ্যসহ প্রয়োজনীয় নানা পণ্য নৌযানে করে নিয়ে যাওয়া হতো। পণ্য পরিবহন নিয়ে চাক্তাই খালে এক সময় নৌযানের দীর্ঘ সারি ছিল। খালের দুই পাশে নৌযানে পণ্য বোঝাইয়ের জন্য অসংখ্য সিঁড়ি রয়েছে। সিঁড়ির মাথায় পণ্য বোঝাইয়ের জন্য নৌযানগুলো রাখা হয়। ব্যবসায়ীরা জানান, চাক্তাই খালকে বাণিজ্যিক ব্যবহার বাড়াতে পারলে ব্যবসায়ী ও ক্রেতা সকলেই লাভবান হতো।

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী নেতা জামাল আহমেদ বলেন, চট্টগ্রাম শহরের আশপাশে উপজেলা গুলোতে পণ্য আনা-নেওয়ার জন্য চাক্তাই খাল ছিল অন্যতম মাধ্যম। নৌপথে পণ্য পরিবহনে খরচ কম। এতে খুচরা পাইকারি ব্যবসায়ী কম খরচে পণ্য পরিবহন করতে পারতেন। মূলত ২০০০ সাল থেকে চাক্তাই খাল দিয়ে পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে যায়। খালের যে অংশে পণ্য বোঝাই ও খালাস করা হয় সে অংশ অবৈধ দখল ও পলি জমে সরু হয়ে গেছে। খালের রক্ষণাবেক্ষণ নেই। এখন অধিকাংশ পণ্য সড়ক পথে পরিবহন হচ্ছে।’

খাতুনগঞ্জ ও চাক্তাইয়ে বিক্রীত পণ্য গাড়ি ও নৌযানে বোঝাই করার জন্য রয়েছে হাজারো শ্রমিক। আবার কয়েক জন শ্রমিক যার নিয়ন্ত্রণে থাকে তাকে মাঝি বলা হয়। শ্রমিকদের মধ্যে অধিকাংশই বরিশাল জেলার। বশির মাঝি বলেন, আমি ৩৫ বছর যাবত্ খাতুনগঞ্জে আছি। শুরুতে দেখেছি অধিকাংশ পণ্য নৌযানে করে পরিবহন হতো। আশপাশের দোকান ও গুদাম থেকে পণ্য নিয়ে চাক্তাই খালের উভয় পাশে পণ্যবাহী ঠেলাগাড়ির জট লেগে যেত। এখন চাক্তাই খালে পণ্য বোঝাইয়ের সেই ব্যস্ততা নেই। সড়ক পথে পণ্য চলে যাচ্ছে।’

চাক্তাই খাল রক্ষণাবেক্ষণের পিছনে সিটি করপোরেশন বছরে প্রচুর অর্থ খরচ করছে। খালের বেশির ভাগ অংশে তলা পাকা করা হয়েছে। আর কিছু অংশে খালের দুই পাশে পাকা দেওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। তারপরও খালকে নিরাপদ রাখা যাচ্ছে না। চামড়া গুদাম এলাকায় কর্ণফুলী নদী ভরাট হয়ে চাক্তাই খালের মুখ অনেক দূরে চলে গেছে। ফলে নৌযান গুলোকে জোয়ারের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হয়।

আস/এসআইসু

Facebook Comments