নতুন নোটে বেশি নিচ্ছে হাজারে একশ টাকা

আলোকিত সকাল ডেস্ক

ঈদের বাকি আর দুই দিন। এই ঈদে আদরের ছোট বাচ্চাদের সালামি বা বখশিশ দিতে নতুন টাকা প্রয়োজন। তাই নতুন টাকা সাজিয়ে বসেছেন এক বিক্রেতা। ছবিটি রাজধানীর গুলিস্তান থেকে তোলা -ফোকাস বাংলা
পবিত্র ঈদুল ফিতরের বাকি আর মাত্র দুই-তিন দিন। ঈদ উপলক্ষে কেনাকাটার পাশাপাশি প্রিয়জনদের সালামি দিতে অনেকেই সংগ্রহ করছেন নতুন টাকা। নতুন নোট নিতে এক হাজারে বাড়তি দিতে হচ্ছে একশ টাকা। তবুও মানুষ হুমড়ি খেয়ে সংগ্রহ করছেন নতুন নোট।

রোববার বেলা ২টায় রাজধানীর গুলিস্তানে দেখা যায় এমন দৃশ্য। গুলিস্তান শপিং কমপেস্নক্সের সামনে নতুন টাকার নোট নিয়ে সারি সারিভাবে বসে আছেন দোকানদাররা। কে কার আগে ক্রেতা ডেকে নিজের দোকানে আনতে পারে সে প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত তারা। সব দোকানদারের মুখে একই কথা যত নিবেন নেন। হাজারে একশ টাকা বেশি দিতে হবে।

কারণ হিসেবে তারা বলছেন, এখন ব্যাংক বন্ধ। নতুন নোট আনতে বাড়তি টাকা দিতে হয়েছে। হাজারে আশি টাকা বেশি দিতে হয়েছে। তারা ২০ টাকা লাভে ছেড়ে দিচ্ছেন।

নতুন নোট নিতে পুরান ঢাকা থেকে এসেছেন নয়ন মজুমদার (৪৫)। দুই হাজার দুশ টাকা দিয়ে ১০ টাকার দুটি বান্ডিল নিয়েছেন। তিনি বলেন, ক’দিন পরই ঈদুল ফিতর। বাসায় ছেলেমেয়ে রয়েছে। তাদের নতুন নোট দিতে হবে। এছাড়া আত্মীয়স্বজন রয়েছে তাদেরও নতুন নোট দিতে হবে। হাজারে একশ টাকা বেশি নিয়েছে। তবে তাতেও খুশি।

ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার থেকে নতুন নোট নিতে গুলিস্তানে এসেছেন শাহেরা খাতুন। বয়স ৫৫-এর কাছাকাছি। পেশায় স্কুল শিক্ষিকা। তিনি চার হাজার ৪০০ টাকা দিয়ে নতুন নোটের চারটি বান্ডিল নিয়েছেন। বান্ডিলে মধ্যে রয়েছে ১০, ২০, ৫০ ও ১০০ টাকার নোট। নতুন নোট নেয়ার পর বলেন, ঈদে ছেলেমেয়ে, নাতি, নাতনি, ভাতিজা ও ভাতিজিসহ নিকটাত্মীদের সালামি দিতে নতুন নোট নিয়েছেন। প্রতি বছর গুলিস্তান থেকে নতুন নোট সংগ্রহ করেন। তারা হাজারে একশ টাকা বেশি নিচ্ছে। গতবার হাজারে ৮০ টাকা বেশি নিয়েছে। এবার একটু বেশি নিচ্ছে।

হাজারে একশ টাকা কেন বেশি নিচ্ছেন এমন প্রশ্ন করা হয় গুলিস্তানের নতুন নোট ব্যবসায়ী আব্দুর রহিমকে। তিনি বলেন, সব ব্যাংক বন্ধ।

ব্যাংক বন্ধের আগেই বেশি টাকা দিয়ে নতুন নোট বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নিয়ে এসেছেন। যেহেতু তারা বেশি টাকা দিয়ে নতুন নোট এনেছেন সেহেতু তারাও বেশি টাকা নিচ্ছেন।

ব্যবসায়ী মানিক মিয়া বলেন, তারা ব্যাংক বন্ধের আগে বেশি টাকা দিয়ে নতুন নোট এনেছেন। হাজারে ৮০ টাকা বেশি দিতে হয়েছে। তারা ২০ টাকা লাভে ছেড়ে দিচ্ছেন।

ব্যবসায়ী জমিন হওলাদার বলেন, সামনে ঈদ। ঈদে নতুন নোটের ব্যবসা খুবই ভালো হচ্ছে। নতুন নোট আনতে তাদের বেশি টাকা দিতে হয়েছে। তাই তারা হাজারে একশ টাকা বেশি নিচ্ছেন।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box