নাজিরহাট হালদা সেতু ভেঙে পড়ার আশঙ্কা

আলোকিত সকাল ডেস্ক

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত শতবর্ষী নাজিরহাট পুরোনো হালদা সেতুটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এটি ভেঙে পড়লে ফটিকছড়ি ও হাটহাজারী উপজেলার মানুষ যোগাযোগের দিক থেকে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সমপ্রতি বন্যায় ব্রিজটির অবস্থা অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। ব্রিজটি ১৯৯৪ সালেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে সওজ কর্তৃপক্ষ। এছাড়া গত এক বছর ধরে ব্রিজটি দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসন।

উত্তর চট্টগ্রামের অন্যতম বাণিজ্য কেন্দ্র নাজিরহাট বাজারের মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত হালদা নদীর ওপর ব্রিজটি ১৯১৯ সালে ব্রিটিশ সরকার নির্মাণ করেন। উপর্যুপরি বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ব্রিজটি ইতিমধ্যে পূর্বপান্তে ও মাঝখান দিয়ে বেশ কয়েক জায়গায় দু্ই/তিন ফুট করে দেবে গেছে। যে কোনো সময় এটি ভেঙে পড়তে পারে। তারপরও প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে ব্রিজটির ওপর দিয়ে চলাচল করছে। বর্তমানে এ সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় বৃহত্তর ফটিকছড়ি ও হাটহাজারী উপজেলার হাজার হাজার জনসাধারণ চলাচলে অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছেন।

উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্রিজটির গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। তখন সমগ্র চট্টগ্রামের মানুষের ভারতে যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম ছিল এ ব্রিজটি। এটি দিয়ে হাজার হাজার শরণার্থী ভারতে যায়। এছাড়া এটি দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সময় মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, মেজর রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম, মির্জা আবু মনসুরের মতো বীর সেনানীরা এ ব্রিজ দিয়েই মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে যান। সর্বোপরি তত্কালীন কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের ট্রান্সমিটার যা দিয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করা হয়েছিল সেই ট্রান্সমিটারও এ ব্রিজ দিয়েই ভারতে নেওয়া হয়েছিল। এছাড়া ফটিকছড়ির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাজিরহাট-কাজিরহাট সড়কের গোড়াতেই এ ব্রিজটির অবস্থান। ব্রিজটির গুরুত্ব অপরিসীম বলে নাজিরহাট পৌরসভার মেয়র এস এম সিরাজ-উদ দৌলা জানান। সুয়াবিল এলাকার স্কুলশিক্ষিকা সাথী আক্তার বলেন, ব্রিজটি যদি ভেঙে পড়ে তাহলে সুয়াবিল, হারুয়ালছড়ি, ফরহাদাবাদ প্রভৃতি ইউনিয়নবাসীর দ্বীপবন্দি জীবনযাপন করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ারুল আজিম জানান, স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাক হানাদারবাহিনী ডিনামাইট দিয়ে সেতুটির একাংশ ধ্বংস করে দেয়। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু সরকার ১৯৭২ সালে সেতুটি মেরামত করে পুনঃযোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করে। ৩৩০ ফুট দৈর্ঘ্য ব্রিজটি দ্রুত পুনঃনির্মাণ করা নাজিরহাট, সুয়াবিল এবং আশপাশের এলাকার মানুষের প্রাণের দাবি। ফটিকছড়ি উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, বছরখানেক আগে সওজ ব্রিজটির মালিকানা ছেড়ে দিলে এলজিইডি এটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। তার ধারাবাহিকতায় এলজিইডি পুরোনো ব্রিজটি ভেঙে সেখানে নতুন একটি পাকা ব্রিজ নির্মাণের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা যাচাইসহ আনুষঙ্গিক সব কাজ সেরে ব্রিজ নির্মাণের একটি নকশা এলজিইডির সদর দপ্তরে পাঠায়। কিন্তু সদর দপ্তর হালদা নদী যেহেতু এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মত্স্য প্রজনন কেন্দ্র, কাজেই নদীর মাঝখানে কোনো খুঁটি না দিয়ে এক স্প্যানযুক্ত একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য বুয়েটের বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের কাছে একটি ডিজাইন চেয়েছে। ডিজাইন পাওয়া গেলে এলজিইডি পরর্তী প্রদক্ষেপ নেবে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments