নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের এক বছরেও রূপ বদলায়নি!

আলোকিত সকাল ডেস্ক

দিনটা ছিল ২৯ জুলাই, ২০১৮ সাল। এই দিনেই রাজধানীর সড়কে গণপরিবহনের নৈরাজ্যের মুখে ঝড়ে যায় দুটি নিষ্পাপ প্রাণ। আর এর প্রতিবাদে কেঁপে উঠে পুরো দেশ। রূপ নেয় দীর্ঘ ১১ দিনব্যাপী নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র আন্দোলনের।

ঘটনার সূত্রপাত, ২৯ জুলাইয়ের এই দিনে ঢাকার শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থীরা কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে বিমানবন্দর সড়কে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিল এবং একটি বাস থামলে সেটাতে ওঠার চেষ্টা করে। সে সময় জাবালে নূর পরিবহনের দুটি বাস বেশি-যাত্রী-পাওয়ার-জন্যে প্রতিযোগিতা করতে করতে অতিরিক্ত গতিতে এগিয়ে আসে, তার মধ্যে একটি বাস বেপরোয়াভাবে প্রথম বাসের পাশে ফুটপাথে দাঁড়ানো শিক্ষার্থীদের ওপর উঠে যায়, তাতে ২ শিক্ষার্থী নিহত এবং আরো ১২ জন গুরুতর আহত হয়। পুলিশ পরে বাস তিনটির চালক, সহকারী এবং ঘাতক-বাসের মালিককে গ্রেফতার করে।

কয়েক ঘন্টা পরে সাংবাদিকরা এই ঘটনায় নৌপরিবহন মন্ত্রী ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী সভাপতি শাজাহান খানের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি হাসিমুখে বলেন, ‘ভারতে গাড়ি দুর্ঘটনায় ৩৩ জন মারা গেছেন। এখন সেখানে কী আমরা যেভাবে এগুলোকে নিয়ে কথা বলি, এগুলো কি ওখানে বলে?’

তার এই বক্তব্যের জেরে প্রতিবাদে ফেটে উঠে সারাদেশের ছাত্র সমাজ। আন্দোলন রূপ নেয় গণবিক্ষোভে। নৌমন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবিতে দীর্ঘ ১১ দিনব্যাপী চলে আন্দোলন।

আন্দোলনের প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশে সড়ক পরিবহণ ব্যবস্থা বিশৃঙ্খল এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ, রাজধানী ঢাকার বাস সার্ভিসগুলোতে যা প্রকটভাবে দৃশ্যমান। ২০১৫ সাল থেকে ২০১৮-র জুলাই পর্যন্ত সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয় ২৫ হাজার মানুষ এবং আহত প্রায় ৬২ হাজার।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের করা গবেষণা অনুযায়ী, এসব সড়ক দুর্ঘটনার ৫৩% ঘটে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে; ৩৭% চালকের বেপরোয়া মনোভাবের কারণে এবং বাকি ১০% গাড়ির ত্রুটি ও পরিবেশের কারণে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের হিসাবে ২০১৮ সালে দেশে চলমান বৈধ গাড়ির সংখ্যা ছিল ৩৫ লাখ ৪২ হাজার, কিন্তু বৈধ লাইসেন্সধারী চালকের সংখ্যা ২৬ লাখ ৪০ হাজার। অর্থাৎ প্রায় ৯ লাখ গাড়ি লাইসেন্সবিহীন চালক দ্বারা চালিত হয়। উপরন্তু দেশে ফিটনেসবিহীন যানবাহনের সংখ্যা ৪ লাখ ৯৯ হাজার। এসব কারণে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়তে থাকে।

আন্দোলনের পূর্ববর্তী কয়েক মাসে দুই বাসের চাপায় হাত হারান রাজীব, বাসের হেলপার কর্তৃক নদীতে ফেলে দেয়া হয় পায়েলকে, বাসচাপায় আহত সৈয়দ মাসুদ রানা ও সর্বশেষ বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই কলেজশিক্ষার্থী প্রমুখের মৃত্যুর ঘটনায় জনমনে সমালোচনা ও বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে সাম্প্রতিক এসব দুর্ঘটনার ফল বলে মনে করেন।

বিমানবন্দর সড়কের দুর্ঘটনার পর শহীদ রমিজউদ্দিন ও নিকটবর্তী অন্যান্য স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা দোষী বাসচালকের বিচারের দাবিতে বিমানবন্দর এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে এবং ঘাতক বাসসহ সড়কের অন্যান্য বাস ভাঙচুর করে।

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের এক বছরেও রূপ বদলায়নি!

২০১৮ সালে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

৩০ ও ৩১ জুলাই তারা নৌমন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবিতে বিমানবন্দর সড়ক, উত্তরা, মিরপুর, ধানমন্ডি ও মতিঝিলে সড়ক অবস্থান নেয় এবং রেলস্টেশন অবরোধ করে; ফলে ঢাকা থেকে সড়ক ও রেলযোগাযোগ বন্ধ হয়ে নগর অনেকাংশে স্থবির হয়ে পড়ে। পুলিশ সাঁজোয়া যান ও জলকামান নিয়ে ছাত্রদের ধাওয়া ও লাঠিপেটা করে। বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা বাস ভাঙচুর করে। তবে তারা অ্যাম্বুলেন্স, স্কুলবাস, হজযাত্রী-বহনকারী গাড়ি ও প্রাইভেট কারকে ছেড়ে দেয়।

এরপর ১ থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে অসংখ্য স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ৯ দফা দাবিতে সড়কে অবস্থান, মানববন্ধন ও অবরোধের মাধ্যমে তাদের বিক্ষোভ জানান দিতে থাকে।২রা আগস্ট সরকার সব স্কুল কলেজ বন্ধ ঘোষণা করলেও সেদিন ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেটসহ দেশের ৪২টি জেলায় শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসে। “উই ওয়ান্ট জাস্টিস”, “আমার ভাই কবরে, খুনী কেন বাহিরে” প্রভৃতি স্লোগানে ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে তারা সড়ক মুখরিত করে রাখে।

বিক্ষোভের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা শহরের ট্রাফিকও নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে। তারা শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে গাড়ি আটকে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির ফিটনেস সনদ ও অন্যান্য কাগজপত্র ঠিকঠাক আছে কিনা তা পরীক্ষা করে। লাইসেন্সহীন চালক ও চলার অনুপযোগী গাড়িসমূহ ধরে ট্রাফিক পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে ও তাদের মামলা নিতে বাধ্য করে।

শিক্ষার্থীরা লাইসেন্স না থাকায় ও ট্রাফিক আইন ভঙ্গের কারণে বাণিজ্যমন্ত্রী, পানিসম্পদমন্ত্রী, রেলমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিচারক, পুলিশের ডিআইজি প্রমুখ সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি আটকে দেয়। পথচারীদের ট্রাফিক নিয়ম মানানো এবং স্থানবিশেষে রাস্তা পরিষ্কার ও সংস্কারও করতে দেখা যায় তাদের।

সড়কে গাড়িগুলোকে তারা লেন অনুসারে চালনা করে এবং তৈরি করে অ্যাম্বুলেন্স ও অগ্নিনির্বাপক গাড়ির জন্য ইমার্জেন্সি লেন যা ছিল বাংলাদেশে এই প্রথম। সাধারণ মানুষ তাদের কার্যক্রমের প্রশংসা করে এবং ট্রাফিক নিয়েন্ত্রণে পুলিশ তাদের সহায়তা করে; অনেকস্থানে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফুল ও চকলেট বিনিময় হয়।

এর মাঝে ১ আগস্ট জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের সমর্থনে মানববন্ধন করে। ক্রমে ক্রমে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং নর্থসাউথ, ইস্টওয়েস্ট, ইন্ডিপেন্ডেড বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও মানববন্ধন, ক্লাস বর্জন ও বিক্ষোভের মাধ্যমে আন্দোলনে অংশ নেয়। চলচ্চিত্রাভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চনের নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সংগঠনসহ অন্যান্য নাগরিক সংগঠনগুলোও আন্দোলনের সাথে সংহতি প্রকাশ করে মানববন্ধন করে; শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা সম্মতির পাশাপাশি রাস্তায়ও নেমেও সমর্থন জানান।

