নোয়াখালীতে মাস ব্যাপী অভিযানে ২৫২টি মামলায় ১৭জনকে কারাদণ্ড এবং ১৬ লক্ষ টাকা জরিমানা

সুজন পাল সদর প্রতিনিধি

আইন শৃঙ্খলা রক্ষা এবং আপরাধ প্রতিরোধ কার্যক্রমকে কার্যকর ও অধিকতর গতিশীল করার লক্ষে মোবাইল কোর্ট আইন ২০০৯এর তফসিল ভুক্ত ফৌজদারি অপরাধসমূহ তাৎক্ষণিকভাবে আমলে গ্রহণ করে মে মাস ব্যাপী নোয়াখালী জেলার বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটগণ ৬৬টি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন। জেলা, উপজেলা, শহর ও স্থানীয় পর্যায়ে পরিচালিত এসব ভ্রাম্যমান আদালতে ২৫২টি মামলায় ২৫২জনকে দন্ডিত করে ১৬ লক্ষ ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও ১৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড প্রদান করা হয়।

নোয়াখালী জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রোকনুজ্জামান খান আলোকিত সকালকে বলেন, মুসলমান ধর্মীয় সম্প্রদায়ের পবিত্র রমজান মাস ও আসন্ন ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণ ও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে জেলার বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়।

জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জনাব তন্ময় দাসের নির্দেশনা অনুযায়ী খাদ্যে ভেজাল মেশানো, রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্সবিহীন গাড়ী চালনা, বাস ভাড়া বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবায় নিম্নমান, অনুমোদনবিহীন ল্যাব ও ফার্মেসী পরিচালনা, গ্যাস সিলিন্ডারের যত্রতত্র ও অনুমোদনবিহীন ব্যবসায়, অতিরিক্ত ও চোরাই গ্যাসের লাইন ব্যবহার, ইভটিজিং, অনুমোদনবিহীনভাবে বন্যপ্রাণীর মাংস ও তেল বিক্রয় এবং জীবন্ত বন্যপ্রাণী আটক, সরকারী কাজে বাধা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও খাল পুনরুদ্ধার, অনুমোদনবিহীন ও খোলা পেট্রোলিয়ামজাত দ্রব্যাদি ক্রয়-বিক্রয়, প্রতিটি সেবার মূল্য তালিকা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষণ ও পণ্যের গুণগত মান বিষয়গুলোকে এ মাসের ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনায় প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। গণ শুনানীতে জেলা প্রশাসকের কাছে সম্মানিত গ্রহক ও ভোক্তাদের সরাসরি অভিযোগের প্রেক্ষিতে পাসপোর্ট অফিস নোয়াখালী ও এর পাশ্ববর্তী স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। একই সাথে মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী নিম্নমানের পণ্য বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি তদারকি ও বিধি অনুযায়ী ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়েছে।

এই অভিযান পরিচালনা করেন জেলা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রোকনুজ্জামান খান, অভিযানে আরো অংশগ্রহন করেন নির্বাহী ম্যজিস্ট্রেট মো. রুহুল আমিন। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনায় সহযোগিতা করেন- নোয়াখালী সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিক্যাল অফিসার ডা. ফাহমিদা, বিএমএ প্রতিনিধি ডা. দ্বীপন চন্দ্র, ড্রাগ সুপার মাসুদ হাসান, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক দেবানন্দ সিনহা ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সেনিটারী ইন্সপেক্টর মোঃ জাহাঙ্গীর এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করেন উপ-পরিচালক নরেসের নেতৃত্বে র‌্যাব ১১, লক্ষীপুর এবং সুধারাম থানা পুলিশ, বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ।

ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার সময় সুপার শপ, চেইন শপ ও বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর অস্বাভাবিক মুনাফা করার বিষয়টি উৎঘাটিত হয়। একই সাথে এসব ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে আমদানীকারকের নাম ও সীল বিহীন ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য পাওয়া যায়। অতিরিক্ত মুনাফার বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে ভেজাল পণ্যের জন্য দন্ড আরোপ করা হয়।

মোবাইল কোর্ট আইন ২০০৯ এর আওতায় মে মাস ব্যাপী ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯, মোটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩, বাংলাদেশ গ্যাস আইন ২০১০, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২, দন্ডবিধি ১৮৬০, মৎস সংরক্ষণ আইন ১৯৫০, পেট্রোলিয়াম আইন ২০১০, ড্রাগ এ্যাক্ট ১৯৪০, মেডিক্যাল প্রেকটিস এবং বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিক (নিয়ন্ত্রণ) আইন ১৯৮২ ইত্যাদি আইনে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়।

জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটগণ কর্তৃক মে মাসে ১৬ টি ভ্রাম্যমান আদালতে ১৪৭টি মামলা পরিচালনা করে ১৪৭জনকে দন্ডিত করে ১০লক্ষ ৮৬হাজার ৪শত টাকা জরিমানা দন্ড আরোপ ও আদায় করা হয় এবং একজনকে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ১৯৮২ এর ৩৪ (খ) ধারায় ৭দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়। উপজেলা পর্যায়ের বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটগণ (উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)) কর্তৃক একই সময়ে ৫০ টি ভ্রাম্যমান আদালতে ১০৫টি মামলা পরিচালনা করে ১০৫জনকে দন্ডিত করে ৫ লক্ষ ২৩ হাজার ৬শত টাকা জরিমানা দন্ড আরোপ ও আদায় করা হয় এবং ১৬জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড প্রদান করা হয়।

ইতিমধ্যে ভ্রাম্যমান আদালতের এই অভিযান নোয়াখালী সহ দেশব্যাপী প্রশংসা কুড়িয়েছে। নোয়াখালী জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রোকনুজ্জামান খান আলোকিত সকালকে জানান, জনস্বার্থে ভ্রাম্যমান আদালতের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments