দেশের যে রুটের ট্রেন এটি

88

ঘড়ি চক্রে যেমন নতুন একটি দিনের সূচনা হয় তেমনি ভোরের স্নিগ্ধতা আর পাখির কলরব প্রতিটি মানুষের মনে নতুন প্রাণের উচ্ছ্বাস জাগিয়ে তোলে। ঠিক সেভাবেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘুম ভাঙে শাটলের হুইসেলে। মনে হয় যেন এই একটা হুইসেলই এক ঝাঁক পাখি হয়ে পুরো ক্যাম্পাসের কানে কানে বলে যায়, -“সকাল তো হয়েই এলো! আরো ঘুমিয়ে থাকবি রে- বোকা?” চবির অসংখ্য ঐতিহ্যের মধ্যে একটি হলো এই শাটল।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৬ সালে। শুরুর দিকে এখানে শাটল ট্রেন ছিল না। তখন ছাত্র-ছাত্রীদের অনেক কষ্ট করে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হতো। বিশেষ করে যারা শহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতো। বিশ্ববিদ্যালয় বাসে করে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে যাতায়াত করতে হত। বাসের সংখ্যাও পর্যাপ্ত ছিল না। যার দরুণ শিক্ষার্থীদের অনেক কষ্টের সম্মুখীন হতে হতো। এরপর দেখতে দেখতে অনেক বছর পেরিয়ে যায়। দেশ স্বাধীন হবার পর ১৯৮০ সালের দিকে তৎকালীন সরকার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু করেন এই ঐতিহ্যবাহী শাটল ট্রেন; যা ইতিহাসের পাতায় যুক্ত করে আরেক নতুন অধ্যায়। তখন এমন লাল রঙের শাটল ট্রেন এই রুটে চলাচল করতো।

প্রতিদিন সকালে শহরের বটতলী স্টেশন থেকে এক জোড়া শাটল ক্যাম্পাসে উদ্দেশে যাত্রা শুরু করতো ট্রেনটি। শাটলের এই ৬০ মিনিটের যাত্রা কত না স্মৃতির সাক্ষী হয়ে আছে! হয়তো কারো প্রথম প্রেম কিংবা কারো বিচ্ছেদের সাক্ষী এটি। তাই তো, শাটল আর চবির শিক্ষার্থীরা যেন একসূত্রে গাঁথা। কেননা হাসি-কান্না আর বন্ধুত্বের এক মিলনমেলা এই শাটল। শাটল ট্রেনের বগির পাটাতন শিক্ষার্থীদের বাদ্যযন্ত্র। বগির পাটাতন পিটিয়ে, শিষ বাজিয়ে গানের সুর তুলে শিক্ষার্থীরা। দেশের বেশ কয়েকজন তারকা শিল্পী গড়ে উঠেছেন এই শাটলকে ঘিরে। নকিব খান, পার্থ বড়ুয়া, এস আই টুটুলের মতো শিল্পীরা এই শাটলের হাত ধরেই উঠে এসেছেন।

একটা সময় শাটলের গান শিক্ষার্থীদের যাতায়াতকে করতো মধুময়। ওসব গানের কথা, সুরে খুঁজে পাওয়া যেত প্রাণ। আবেগ জড়ানো সুরে ভাওয়াইয়া, দেশাত্ববোধক, বাউল, নজরুল, রবীন্দ্র, কবিগান, হিন্দি, ইংরেজি গানে শাটলের বগিগুলো যেন একেকটা শিল্পীর মঞ্চ।

উল্লেখ্য, বিশ্বের মাত্র দুটি বিশ্ববিদ্যালয় যাদের নিজস্ব ট্রেন ব্যবস্থা আছে- একটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকো ইউনিভার্সিটি আর দ্বিতীয়টি হলো বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

Facebook Comments