সরকার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি মেনে নিয়েছে জানিয়ে তাদের ফিরে যেতে বলে; কিন্তু তারা দাবিসমূহ বাস্তবায়ন শুরু না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলে জানায়।

এদিকে ২, ৪, ৫ ও ৬ তারিখ ছাত্রলীগসহ সরকার-সমর্থক বলে অভিযুক্ত যুবকেরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সংবাদ-সংগ্রহে-যাওয়া সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ করে; সেসব সংঘর্ষে প্রায় দেড় শতাধিক জন আহত হন; পুলিশ অধিকাংশ ক্ষেত্রে আক্রমণকারীদের প্রতি নির্বিকার থাকলেও বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের দমাতে লাঠিচার্জ, কাঁদানেগ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে। আন্দোলনকারীদের ওপর এরূপ হামলার প্রতিবাদে ও নৌমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ৫ আগস্ট ধানমন্ডিতে বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও প্রধানত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী মিছিল করে। ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিমানবন্দর এলাকায় সড়কে অবস্থান নেয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী সকালে বিক্ষোভ মিছিল করে এবং রাতে মশাল মিছিল করে সরকারের কাছে ৮ দফা দাবি তুলে ধরে।

৬ আগস্ট ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং ডিএসও সংগঠনের কর্মীরা আন্দোলনের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল করে। এছাড়া বহির্বিশ্বে বিভিন্ন দেশে প্রবাসীরাও বিক্ষোভসমাবেশ করেন। সর্বশেষ ৮ আগস্ট ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা গ্রেফতারকৃত আন্দোলনকারীদের মুক্তি চেয়ে ক্লাস বর্জন করে। এরপর আর কোনো বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়নি।

২০১৮ সালে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ৯ দফা–

শিক্ষার্থীরা নৌমন্ত্রীর পদত্যাগের পাশাপাশি সড়কে নিরাপত্তার জন্যে সরকারের কাছে ৯টি দাবি তুলে ধরে।

১. বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো ড্রাইভারকে ফাঁসি দিতে হবে এবং এই বিধান সংবিধানে সংযোজন করতে হবে।
২. নৌপরিবহন মন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।
৩. ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলাচল বন্ধ ও লাইসেন্স ছাড়া চালকরা গাড়ি চালাতে পারবেন না।
৪. বাসে অতিরিক্ত যাত্রী নেয়া যাবে না।
৫. শিক্ষার্থীদের চলাচলে এমইএস ফুটওভারব্রিজ বা বিকল্প নিরাপদ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৬. প্রত্যেক সড়কে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় স্পিডব্রেকার দিতে হবে।
৭. সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছাত্রছাত্রীদের দায়ভার সরকারকে নিতে হবে।
৮. শিক্ষার্থীরা বাস থামানোর সিগন্যাল দিলে থামিয়ে তাদের নিতে হবে।
৯. শুধু ঢাকা নয়, সারাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা করতে হবে।বাসে অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া যাবে না।

বিশেষজ্ঞরা বলেন যে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো যৌক্তিক এবং এগুলো প্রকৃতপক্ষে নাগরিক অধিকার। তবে ৬ নং দফা অনুসারে যেকোনো স্থানে সিগন্যাল দিয়ে বাস থামালে আরো যানজট বাড়াতে পারে বলে তারা আশংকা প্রকাশ করেন। শিক্ষার্থীরা এক্ষেত্রে তাদের জন্য নির্দিষ্ট স্টপেজে বাস থামানোর কথাই বুঝিয়েছে বলে জানায়।

আন্দোলনে রাজনৈতিক হামলা

২০১৮ সালের সংঘটিত নিরাপদ সড়ক আন্দোলন সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক একটি আন্দোলন হয়েছিল। তবে শিক্ষার্থীদের অহিংস এই আন্দোলনে রাজনৈতিক হামলার ঘটনা ঘটে। এই হামলায় অনেক শিক্ষার্থীরা আহত হন। এছাড়া হামলার ঘটনা ঘটে সাংবাদিকদের উপরেও। ওই হামলায় গুরুতর আহত হন প্রথম আলোর প্রতিবেদক আহম্মেদ দীপ্ত ও এসোসিয়েট প্রেস (এপি) এর ফটো জার্নালিস্ট এম এ আহাদ।

এ ঘটনায় অভিযোগ উঠে এক দল হেলমেটধারীরা এই হামলা চালায়। ওই এলাকায় কর্তব্যরত সাংবাদিকরা জানান, পরিস্থিতি এমন হয়েছিল যে, ক্যামেরা দেখলেই তেড়ে আসছিলেন তারা। মাথায় হেলমেট আর হাতে রামদা-কিরিচ। কারো হাতে লাঠিসোঁটা কিংবা রড। দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগ ওই এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে। পুলিশের সঙ্গে সঙ্গে চলছিল তারা।

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের এক বছরেও রূপ বদলায়নি!

হামলার শিকার এপি’র ফটো সাংবাদিক এম এ আহাদ

নিরাপদ সড়কের দাবিতে মাঠে নামা শিক্ষার্থীদের ধরে ধরে পেটাচ্ছিলেন তারা। রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আন্দোলনকারী সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সংবাদ কভারেজের বিষয়টি টের পেয়ে তারা সাংবাদিকদের ওপর হামলে পড়ে। এ সময় অন্তত পাঁচজন সাংবাদিককে মারধর করেছে তারা।

আহত অন্যান্য সাংবাদিকরা হলেন- দৈনিক বনিক বার্তার পলাশ শিকদার, বর্তমানে ইউএনবি এর কর্মরত ফটো সাংবাদিক আবু সুফিয়ান জুয়েল, দৈনিক জনকণ্ঠের জাওয়াদ ও প্রথম আলোর সিনিয়র ফটোগ্রাফার সাজিদ হোসেন।

এছাড়া ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ও আলোকচিত্রীরা ছাত্রলীগ-যুবলীগের যৌথ হামলায় আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া যায়। এদের মধ্যে আহতরা হলেন রাহাত করীম, এনামুল হাসান, মারজুক হাসান, হাসান জুবায়ের ও এন কায়ের হাসিন উল্লেখযোগ্য।

সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষায় গৃহীত পদক্ষেপ

গত বছর নিরাপদ সড়ক আন্দোলন বাংলাদেশে কার্যকর সড়ক নিরাপত্তার দাবিতে ২৯ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত সংঘটিত আন্দোলন সারাদেশের গণবিক্ষোভে রূপ নেয়। ঢাকায় ২৯ জুলাই সংঘটিত এক সড়ক দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিহত দুই কলেজ শিক্ষার্থীর সহপাঠীদের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ পরবর্তীতে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং নৌমন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসে।

আন্দোলনের তীব্র চাপের মুখে ৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তৃতীয় মন্ত্রীসভা একটি খসড়া ট্রাফিক আইন অনুমোদন করে, যে আইনে ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়ি চালিয়ে মানুষ হত্যায় মৃত্যুদণ্ড এবং বেপরোয়াভাবে চালিয়ে কারো মৃত্যু ঘটালে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়। যদিও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বেপরোয়া চালনায় মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছিল। ৮ আগস্টের মধ্যে শহরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।

এদিকে সড়কের শৃঙ্খলা রক্ষায় রাজধানীতে গত রবিবার (১৭ মার্চ, ২০১৯) থেকে শুরু হয় পঞ্চমবারের মতো ট্রাফিক সপ্তাহ। এরই মধ্যে বাস চাপায় একজন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।

এছাড়া সড়ক ও গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে ইতোমধ্যেই একটি কমিটি গঠন করেছে সরকার। ১৫ সদস্যের এ কমিটির নেতৃত্বে থাকছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি ও সাবেক নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের ২৬তম সভায় এ কমিটি গঠন করা হয়।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ কাউন্সিল সভায় সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, কমিটি ১৪ কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেবে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এসব সুপারিশ একে একে বাস্তবায়ন করা হবে।

সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ ও আলোচনা-সমালোচনা

গত বছর নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও উত্তেজনার মধ্যেই ‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮’ -এর খসড়া অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা। ফিটনেসবিহীন ও বিনা লাইসেন্সে গাড়ি চালানোসহ সড়কে নিয়ম ফিরিয়ে আনতে ‘ট্রাফিক পুলিশ সপ্তাহ’ পালিত হয়।

কুর্মিটোলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজের নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারকে সান্তনা ও তাদের পরিবারকে ২০ লাখ টাকার পারিবারিক সঞ্চয়পত্র অনুদান দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এদিকে প্রস্তাবিত সড়ক পরিবহন আইনটি নিয়ে দেখা দেয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। প্রস্তাবিত আইনে, বেপরোয়া গাড়িতে কারও মৃত্যু হলে চালকের পাঁচ বছর জেল হবে। কেউ গুরুতর আহত হলে একই সাজা ভোগ করতে হবে।

তবে পুলিশের তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় চালক উদ্দেশ্যমূলক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তাহলে ৩০২ ধারায় মামলা হবে। এ ধারায় সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড।

ফিটনেসবিহীন ও বিনা লাইসেন্সে গাড়ি চালানোসহ সড়কে অন্য নিয়ম ভঙ্গের সাজাও বেড়েছে নতুন আইনে। তবে মৃত্যু উপত্যকা সড়কে প্রাণহানি রোধে আরো কঠোর আইন হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

এসব বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের জানান, আগের আইনে অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যুর সাজা ছিল তিন বছরের কারাদণ্ড। নতুন আইনে ৩০৪ (খ) ধারায় সাজা দুই বছর বাড়বে। এ ধারায় জামিন অযোগ্য করা হয়েছে। তবে তদন্তে যদি তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায় স্বাভাবিক দুর্ঘটনা নয় উদ্দেশ্যমূলক হত্যা তাহলে ৩০২ ধারায় মামলা হবে। তদন্তকারী কর্মকর্তার প্রতিবেদন ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে আদালত নির্ধারণ করবেন বিচার ৩০২ না ৩০৪ (খ) ধারায় হবে।

তবে খসড়ায় সাজা দুই বছর বাড়লেও একে যথেষ্ট মনে করছেন না নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন।

তিনি বলেন, মালিক-শ্রমিকের স্বার্থই রক্ষা করা হয়েছে। নামের বিচারেই ‘সড়ক পরিবহন আইন’ যথার্থ হয়নি। এটি হওয়ার কথা ছিল ‘সড়ক পরিবহন ও সড়ক নিরাপত্তা আইন’।

তিনি বলেন, আইনে বলা হয়েছে, হত্যা প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ড। কিন্তু সেটা হবে তদন্ত সাপেক্ষে ৩০২ ধারায়। এটা কি আমাদের দেশে আদৌ সম্ভব? ইলিয়াস কাঞ্চনের মতো কেউ যদি মারা যায়, তাহলে ৩০২ ধারায় যাবে। সাধারণ মানুষ তো ওই জায়গায় যেতে পারবে না। রংপুরের একজন শ্রমিক মারা গেলে কেউ ৩০২ ধারায় নেবে?

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের চেয়ারম্যান বলেন, আসলে সুচিন্তিতভাবে মানুষকে ঠকানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে আইনে। লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে ৬ মাসের জেল, আর নকল লাইসেন্স ব্যবহার করলে ২ বছরের জেল। এটা কী ধরনের কথা? তাহলে কে নকল লাইসেন্স দেখাবে, সে তো ধরা পড়লে লাইসেন্স ছুড়ে ফেলে দেবে। আইনে থাকা বৈষম্যগুলো দূর করা জরুরি বলে মনে করেন ইলিয়াস কাঞ্চন।

এদিকে সড়ক পরিবহন আইনে খুশি নন মালিক-শ্রমিক নেতারাও। তারা বলেছেন, সাজা অনেক বেশি কঠোর হয়ে গেছে। এত কঠিন সাজা মাথায় নিয়ে পরিবহন খাত চলতে পারবে না। সড়ক পরিবহন সংগঠনের নেতারা বলেছেন, চালকরা গলায় ফাঁসির দড়ি নিয়ে সড়কে যানবাহন চালাবেন না। তারা আইনটিকে স্বাগত জানাচ্ছেন না।

