নারায়ণগঞ্জে বাড়ছে এইডস রোগী

আলোকিত সকাল ডেস্ক

নারায়ণগঞ্জে বাড়ছে এইডস রোগীর সংখ্যা। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ শহরে এই আশঙ্কায় ২২ জনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এরা সবই মাদকাসক্ত। এর আগে রাজধানী ঢাকায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের এইডস/এসটিডি কর্মসূচি আয়োজিত এক অ্যাডভোকেসি সভা থেকে বলা হয়েছিল এইডস ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত দেশের ২৩ জেলার মধ্যে নারায়ণগঞ্জ অন্যতম।

ওই সময় নারায়ণগঞ্জে মাত্র ৪জন এইডস রোগী শনাক্ত করা হয়েছিল। এরা নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন জানান, মাদক একটি মৃত্যুর নাম। এখন জানতে পারলাম এ মৃত্যুর সঙ্গে আরেকটি মৃত্যুর সম্পর্ক রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ সুপার কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। ফলে আমার থানায় প্রতিদিনই মাদক মামলা হয়। প্রতিটি অফিসারই মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করেন। থানা এলাকার প্রতিটি স্থানেই পুলিশ অভিযান চালায়। মাদকের সঙ্গে যারাই সম্পৃক্ত তাদের কাউকেই ছাড় দেয়া হয় না। মাদকের আড্ডা যেখানেই বসে থানায় কেউ খবর দিলেই ব্যবস্থা নেয়া হয়।

এইডসে আক্রান্ত এসব রোগীদের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, লাইট হাউজ নামে একটি সংগঠন আমাদের সহযোগিতায় নারায়ণগঞ্জে শনাক্ত হওয়া ৪জন এইডস রোগীর চিকিৎসা করাচ্ছেন। তাদের অবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা ভালো। তবে তাদের রক্তের মধ্যে এইডসের জীবাণু রয়েছে। একেবারে তাদের সুস্থ করে তোলা সম্ভব নয়। যতটুকু সম্ভব ততটুকু চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, সম্প্রতি আরও ২২জনকে আশঙ্কা করা হচ্ছে তারা এইডসে আক্রান্ত হয়েছে। তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। যদি এইডসে আক্রান্ত হয়ে থাকে তাহলে তাদেরও চিকিৎসার আওতায় আনা হবে। এই ২২ জন মাদকাসক্ত। ধারণা করা হচ্ছে, যদি তারা এইডসে আক্রান্ত হয় তাহলে মাদকের ব্যবহার ও সেবন থেকে আক্রান্ত হয়েছে।

মাদকাসক্তরা মাদকসেবনের সরঞ্জাম একাধিক ব্যক্তিরা ব্যবহার করেন এবং তারা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে না। এইডসের জীবাণু তাদের খুব সহজেই ছুঁতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আমিনুল ইসলাম আরও জানান, নারায়ণগঞ্জ জেলার ৫টি উপজেলার মধ্যে শুধু নারায়ণগঞ্জ সদর ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এইডস আক্রান্ত রোগী রয়েছে। জেলার অন্যান্য উপজেলা ও পৌরসভায় এইডস আক্রান্ত রোগী নেই। মাদক ব্যবসায়ীদের নির্মূলের পাশাপাশি মাদক সেবনকারীদেরও সুস্থ জীবনের ফিরিয়ে আনতে ব্যবস্থা নিতে হবে। আর নয়তো মাদকাসক্তদের কাছ থেকে এইডস ছড়িয়ে পড়বে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments