দেবীদ্বার থানা পুলিশ শ্রমিক সেজে গণধর্ষণ মামলার অন্যতম আসামী আলীমকে গ্রেফতার

এ আর আহমেদ হোসাইন(দেবীদ্বার-কুমিল্লা)প্রতিনিধি

দেবীদ্বার থানা পুলিশ শ্রমিক সেজে গণধর্ষণ মামলার অন্যতম আসামী আলীমকে গ্রেফতার করেছে। বুধবার বিকেলে দেীবদ্বার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মেজবাহ উদ্দিন’র নেতৃত্বে উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মোঃ রুহুল আমিন, কনস্টেবল মোঃ মনির হোসেন অভিনব কৌশলে শ্রমিক সেজে সূর্য়পুর গ্রামের গণধর্ষণ মামলার অন্যতম আসামী মোঃ আলিম(২৮)কে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতার হওয়া আলিম সূর্জপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলাম’র পুত্র।

উল্লেখ্য যৌণনিপিড়নের ঘটনাটি গত ১৮ জানুয়ারী সংঘঠিত হলেও নানা প্রতিবন্ধকতা প্রতিপক্ষের ভিতি প্রদর্শনের কারনে মামলা দায়ের করার সাহস পায়নি। অবশেষে গত ১০ মে গৃহবধূ তার স্বামী সহ দেবীদ্বার থানায় আসেন এবং ভিক্টিম গৃহবধূ (১৯) বাদী হয়ে উপজেলার সূর্যপুর গ্রামের মৃতঃ শামসুল হক’র পুত্র মোঃ নবীরুল মেম্বার(৩৯), একই গ্রামের মোঃ আব্দুল হাকিম’র পুত্র মোঃ আকাশ(৩০), মোঃ সিরাজুল ইসলাম’র পুত্র মোঃ আলিম(২৮), মোঃ আঃ মালেক (মালুমিয়া)’র পুত্র মোঃ মোস্তফা, মুরাদনগর উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামের মোঃ বাবুল খাঁন’র পুত্র মোঃ শহিদ খাঁন প্রকাশ পাখি(৩২), সুলতান আহাম্মদ খন্দকার’র পুত্র মোঃ শমীম খন্দকার(২৮), অজ্ঞাতনামা আরো দু’জন সহ মোট ৮জনকে অভিযুক্ত করে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলা তদন্তভার দেয়া হয় অফিসার ইনচার্জ ওসি তদন্ত মেজবাহ উদ্দিনকে।

এর আগে ওই ঘটনায় পুলিশ ১০ মে অভিযান চালিয়ে উপজেলার ১২ নং ভানী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড মেম্বার সূর্য্যপুর গ্রামের মৃত: সামসুল হকের পুত্র মোঃ নবীরুল মেম্বার (৩৯) এবং মুরাদনগর উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামের মোঃ বাবুল খানের পুত্র মোঃ শহিদ খান পাখী (৩২)কে গ্রেফতার করে ১১ মে কুমিল্লা আদালতে হাজির করা হয়।

তাদের কুমিল্লা ৪নং বিচারিক আমলী আদালতের জেষ্ঠ্য বিচারক রোকেয়া বেগম’র আদালতে অভিযুক্তরা ধর্ষণের সত্যতা ও দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেছে। বিচারক রোকেয়া বেগম তাদের জবানবন্দি ১৬৪ ধারায় নথিভূক্ত করে অভিযুক্তদের জেল হাজতে প্রেরনের নির্দেশ দেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত ১৮ জানুয়ারী যৌননিপিড়নের শিকার ওই গৃহবধূ (১৯)। ওই দিন তার স্বামী মোঃ ইউছুফ খান’র সাথে মুরাদনগর উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের শ্বশুর বাড়ি থেকে কুমিল্লা শহরের ছোটরা পুরাতন বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সিএনজি চালিত অটো রিক্সাযোগে মাধাইয়া বাজরে যাচ্ছিল। বিকাল প্রায় সাড়ে ৩টায় সূর্যপুর বাজারের উত্তর পার্শ্বের বেলাল হোসেনের শিহাব ষ্টোর্স’র সামনে মোঃ আকাশ সহ অজ্ঞাতনামা আরো দু’জন তাদের সিএনজি গতিরোধ করে এবং তারা স্বামী-স্ত্রী কিনা নানা জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিবাহের কাবিননামা দেখতে চায়।

পরে তাদেরকে সূর্যপুর বাজারের রাসেল ফরাজীর সততা ভ্যারাইটিজ ষ্টোর্স’র পেছনে নিয়ে যায়। তাদের উদ্ধারের জন্য মুরাদনগর উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামের মোঃ সোহেল নামে এক লোকের মোবাইল ফোনে শহিদ খাঁন পাখি(৩২) এবং একই গ্রামের খন্দকার বাড়ির মোঃ শমীম খন্দকার(২৮)কে সংবাদ দিলে তারা এসে তাদেরকে উদ্ধার না করে সন্ত্রাসীদের পক্ষ নেয়। কাবিন নামা ভুয়া অবিহিত করে তাদের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা চাদা আদায় করে। নবীরুল মেম্বার ভিক্টিমের স্বামী মোঃ ইউছুফ খানকে জোরপূর্বক একটি সিএনজি যোগে তার বাড়ীতে পাঠিয়ে দেয় এবং ভিক্টিম (১৯)কে বাস যোগে কুমিল্লা শহরে তার পিত্রালয়ে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে।

ওইদিন রাত অনুমান সাড়ে ৯টায় নবীরুল মেম্বার মোঃ শহিদ খাঁন পাখি ও মোঃ আকাশ ভিক্টিমকে নিয়ে সাহারপাড় গ্রামের মাঝিবাড়ীর দক্ষিন পাশে মোস্তফা’র পরিত্যাক্ত ঘরের দক্ষিন পাশের নিয়ে নবীরুল মেম্বার, আকাশ, শাহিদ খাঁন পাখি, শামীম, মোস্তফা, আলীম সহ অজ্ঞাতনামা আরো দু’জন সহ ৮জন রাতভর পালাক্রমে একাধিকবার ধর্ষণ করে।
ভিক্টিম (১৯) জানান, আমাকে ছেড়ে দেয়ার অনেক আকুমি মিনুতি তাদের কান স্পর্শ করেনি। আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ওরা একাধিকবার ধর্ষণ করে। নবীরুল মেম্বার ও অন্যান্যদের হাতেপায়ে ধরে জীবন ভিক্ষা চাই, বাঁধা দিতে চাইলে হত্যাপূর্বক গুম করে ফেলার হুমকী দেয়। ওদের পালাক্রমে ধর্ষণের কারণে একপর্যায়ে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। ফজরের আযানের শব্দশুনে জেগে উঠে কাউকে না দেখে গ্রামের ভিতর দিয়ে সূর্যপুর বাজারে যাই। ভোরে এক সিএনজি চালকের মোবাইল ফোনে আমার স্বামীর সেল ফোনে ঘটনা জানাই।

এব্যপারে দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জহিরুল আনোয়ার জানান, ধর্ষনের ঘটনায় অভিযুক্ত ইউপি মেম্বার নবীরুল ও শহীদ খানকে ইতিমধ্যে আটক করে আদালতে হাজির করলে ধর্ষনের দায় স্বীকার করে ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে। অদ্য আমার পুলিশ টিম শ্রমিক সেজে আরো একজন আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। অন্যন্য আসামীদের গ্রেফতারে অভিযারন অব্যাহত আছে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box