দুই দলের ভাবনাতেই এক হাথুরু!

আলোকিত সকাল ডেস্ক

চণ্ডিকা হাথুরুসিংহেকে ঘিরে যা হচ্ছে, তাকে এক কথায় কী যে বলা যায়! একটি সিরিজে এক দলের দায়িত্বে আছেন। কিন্তু তাঁকে নিয়ে ভাবনায় আছে দুটি দলই। আবার দুই দলই বারবার জানিয়ে দিচ্ছে, হাথুরুকে নিয়ে কোনো ভাবনা নেই তাদের। ভাবনা যে নেই, সেটা প্রমাণের মরিয়া চেষ্টাটাই চোখে লাগছে বেশি করে। শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার পাট চুকিয়ে হাথুরু আবার বাংলাদেশের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন কি না, এ নিয়ে আগ্রহ আছে। আবার শেষ পর্যন্ত তিন পক্ষেরই ভিন্ন ভিন্ন পথে হাঁটার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা দুই দলই একই পথের যাত্রী। দুই দলই ভবিষ্যৎ কোচ কে, এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে।

শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রে কোচ প্রসঙ্গটিই বিব্রতকর। বেশ বড় সময়ের চুক্তিতে চণ্ডিকা হাথুরুসিংহেকে আনা হয়েছিল। কিন্তু শ্রীলঙ্কান বোর্ড তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক আর টানতে রাজি নয়। অন্তত দলের প্রধান কোচ হিসেবে যে তাঁকে আর রাখা হচ্ছে না সেটা প্রায় নিশ্চিত। শ্রীলঙ্কার মিডিয়ায় এটাই এখন মূল আলোচনা। ওদিকে বিশ্বকাপ থেকেই গুঞ্জন চলছে, বাংলাদেশের পরবর্তী কোচ হতে পারেন হাথুরুই। ফলে বেশ জমজমাট ত্রিমুখী এক নাটকের সৃষ্টি হয়েছে।

আজ দুই অধিনায়কই এ প্রসঙ্গে নিজেদের মত প্রকাশে অনীহা জানিয়েছেন। দিমুথ করুণারত্নে তো বলেই দিয়েছেন, ‘এটা জানতে চাইলে হাথুরুসিংহেকে জিজ্ঞেস করো।’

এত সহজেই যদি এ প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাওয়া গেলে হয়তো বেঁচেই যেত শ্রীলঙ্কা বোর্ড। কিন্তু সিরিজ শুরু হওয়ার আগেই কোচের চাকরি খোয়ানোর খবর যে দলের জন্য ভালো কিছু নয় সেটা সবাই জানে। বিশেষ করে সিরিজের প্রতিপক্ষেরই ভবিষ্যৎ কোচ হওয়ার গুঞ্জন তো আরও অস্বস্তিকর। এতে মনোযোগটা খেলা থেকে অন্য দিকেই যাওয়ার শঙ্কা বাড়ে।

শ্রীলঙ্কান অধিনায়কের দাবি, তাদের মনোযোগ খেলাতেই আছে। করুণারত্নে বলছিলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর তো আমাদের নিয়ন্ত্রণ নেই। নির্বাচক বা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলুন। আমাদের সামনে তিনটি ওয়ানডে আছে। সে (হাথুরু) পুরো সিরিজে আমাদের সঙ্গেই থাকছে। আমরাও তার সঙ্গে আছি। বিশ্বকাপে যেমন খেলেছি তেমন খেলার চেষ্টা করব।’

শ্রীলঙ্কার মনোযোগ মাঠ থেকে অন্যদিকে সরা মানেই তো প্রতিপক্ষের লাভ। সে ক্ষেত্রে সিরিজের শুরুতে বাংলাদেশ কিছু বাড়তি সুবিধা পেতেই পারে। কিন্তু সিরিজে কেউ ফেবারিট নয় বলে আগেই ’মধ্যপন্থা’ অবলম্বন করা তামিম এ প্রসঙ্গেও সোজা ব্যাটে খেললেন, ‘কোচ থাকবে কি থাকবে না সে আলোচনা বা ভাবনা মাঠের বাইরে পর্যন্তই থাকে। আমি নিশ্চিত, এটি যদি আমাদের সঙ্গে হতো একই উত্তর দিতাম।’

কোচ নিয়ে এই যে অনিশ্চয়তা, তাতে শ্রীলঙ্কার চেয়ে বাংলাদেশই সুবিধাজনক অবস্থায় আছে। সেটা বোঝা গেলে তামিমের পরের কথাতেই, ‘আমার কাছে মনে হয় না এটি খুব বেশি প্রভাব ফেলবে। আর যদি ফেলে তাহলে এটি আমাদের জন্য ইতিবাচক দিক। তবে সত্যি কথা বলতে, আমরাও এই বিষয়টি নিয়ে সেভাবে ভাবছি না। আমরা জানি এখানে এসেছি কী করতে—ম্যাচ জিততে। আমরা সেসব জিনিস নিয়ে বেশি চিন্তিত। ওদের কে অবসর নিচ্ছে অথবা ওদের দলের মধ্যে কোচ নিয়ে ঝামেলা হচ্ছে কি হচ্ছে না, এগুলো নিয়ে আমরা খুব বেশি ভাবছি না।’

মজার ব্যাপার হলো, বাংলাদেশের কোচ থাকার সময় আকস্মিক পদত্যাগ করে হাথুরু শ্রীলঙ্কার কোচ হয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষেই প্রথম সিরিজ খেলেছিলেন। যদি বাংলাদেশের কোচের ভূমিকায় আবার ফেরেন, তাহলে বৃত্তটা ভালোভাবে পূরণ করেই ফিরবেন!

আস/এসআইসু

Facebook Comments