পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় নতুন বিদ্যুতায়নের নামে চলছে খাম্বা বাণিজ্য,নেয়া হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা!!

কাজী মামুন /পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহিন হাওলাদার এমনই একটি দালার চক্রের থেকে প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় নতুন বিদ্যুতায়নের নামে চলছে খাম্বা বাণিজ্য।

অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদার সংশ্লিষ্ট এলাকায় এক শ্রেণির দালালদের মাধ্যমে ওই খাম্বা গন্তব্য স্থানে নেওয়া ও শ্রমিক দিয়ে স্থাপনসহ নানা অজুহাতে টাকা তোলেন স্থানীয় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে।যারা টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন তারা নানা হয়রানীর শিকার হন। অথচ সরকারী নিয়ম রয়েছে একজন আবাসিক বিদ্যুৎ গ্রাহক মাত্র সারে চারশত টাকা দিয়েই পল্লী বিদ্যুৎ থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে পারবেন। এখানে বিদ্যুতের খাম্বা কিংবা অন্য কোন খাতে অতিরিক্ত আর কোন টাকার প্রয়োজন হয়না।সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার প্রায় ৯০ ভাগ এলাকা বিদ্যুতায়ন করা হয়েছে।

২০২০ সালের মধ্যে শতভাগ বিদ্যুতায়ণের লক্ষ্য নিয়ে বর্তমানে ৩০টি প্যাকেজের মাধ্যমে বাউফলে ৩৬০ কিলোমিটার বিদ্যুতায়ণের জন্য প্রায় সারে ৬ হাজার খুঁটি স্থাপণের কাজ চলছে। কালাম সিকদার, মিলন মিয়া, কালাম মুন্সি, মাহাবুব মিয়া, রেজাউল করিম, সমির চন্দ্র বাবু নামের কয়েকজন ঠিকাদার ওই কাজ করছেন।প্রতি প্যাকেজে প্রায় ৩০ লাখ টাকা হারে ৯ কোটি টাকার কাজ হচ্ছে। ঠিকাদারদের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে, বিদ্যুতের খাম্বা বাবদ বিদ্যুৎ আবেদন কারীদের কাছ থেকে কোন প্রকার টাকা আদায় করা যাবে না।

অথচ উপজেলায় একেবারেই ভিন্ন রুপ। এখানে আবেদন কারীদের কাছ থেকে ঠিকাদাররা একটি দালাল চক্রের মাধ্যমে আদায় করছে ৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। বাউফলের কনকদিয়া, কেশবপুর, নাজিরপুর, কাছিপাড়া, কালিশুরী, ধুলিয়া, আদাবাড়িয়া, কালাইয়াসহ প্রায় সকল ইউনিয়নেই দুইজন করে দালালের আর্বিভাব ঘটেছে।কেশবপুর ইউনিয়নের প্রতিবন্ধী ইদ্রিছ মিয়ার কাছে তিন খুঁটির জন্য ৩৫ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছে। একই ইউনিয়নের বজলু মিয়ার কাছে এক খুঁটির জন্য ১২ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছে।

মেহেন্দীপুর বাজারের অরুন দাসের কাছে এক খুঁটির জন্য ৮ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছে। আমির হোসেন কাজী নামের এক ব্যাক্তির থেকে ২৫ হাজার, পারভেজের থেকে ৬ হাজার, আফজালের থেকে ৬ হাজার এবং সাইফুলের থেকে ৮ হাজার টাকা নেওয়া হয়ে কনকদিয়া ইউনিয়নের নারায়ন পাশা গ্রামের মোশারেফ এর কাছ থেকে খুঁটির জন্য নেয়া হয়েছে ৯ হাজার টাকা। একই গ্রামের মকবুলের কাছ ১০ হাজার টাকা। এ ভাবেই ওই গ্রামের প্রায় ৩ শ’ পরিবারে কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ওই চক্র।এভাবে ওই ইউনিয়নের প্রায় দুই শতাধিক আবেদনকারীদের থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। টাকা না দিলে তাদের খুঁটি নানা অজুহাতে স্থাপণ করা হচ্ছে না।

স্থানীয় দালাল ছিদ্দিক এবং সেলিম ভূঁইয়া ওই টাকা আদায় করছেন বলে আবেদনকারীরা জানান।বাউফল পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার একে আজাদ জানান, দালালদের খবর তাদের কাছে থাকলেও মূল কাজটা ঠিকাদারের হওয়ায় তাদের কিছু করার নেই।তাদের কাজে কোন দালালি নেই। তবে যারা এই কাজে দালালি করছে এবং সাধারণ মানুষকে ধোকা দিয়ে টাকা আদায় করছে তাদের নাম অনতিবিলম্বেই পুলিশের কাছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।কালাম মুন্সি নামের এক ঠিকাদার দালালদের দৌরত্বে কথা স্বীকার করে জানান, দালালদের মাধ্যমে আবেদন কারীর কাছ থেকে টাকা তোলার বিষয়টির সাথে ঠিকাদারদের কোন সম্পৃক্তা নাই।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box