পটিয়ার ছনহরা ষোড়শী বালা উচ্চ বিদ্যালয়ে ইভটিজিং’র দায়ে ৪ বখাটে কিশোর আটক

মহিউদ্দীন চৌধুরী, নিজস্ব প্রতিনিধি

রাস্তার পাশে দাঁড়িয়েছিল ৪ বখাটে কিশোর। এক স্কুল ছাত্রীকে যেতে দেখে একজন তার পথ রোধ করে দাঁড়ায়। সে চাকু দেখিয়ে দেয় প্রেম প্রস্তাব! আরেকজন ছাত্রীর হাত ধরে মোবাইল নম্বর দিয়ে ফোন করার অনুরোধ জানায়। না হলে দেয়া হয় দেখে নেওয়ার হুমকি। অপর দুই কিশোর সেসব দৃশ্য ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে মুঠোফোনে ধারণ করে রাখে। এভাবেই ফিল্মি স্টাইলে ৪ বখাটে কিশোর প্রেম নিবেদন করছিল স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে।

গত রোববার বিকেল সাড়ে ৪,১৫ মিনিটে পটিয়া উপজেলার ছনহরা ইউনিয়নের ষোড়শী বালা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রথম সাময়িক পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে। পরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বখাটেদের ধাওয়া করে আটক করে থানা পুলিশে সোপর্দ করে। তাদের কাছ থেকে একটি অত্যাধুনিক চাকু ও তিনটি মোবাইল ফোন সেট উদ্ধার করা হয়। আটক ৪ বখাটে কিশোর হলো, উপজেলার ছনহরা ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ড উত্তর ছনহরা গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের পুত্র মো. ফয়সাল (১৬), মো. ছৈয়দ নুরের পুত্র মো. আলা উদ্দিন (১৭), নুর মোহাম্মদের পুত্র মো. ইমরান হোসেন (১৬) এবং মো. ইউসুফের পুত্র মো. আসিব (১৫)। আটক আসিব রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র এবং বাকিরা ওয়ার্কশপের শ্রমিক ও রিকশা চালক।

ঘটনার ব্যাপারে ষোড়শী বালা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ওসমান আলমদার জানান, স্কুলের শিক্ষকসহ ছাত্ররা মিলে ছনহরা ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা থেকে বখাটেদের আটক করে স্কুলে নিয়ে আসে। আটকদের ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও ইউপি চেয়ারম্যানকে জানানো হলে তারা আইনগত ব্যবস্থা নিতে স্কুল কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দেন। এরপর প্রধান শিক্ষক কে এম আব্দুল গনি পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাবিবুল হাসানকে এ বিষয়ে অবহিত করলে তিনি একদল পুলিশ নিয়ে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যান।

এ ব্যাপারে ইউএনও মো. হাবিবুল হাসান জানান, স্কুলের প্রধান শিক্ষকের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার সন্ধ্যা ৭টায় ৪ বখাটে কিশোরকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। তারা অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় গতকাল সোমবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়। তবে তাদের ২১ দিন পর পর সমাজসেবা ও পটিয়া থানা পুলিশের কাছে হাজিরা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

আ/এসআইসু

Facebook Comments Box