দেশে এখন আতঙ্কের নাম এডিস মশা ,দাম বেড়েছে মশা মারার সামগ্রীর

 

০৩ আগস্ট ২০১৯, ০৯:৫২

দেশে এখন আতঙ্কের নাম এডিস মশা। এর জীবাণুতে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ২১ হাজার ২৩৫ জন। সরকারি হিসেবে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ১৪ জন তবে বেসরকারি হিসেবে এ সংখ্যা অর্ধশত ছাড়িয়েছে। ডেঙ্গু আতঙ্কে বাসা-বাড়িতে রাতের পাশাপাশি দিনের বেলায়ও মশারি ব্যবহার করছেন অনেকে। মশার কামড় থেকে বাঁচতে মশা নিবারণের পণ্য কয়েল, ইলেকট্রিক ব্যাট ও স্প্রে ব্যবহার করছেন। একই চিত্র হাসপাতাল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেল এমনকি অফিস আদালতেও। চাহিদা বাড়ায় এসব পণ্যের দামও বেড়েছে।

এর বাইরে মানুষের অসহায়ত্বকে কাজে লাগিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরাও নির্দিষ্ট দামের বেশি নিচ্ছেন ক্রেতাদের কাছ থেকে। গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে রাজধানীর পুরান ঢাকা, ধানমণ্ডি, নিউমার্কেট ও কারওয়ান বাজারের বেশ কয়েকটি খুচরা ও পাইকারি দোকানে খোঁজ নিয়ে জানা যায়- প্রতিটি পণ্যের চাহিদা ও দাম বৃদ্ধি পেয়েছে গত এক সপ্তাহে। বাজারে বর্তমানে প্রায় ৪৮টি মশার কয়েল বাজারে চালু রয়েছে। এর মাঝে কাটতি রয়েছে ১৫টি ব্র্যান্ডের কয়েলের। এসব কয়েলের দাম বেড়েছে।৪ টাকার কয়েল বিক্রি হচ্ছে ৭ টাকায়। বাজারে নিম পাতার কয়েল ও বুস্টার কয়েলের চাহিদা বেশি।

নিম পাতার একটি কয়েলে দাম রাখা হচ্ছে ৮ টাকা। যা আগে ছিল ৫ টাকা। আর বুস্টার কয়েলের দাম ছিল প্রকারভেদে ৮ থেকে ১০ টাকা, যা এখন বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ১৫ টাকায়। গতকাল সকাল ১১টার দিকে ২০ কার্টন বিভিন্ন কোম্পানির কয়েল নামাতে দেখা যায় গ্রীন রোডের মুদির দোকানদার ইকবাল হোসেনকে। তিনি ইকবাল ভ্যারাইটিস স্টোরের স্বত্বাধিকারী। তিনি বলেন, এই এক সপ্তাহে প্রায় ২৫ কার্টন কয়েল বিক্রি হয়েছে। এর আগে ২৫ কার্টন কয়েলের বিক্রি হতে সময় লাগত দেড় থেকে তিন মাস। তিনি আরো বলেন, আমি অর্ডার দিয়েছিলাম ৩০ কার্টনের আর আমাকে দেয়া হলো ২৫ কার্টন কয়েল।

মশা দমনের স্প্রে বাজারে চলে প্রায় ৩০টি কোম্পানির। আর ক্রেতাদের কাছে প্রিয় প্রায় ১০টি ব্র্যান্ড। প্রচলিত ব্র্যান্ডের এসব স্প্রের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে বোতল প্রতি প্রায় ৫০ থেকে ৬০ টাকা। এসব স্প্রের বোতলের গায়ে আগের মূল্য লেখা থাকলেও, কেন নেয়া হচ্ছে অধিক মূল্য? এই প্রশ্নের জবাবে কারওয়ান বাজারের খুচরা বিক্রেতা রমজান আলী দোষ চাপান পাইকারি বিক্রেতাদের ঘাড়ে। আবার কারওয়ান বাজারের পাইকারি বিক্রেতা মো. ইয়াসির পাল্টা দোষ চাপান ডিলারদের ঘাড়ে। কয়েল ও স্প্রের রয়েছে বিভিন্ন ক্ষতিকর দিক। সেক্ষেত্রে মশারিতেই বেশি ঝুঁকছেন নগরবাসী। মশারির রয়েছে আবার বিভিন্ন ধরন। যেমন- ম্যাজিক মশারি, টানা মশারি, গোল মশারি, রক্সি মশারি, বেবি মশারি ইত্যাদি। বাজারে সব থেকে এখন বেশি চলছে ম্যাজিক মশারি। এই মশারির উপরের অংশ বেশ মসৃণ। ফলে ফ্যানের বাতাস সহজে ভেতরে প্রবেশ করে। এই মশারির দাম সপ্তাহখানেক আগে আকার ও প্রকার ভেদে ৬০০-৭০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকায়। আর অন্যান্য মশারি বাজারে আকার ও প্রকার ভেদে দাম ছিল ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা। এখন যেটির মূল্য দাঁড়িয়েছে ৫০০ থেকে ১৫০০ টাকায়।

