দৃষ্টিনন্দন হচ্ছে ঢাকার সড়ক

আলোকিত সকাল ডেস্ক

সড়কের দুই পাশে সারি সারি সবুজ গাছ। বিলবোর্ডবিহীন সড়কের দুই পাশের আকাশটাও পরিষ্কার। রোদ কিংবা বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে যানবাহনের জন্য অপেক্ষাও করতে হচ্ছে না। খানিক দূরত্বে তৈরি করা হয়েছে আধুনিক যাত্রীছাউনি। যাত্রী ছাউনিতে বসে ব্যবহার করা যাচ্ছে ইন্টারনেট। গণপরিবহনে বসেও রাস্তার দুই পাশের সবুজে চোখ জুড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সড়কদ্বীপ আর মেডিয়ান সাজানো হয়েছে ছোট-বড় নানা গাছে। কোনো কোনো সড়কে বসেছে এলইডি বিলবোর্ডও। সূর্যের তেজ কমে এলে খোলা আকাশের নিচে হরহামেশাই আড্ডায় মেতে উঠছে তরুণরা। সুবিধাজনক জায়গায় চলন্ত গাড়ি থামিয়ে ছবি তোলার সুযোগটা হাতছাড়া করে না অনেকে। বর্ণনা শুনে অনেকের চোখের সামনে ভেসে উঠবে বিদেশি কোনো শহরের কথা। আদতে তা নয়, খোদ রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন সড়কে দেখা মিলছে এমন সৌন্দর্যের। উত্তরার দিয়াবাড়ী থেকে হাউস বিল্ডিং, বিমানবন্দর থেকে মহাখালী ফ্লাইওভার, বিজয় সরণি থেকে আগারগাঁও, অ্যারোপ্লেন মোড় থেকে বিজয় সরণি পর্যন্ত সড়ককে সাজানো হয়েছে যাত্রী পথচারীবান্ধব নানা অনুসঙ্গে।

সরেজমিনে এসব সড়কে গিয়ে দেখা গেছে, বিমানবন্দর সড়কের দুই পাশে লাগানো হয়েছে বনসাই। বনসাইয়ের ফাঁকে ফাঁকে রয়েছে অন্যান্য সবুজ পাতার গাছও। গাছের নিচের অংশ সাজানো হয়েছে সবুজ দুর্বায়। বেশ কয়েকটি ভাস্কর্যও রয়েছে পুরো সড়কে। খিলক্ষেত পার হয়ে প্রগতি সরণিতে ফ্লাইওভারের নিচেও লাগানো হয়েছে গাছ। পরিষ্কার লেকের চারপাশও সবুজ। কুর্মিটোলা গলফ মাঠের আগেও রয়েছে বেশ চওড়া যাত্রীছাউনি। যাত্রীদের বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে ছাউনিতে। যাত্রীছাউনির পরেই সড়কের পশ্চিম পাশে লতা ও গুল্মে দৃষ্টিনন্দন করা হয়েছে পুরো এলাকা। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ফটকের পাশে রয়েছে আরেকটি যাত্রীছাউনি। এ ছাড়া র‌্যাডিসন ব্লু হোটেলের পর রাস্তার দুই পাশের ফ্লাইওভারে প্রবেশমুখে লাগানো হয়েছে ফুল ও লতা জাতীয় উদ্ভিদ। বনানীর ১১ নম্বর সড়কের পর সড়কদ্বীপে লাগানো হয়েছে দেবদারু। এই সড়কে পাঁচটি যাত্রীছাউনি রয়েছে।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত পুরো সড়কের রাস্তার দুই পাশ সাজানো হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষে। বিজয় সরণি থেকে অ্যারোপ্লেন মোড় পর্যন্ত পুরো রাস্তাজুড়ে শোভা পাচ্ছে কোমল ঘাস। রয়েছে সাতটি এলইডি বিলবোর্ড। এ ছাড়া নতুনবাজার মোড় থেকে গুলশান ২ নম্বর চত্বর পর্যন্ত এবং গুলশান থেকে বনানী পর্যন্ত কামাল আতাতুর্ক রোডের সড়কদ্বীপ এবং মেডিয়ান সাজানো হয়েছে। নতুন রূপে সেজেছে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনের সড়ক, কাকরাইল থেকে মৎস্য ভবন হয়ে সচিবালয় পর্যন্ত এবং শাহবাগের বিভিন্ন সড়কও। ঢাকা দুই সিটি করপোরেশন এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ রাজধানীর সড়কের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করেছে। এর মধ্যে বিমানবন্দর সড়কের দুই পাশের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এ ছাড়া সড়কদ্বীপ এবং মেডিয়ানের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করেছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।

কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবের পাশের যাত্রীছাউনি অপেক্ষমাণ মিজানুর রহমান নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘কয়েক বছর আগেও ঢাকার বেশির ভাগ সড়কের দুই পাশ বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছিল। দুর্গন্ধের কারণে স্বস্তিতে একটু দাঁড়ানোও ছিল মুশকিল। যানবাহনের জন্য অপেক্ষাও করতে হতো রোদ-বৃষ্টি উপক্ষো করেই। এখন রাজধানীর অনেক স্থানেই দৃষ্টিনন্দর ফুটপাত ও যাত্রীছাউনি করা হয়েছে। তবে বিশেষ বিশেষ এলাকা নয়—আমি মনে করি রাজধানীর প্রতিটি ফুটপাতই হতে হবে পথচারীদের জন্য নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক।’

সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, নিজস্ব অর্থায়নে এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সিটি করপোরেশন চুক্তি করে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজের জন্য। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বেশ কয়েকটি সড়কের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। তবে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় বিভাগটি সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করেনি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ইউসুফ আলী সরদার বলেন, ‘সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ ডিএনসিসি নিজস্ব তহবিল এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করে থাকে। এখন রাজধানীর বেশির ভাগ সড়কই দৃষ্টিনন্দন করা হয়েছে।’

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box