দ্বিতীয় দফা নিরাপদ সড়ক আন্দোলন

২০১৮ সালের সংঘটিত নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পরেও ক্ষান্ত হয়নি সড়কে গণপরিবহনের নৈরাজ্য। চলতি বছর ২০১৯ সালের ১৯ মার্চ ফের রাজধানীর প্রগতি সরণীতে বেপরোয়া বাস চাপায় প্রাণ যায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)-এর শিক্ষার্থী আবরার আহম্মেদ চৌধুরীর। ২০১৮ সালের সংঘটিত নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের একজন প্রতিবাদী শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি।

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের এক বছরেও রূপ বদলায়নি!

২০১৯ সালে সংঘটিত নিরাপদ সড়ক আন্দোলন

তার মৃত্যুর পর ফের একবার প্রতিবাদে কেঁপে উঠে দেশের ছাত্র সমাজ। প্রথমে আন্দোলনে নামে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরে তারা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়কে আহ্বান জানিয়ে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ডাক দেন।

২০১৮ সালে সড়কে মৃত্যুর রেকর্ড

চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের নেতৃত্বে গঠিত ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা) সংগঠনের প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ২০১৮ সালে সারা দেশের মধ্যে ঢাকায় সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। সারাদেশে ৩ হাজার ১০৩ সড়ক দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ৪ হাজার ৪৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছে কমপক্ষে ৭ হাজার ৮২৫ জন।

সংস্থাটির চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, এর আগে ২০১৭ সালে সড়কে দুর্ঘটনা সংঘটিত হয় ৩ হাজার ৩৪৯টি। সে বছর সড়কে প্রাণ যায় ৫ হাজার ৬৪৫ জনের। ২০১৮ সালে সারা দেশের মধ্যে ঢাকায় সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। রাজধানীতে ৩৩৯ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৩৪৬ জনের। আর দুর্ঘটনায় সবচেয়ে কম প্রাণহানি হয়েছে নবাবগঞ্জে। জেলাটিতে ২০১৮ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়।

গত ২৫ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালে সারা দেশে ৫ হাজার ৫১৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৭ হাজার ২২১ জন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন প্রায় ১৫ হাজার ৪৬৬ জন। এ হিসাবে প্রতিদিন গড়ে ২০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। যাত্রীকল্যাণ সমিতির তথ্যানুযায়ী ২০১৭ সালে ৪ হাজার ৯৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৭ হাজার ৩৯৭ জন; আহত হয়েছেন ১৬ হাজার ১৯৩ জন।

২০১৬ সালে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৪ হাজার ৩১২টি; নিহত হয়েছেন ৬ হাজার ৫৫ জন; আহত হয়েছেন ১৫ হাজার ৯১৪ জন। একইভাবে ২০১৫ সালে ৬ হাজার ৫৮১টি দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত হয়েছেন যথাক্রমে ৮ হাজার ৬৪২ এবং ২২ হাজার ৮৫৫ জন।

এ তথ্যানুযায়ী দেখা যায়, প্রতি বছর সড়কে গড়ে ৭ হাজার মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। কিন্তু সরকারি হিসাবে এ সংখ্যা ৪ হাজারেরও কম। সমিতির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৭ হাজার ২২১ জনের মধ্যে ৭৮৭ জন নারী ও শিশু ৪৮৭।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইন্সটিটিউটের গবেষণা থেকে জানা যায়, দেশের সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনায় নিহতদের ৫৪ শতাংশের বয়স ১৬ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। নিহতদের মধ্যে সাড়ে ১৮ শতাংশ শিশু যাদের বয়স ১৫ বছরের নিচে। পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায় সড়ক দুর্ঘটনায় বছরে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা গেলে বর্তমান প্রবৃদ্ধি বেড়ে জিডিপির পরিমাণ কমপক্ষে ৯-এর ঘরে পৌঁছে যেতে পারত। কিন্তু তা হচ্ছে না। এ বিপুল পরিমাণ ক্ষতি রোধ করতে কী উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে এটাই বড় প্রশ্ন। মনে হচ্ছে দেশে মানুষের জীবনের তেমন মূল্য নেই। প্রতিনিয়ত সব কিছুর মূল্য বাড়ছে, এ অবস্থায় মানুষের জীবনের মূল্য কি ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে? আমাদের গড় আয়ু বাড়ছে, মাথাপিছু আয় বাড়ছে, প্রবৃদ্ধি বাড়ছে, উন্নয়নের মহাসড়কে উঠেছি কিন্তু কিছু মানুষের অদক্ষতা ও ভুলের কারণে আমরা বারবার পিছিয়ে পড়ে।

প্রতিদিন এত দুর্ঘটনা ঘটছে; এসব প্রতিরোধে কী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে? গণপরিবহনে এত নৈরাজ্য কেন? চালকরা এত বেপরোয়া কেন? কোনো কোনো ক্ষেত্রে আইনের যথাযথ প্রয়োগে গড়িমসি কেন? মোটরযান চালানোর কারণে সংঘটিত দুর্ঘটনায় কেউ আহত বা নিহত হলে ওই চালক সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। শাস্তি আরও বাড়ানো হলেই চালকদের বেপরোয়া মনোভাব দূর হতে পারে।

পরিবহন খাতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে মৃত্যুর মিছিল থামবে না। নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পর সরকার সড়ক পরিবহন আইন সংশোধন করে চালকদের শাস্তির মাত্রা কিছুটা বাড়িয়ে সংসদে পাস করার পরপরই পরিবহন শ্রমিকরা ধর্মঘটের ডাক দেয়। কিন্তু এ খাতের বিশেষজ্ঞ ছাড়াও সাধারণ মানুষ মনে করে আইনে শাস্তির পরিমাণ অনেক কম হয়েছে। আর সে কারণেই এরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী দূরপাল্লার চালকদের জন্য যে কর্মঘণ্টা বেঁধে দিয়েছিলেন কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেটিও মানা হচ্ছে না বলে জানা যায়। উল্লেখ্য, জাতিসংঘ ২০১১ থেকে ২০২০ সালকে সড়ক নিরাপত্তা দশক হিসেবে ঘোষণা করেছে। সে হিসেবে ২০১১ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা অর্ধেকে নামিয়ে আনার জন্য যেসব দেশ কাজ করার অঙ্গীকার করেছে তাদের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে এ সংখ্যা না কমে বরং বেড়েই চলেছে। আমাদের প্রশ্ন এ অঙ্গীকার পূরণের জন্য ইতিমধ্যে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে? যেসব পদক্ষেপ ইতিমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে তা কি অঙ্গীকার পূরণের জন্য যথেষ্ট?

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে এ পর্যন্ত অনেক গবেষণা হয়েছে এবং হচ্ছে। বুয়েটের সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইন্সটিটিউট দুর্ঘটনার কারণগুলো চিহ্নিত করেছে। ১৯৯৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা বিশ্লেষণ করে তারা দেখেছেন, দেশে ৫৩ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে। চালকদের বেপরোয়া মনোভাবের কারণ এবং ভুয়া লাইসেন্সধারী চালকের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে ৩৭ শতাংশ। অর্থাৎ চালকদের বেপরোয়া মনোভাব ও অতিরিক্ত গতির কারণে অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটছে। এগুলো যাদের আমলে নেয়ার কথা তারা সেভাবে বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিলে আমাদের জীবন প্রতি মুহূর্তে হুমকির সম্মুখীন হতো না।

ঘরের বাইর বের হলেই আতঙ্কে থাকি নিরাপদে আবার ঘরে ফিরতে পারব কিনা। এ অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে হলে দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। নতুন করে আর কারো যাতে স্বজন হারানোর বেদনায় দিন কাটাতে না হয় তার জন্য যা যা করণীয় তা করতে হবে। সড়কে নিরাপত্তার নিশ্চয়তাটুকু পাওয়ার জন্য আমাদের আর কতকাল অপেক্ষা করতে হবে? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কি সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করবেন?

আস/এসআইসু

Facebook Comments