নিয়ন্ত্রিত আদালতে খালেদা জিয়ার মামলার বিচার হচ্ছে

আলোকিত সকাল ডেস্ক

সরকার বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিচার নিয়ন্ত্রিত আদালতে করছে বলে অভিযোগ করেছেন আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার।

মঙ্গলবার কেরানীগঞ্জের কারা ভবনে নবনির্মিত ২ নম্বর ভবনে স্থাপিত অস্থায়ী ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক আবু সৈয়দ দিলজার হোসেনের আদালতে গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার শুনানি শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

মাসুদ তালুকদার বলেন, আমরা রাস্তা ছাড়া গাড়ি চালিয়ে আদালতে এসেছি, বিজ্ঞ আদালতও আমাদের মতো এসেছেন। আমরা অনুধাবন করতে পেরেছি, বিজ্ঞ আদালতের এখানে আসতে কতটা আরাম বা কষ্ট হয়েছে। আমাদের মতো কষ্ট করে বিজ্ঞ আদালত এখানে আসায় বিচারককে ধন্যবাদ জানাই। মজার বা দুঃখের বিষয় হলো- খালেদা জিয়ার পেছনে পেছনে আদালত ঘোরে। আমাদের দেশে আইন আছে আর আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত আদালত আছে সব জায়গায়।

তিনি বলেন, নিরাপত্তা বিঘ্নের কথা বলে খালেদা জিয়াকে সব সময় সাধারণভাবে সাধারণ মানুষের বিচার যেভাবে হওয়ার কথা সেই বিচার থেকে তাকে পাশ কাটিয়ে একটা আলাদা জায়গায় আইস্যুলেশনে নিয়ে যায়। ক্যামেরা ট্রায়াল যাকে বলে, নিয়ন্ত্রিত আদালতে খালেদা জিয়ার বিচার বারবারই সরকার করে যাচ্ছে। যেদিন খালেদা জিয়াকে আদালতে আনা হবে সেদিন সাংবাদিকদেরও দূরে রাখার শঙ্কা করেন তিনি।

মাসুদ তালুকদার বলেন, পাবলিক ট্রায়ালের নিয়ম হলো সাধারণের প্রবেশ অবারিত থাকবে। সরকার চাচ্ছে, যেনতেন একটা নিয়ন্ত্রিত বিচার করে খালেদা জিয়াকে সাজা দিতে। এর পেছনে অনেক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আছে। আর সরকার একের পর একটা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, আইনে বিধান আছে, যেকোনো জায়গায় আদালত নির্মাণ করা যায়। এখানে কারাগার স্থাপন আইনবহির্ভূত নয়। আইনবহির্ভূত যদি হতো তাহলে তো তারা (খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা) এর আগে পরিত্যক্ত জেলখানার আদালতে গেছেন।

আদালতের পরিবেশ নিয়ে দুদকের প্রসিকিউটর বলেন, আমরা নতুন পরিবেশে এসেছি। আদালতের পরিবেশ অত্যন্ত ভালো। এসিসহ অত্যাধুনিক ব্যবস্থা আছে। বসার ব্যবস্থা ভালো। পূর্বে আদালতের পরিবেশ নিয়ে যে অভিযোগ ছিল এখন আর অপর পক্ষ এ কথা বলবে না। আদালতের বর্তমান পরিবেশ অত্যন্ত মনোরম। মামলার কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারব।

খালেদা জিয়াকে কবে এ আদালতে আনা হবে? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন আছেন। আমরা আশা করছি, আগামী ১৬ মে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলার শুনানিতে আমরা তাকে পাব। উনি সুস্থ আছেন, চিকিৎসা চলমান। চিকিৎসা চলমান থাকায় তাকে হয়তো নিয়ে এসে বিচারে অংশগ্রহণ করতে পারব।

নতুন কারাগারের ভিতর স্থাপিত আদালতের কক্ষে প্রবেশ করার সময় চোখে পড়ে সামনে বিচারকের স্থান। রুমে ঢুকতেই আসামিদের কাঠগড়া, আইনজীবীদের জন্য একটা ডায়াস। এর পাশেই দুদক প্রসিকিউটরের জন্য রয়েছে ডায়াস। এজলাস কক্ষে সুসজ্জিতভাবে সাজানো রয়েছে ২০টি বেঞ্চ। রয়েছে ৬টি এসি ও ৮টি ফ্যান।

এর আগে মামলাটির বিচারকাজ পুরান ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে চলত। নিম্ন আদালতে বিচারাধীন খালেদা জিয়ার মামলাগুলোর বিচার কার্যক্রম কেরানীগঞ্জের কারা ভবন আদালতে হবে, এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গত রোববার জারি করে।

দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন এখন চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে রয়েছেন। পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন সড়কের পুরনো কারাগারে এক বছরের বেশি সময় বন্দি থাকার পর গত ১ এপ্রিল চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর তেজগাঁও থানায় খালেদা জিয়াসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে গ্যাটকো দুর্নীতি মামলাটি দায়ের করেন দুদকের উপ-পরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী।

২০০৮ সালের ১৩ মে তদন্ত শেষে দুদকের উপ-পরিচালক জহিরুল হুদা খালেদা জিয়াসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। বর্তমানে এ মামলায় আসামির সংখ্যা ১৭ জন। সাত আসামি মারা গেছেন।

আস/এসআইসু

Facebook Comments