নিকলীর হাওরে আকাশ ও পানির মিতালি

আলোকিত সকাল ডেস্ক

কিশোরগঞ্জের নিকলীর উপজেলার বেড়িঁবাধ থেকে এখন চোখে পড়ে শুধু দিগন্ত ছোঁয়া জলরাশি। রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের ‘এখানে আকাশ নীল’ কবিতার প্রতিটি পংক্তি যেন মূর্ত হয়ে উঠেছে কিশোরগঞ্জের নিকলীর হাওর এলাকায়।

‘এখানে আকাশ নীল-নীলাভ আকাশজুড়ে সজিনার ফুল/ ফুটে থাকে হিম শাদা-রং তার আশ্বিনের আলোর মতন;/ আকন্দফুলের কালো ভীমরুল এইখানে করে গুঞ্জরণ/ রৌদ্রের দুপুর ভরে;— বারবার রোদ তার সুচিক্বণ চুল/ কাঁঠাল জামের বুকে নিঙড়ায়ে;— দহে বিলে চঞ্চল আঙুল/ বুলায়ে বুলায়ে ফেরে এইখানে জাম লিচু কাঁঠালের বন’।

উপজেলার বেড়িবাধেঁ হাওরের জলরাশি আর সাদা মেঘ মিলে তৈরি করে অপূর্ব সৌন্দর্য। বর্ষার এ সময়টায় হাওরে নৌকায় বসে দুপুরে রোদের ঝিলিক আর মাঝে-মধ্যেই নীল আকাশে দলছুট সাদা মেঘের ওড়াওড়ি মুগ্ধ করে সবাইকে।

সরেজমিনে হাওর ঘুরে দেখা যায়, নিকলীর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখন বর্ষার পানিতে টইটম্বুর। যতোদূর চোখ যায় পানি আর পানি, আর মাথার ওপরে আকাশে নীলের ভিড়ে সাদা মেঘের ভেলা। বির্স্তীর্ণ হাওরে কোথাও কোথাও কিছু বসতি, দূর থেকে দেখলে মনে হয় কোনো দ্বীপ। এসব বসতিতে বসবাসকারী মানুষের বর্ষার পুরোটা সময় যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হয়ে ওঠে নৌকা বা ইঞ্জিনচালিত ট্রলার। বর্ষায়, বিশেষ করে হাওরের সৌন্দর্য এখানকার বাসিন্দাদের তেমন আলোড়িত করে না। তবে এসময়টায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাওরে ছুটে আসেন কয়েক হাজার প্রকৃতিপ্রেমী। ভরা বর্ষায় হাওরের ভরদুপুরের সৌন্দর্যও দেখার মতো। মাঝে-মধ্যেই মৃদু বাতাসে হাওরের পানিতে ছোট ছোট ঢেউ খেলা করে। বয়ে যায় হালকা শীতল হাওয়া। এর টানেই ছুটে আসেন পর্যটকরা। ঘুরে বেড়ান হাওরের বুকে, দ্বীপসদৃশ লোকালয়ে।

এ ব্যাপারে নিকলী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মুছাম্মত্ শাহীনা আক্তার জানান, হাওর বাংলাদেশের নাভিমূল। হাওরের আকাশ-বাতাস-প্রকৃতিই হলো বাংলাদেশ। হাওরকে না দেখলে বাংলাকে চেনা যাবে না।

আস/এসআইসু

Facebook Comments