নবীনগরে আকাশে মেঘ দেখলেই বিদ্যুৎ পালিয়ে যায়

আবু সুফী, স্টাফ রিপোর্টার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিংয়ের যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে জন জীবন। আকাশে মেঘ জমলেই কিংবা সামান্য বাতাস শুরু হলেই পালিয়ে যায় বিদ্যুৎ। এই প্রচন্ড তাপদাহে বিদ্যুতের বেলকিবাজীর শেষ নেই। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে।

পবিত্র রজমান মাসে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেওয়া হবে, এমন প্রচারপত্র বিলি করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পল্লী বিদ্যুৎ নবীনগর জোনাল অফিস। বাস্তবে দেখা গেল ইফতার ও তারাবি নামাজের সময়ই সব চেয়ে বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। সব চেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাচ্ছে কোমলমতি শিশুরা। গভীর রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে প্রচন্ড গরমের যন্ত্রণায় প্রতিটি বাড়িতে শোনাযায় শিশুদের আত্বচিৎকার। স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসায় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা রয়েছে চরম বিপাকে। নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ভোগান্তি।

ঘন ঘন এমন লোডশেডিংয়ের কারণে কম্পিউটার, ফ্রিজ, পানির মোটর, ফটোকপি মেশিনসহ বিদুৎ চালিত যন্ত্রপাতি বিকল হওয়ার পথে। এছাড়াও বাড়তি ভোগান্তি হিসেবে যোগ হয়েছে অতিরিক্ত ভুতুরে বিল। একজনের বিল আরেকজনের নামে তৈরি করা দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুতের নতুন সংযোগ ও খুঁটি সরানোর নামে একটি মহল হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল পরিমান অর্থ। বিদ্যুত অফিসের অভিযোগ কেন্দ্রে ফোনে যোগাযোগ করে পাওয়া যেন আলাউদ্দিনের চেরাগ।

জনগনের এমন ভোগান্তি দেখার যেন কেউ নেই। ফলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। লোডশেডিং এর যন্ত্রনায় ফুঁসে উঠছে সাধারণ জনগন, যে কোন সময় নবীনগরে পল্লী বিদ্যুতের অফিস ঘেরাও হতে পারে এমন কথাও শোনা যাচ্ছে। অপর দিকে প্রচারপত্র বিলি করে পবিত্র রজমান মাসে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় নবীনগর জোনাল অফিসের ডিজিএম নীল মাবধ বনিককে দ্রুত নবীনগর থেকে প্রত্যাহারের দাবীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় তুলেছেন নবীনগরবাসী। অভিযোগ অস্বীকার করে নবীনগর জোনাল অফিসের ডিজিএম নীল মাধব বণিক বলেন, ঝড় বৃষ্টির কারণে লাইনে এই সমস্যা হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুত দেওয়ার।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box