শুক্রবার কারওয়ান বাজারে বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে ফুটপাতে ম্যাজিক মশারি বিক্রি করছিলেন শামসুদ্দীন। তিনি জানান, আগে তিনি ফেরি করে লুঙ্গি, টি-শার্ট, ছাতা বিক্রি করতেন। কিন্তু এখন চাহিদার কারণে বিক্রি করছেন মশারি। তিনি আরো জানান, সারাদিনে বিক্রি হয়ে ৫০টির অধিক মশারি। তার ভাষ্য অনুযায়ী প্রতিটি মশারিতে লাভ হয়েছে ১শ’ টাকা। মশা মারার ইলেকট্রনিক র‌্যাকেট ব্যাটের চাহিদাও ব্যাপক। মানভেদে এই ব্যাটের দাম সপ্তাহখানেক আগে ছিল ২০০ থেকে ৫০০ টাকা। তবে এখন তার দাম হয়েছে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা। আবার চাহিদা বেড়েছে মশানাশক লোশন ও আর্ম গ্লাভসের। লোশনের দাম প্রায় দ্বিগুণ হলেও অপরিবর্তিত আছে গ্লাভসের দাম।

কিন্তু ক্রেতারা অভিযোগ করছেন গায়ের মূল্য থেকে বেশি দামে মশা নিবারণের পণ্য কিনলেও কোনো কাজ হচ্ছে না বলে জানান। বিশেষ করে কয়েল নিয়ে তাদের অভিযোগ অনেক। মশার কয়েল কেনা নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতার এমন প্রশ্নোত্তরে রাজধানীর গ্রীন রোড এলাকার একটি মুদি দোকানে। পকেটের টাকা খরচ করে কয়েল কেনা ও তাতে কাজ হওয়া, না হওয়া নিয়ে এমন বিতর্ক এখন রাজধানীর প্রায় প্রতিটি এলাকার নিয়মিত চিত্র হয়ে উঠেছে। কাঁটাবনে একটি দোকান ‘আহসান স্টোর’।

এর বিক্রেতা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন যত কাস্টমার আসে তাদের বেশিরভাগই বিভিন্ন পণ্যের পাশাপাশি কয়েল কিনে থাকে। এটা একটা সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সে হিসেবে আমার দোকানেই প্রতিদির ৩০ থেকে ৪০ প্যাকেট কয়েল বিক্রি হয়।’ একই এলাকার আরেক বিক্রেতা বললেন, পরিবারের খাদ্য সংস্থানের জন্য চাল না কিনে যেমন উপায় নেই, তেমনি এখন কয়েল ছাড়া এক দণ্ডও চলে না। শুধু সাধারণ কয়েল নয়, মশা তাড়াতে ইলেকট্রিক কয়েল, ইলেকট্রিক ব্যাট, মশারি- সব কিছুরই এখন রমরমা বাণিজ্য।
গুলিস্তানে জিপিওর উল্টো পাশে ফুটপাতে সারিবদ্ধ হয়ে কয়েকটি মশারির দোকান বসে। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন মানের মশারি দেড় শ’ থেকে তিন শ’ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এক দোকানের বিক্রেতা তানভীর বলেন, এখন মশারি বেচার মৌসুম। মশা বাড়ছে, বিক্রিও বাড়ছে। এই দোকান থেকেই ৩০ থেকে ৩৫টা যায় প্রতিদিন।

গুলিস্তানে সুমন সুপার মার্কেটের জিরকন শোরুমের প্রোপাইটর আকরাম উদ্দিন বলেন, মশারি বিক্রি বেশ জমজমাট। নিয়মিত বিক্রি হচ্ছে। ফুলবাড়িয়ার সিটি সুপার মার্কেটের নিচতলায় দোকানগুলোতে পাইকারি দরে শুধু মশারি ও মশারির কাপড় কিনছে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা দোকানিরা। প্রতিটি দোকানের সামনেই ভিড় লেগে আছে। মার্কেটের সুমন এন্টারপ্রাইজের বিক্রেতা শামীম মিয়া বলেন, ‘গতকাল ৬৫ হাজার টাকার মশারি বিক্রি করেছি। প্রতিদিন বশি ভালো বিক্রি হচ্ছে।’

এদিকে খুচরা বাজারে কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্প্রের মধ্যে অ্যারোসল, মশার সাধারণ ও ইলেকট্রিক কয়েল এবং মশারির বিক্রি বেড়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে|

সুত্র মানব কন্ঠ

Facebook Comments