দল চায় আমি ৩৫-৪০ ওভার পর্যন্ত ব্যাটিং করি

আলোকিত সকাল ডেস্ক

ওয়ানডে ক্রিকেটে লম্বা সময় ধরে ব্যাটিং করা আর ইনিংস গড়াকেই নিজের দায়িত্ব বলে মনে করেন টাইগার ওপেনার তামিম ইকবাল। এজন্য দলের চাহিদা অনুযায়ী ৩৫-৪০ ওভার পর্যন্ত ব্যাট করতেও আপত্তি নেই তার।

বাংলাদেশের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান তামিম সেই ২০১৭ সাল থেকেই দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ১৯০ ম্যাচ খেলে ৩৬.৩৩ গড়ে তার সংগ্রহ ৬৫৪০ রান। অভিজ্ঞতার কারণে প্রায়ই দলের ব্যাটিং লাইনআপের নেতৃত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিতে হয় তামিমকে।

অনেকে প্রশ্ন করেন, তামিম কেন আগের মতো আগ্রাসী ব্যাটিং করেন না? আসলে দায়িত্ব নিতে গিয়ে প্রায়ই কিছুটা ধীরেসুস্থে ব্যাটিং করতে হয় তামিমকে। একপ্রান্ত আগলে রেখে দলকে একটা ভালো শুরু এনে দেওয়ার ভার নিতে হয় তাকেই। অপরপ্রান্তে উইকেট পতনের মিছিলেও নিজেকে রাখতে হয় শান্ত।

ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তামিম বলেন, ‘আমি চাইলে কি আরও বেশি শট খেলতে পারিনা? আমিও কি দুঃসাহসিক হতে চাই না? কিন্তু বিষয় হচ্ছে, আমরা দলের জন্য খেলি। দলের চেয়ে বড় কিছু নেই। আপনি যদি আমার গত কয়েক বছরের রেকর্ড দেখেন, আমি যেভাবে খেলছি তা দলকে সাহায্য করছে। এটাই অধিক ফলপ্রসু।’

আগের ম্যাচেই তার স্ট্রাইক রেট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। এর জবাবে তামিমের উত্তর, ‘ধরুন, আমি ১৫০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করলাম কিন্তু দল হারলো। তাহলে এই ব্যাটিংয়ের মানে কি? কিন্তু আমি যদি ৬০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করি আর দলও জিতে যায়, আমি খুশি। দল আমাকে ৩০-৩৫ ওভার কিংবা ৪০ ওভার পর্যন্ত খেলতে দেখতে চায়। অন্যপ্রান্তে যখন উইকেটের পতন ঘটে, তারা আমাকে চায় আমি আরও বেশি সময় ক্রিজে থাকি।’

নিজের ব্যাটিংয়ে উন্নতির জন্য টাইগারদের সাবেক কোচ জেমি সিডন্সকে কৃতিত্ব দিলেন তামিম। ৩০ বছর বয়সী ওপেনার জানালেন, ৭ মে ত্রিদেশীয় সিরিজে দলের প্রথম ম্যাচে উইন্ডিজের বিপক্ষে শুরুতে সেট হতে কিছু সমস্যা হয়েছে। কিন্তু সেসময় তার সিডন্সের কথা মনে পড়ে আর তাতেই ব্যাটিংয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পান তিনি। ফলে মুখোমুখি হওয়া প্রথম ৩০ বলে যেখানে তার রান ছিল মাত্র ৬, কেমার রোচের করা ইনিংসের ১০ম ওভারে সেই তিনিই পরপর বাউন্ডারি হাঁকিয়ে চাপমুক্ত হলেন। এরপর ৪৫তম ওয়ানডে ফিফটির দেখা পাওয়ার পাশাপাশি সৌম্য সরকারকে নিয়ে গড়লেন ১৪৪ রানের ওপেনিং জুটি।

নিজের ইনিংসের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তামিম বলেন, ‘আমার ইনিংসের সবচেয়ে ভালো দিক হলো, শুরুতে সংগ্রাম করার পর কেউ হয়ত ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসে বাজে শট খেলবে এবং হয়ত ভাববে দিনটা আমার নয়। কিন্তু ওই সংগ্রামের পর টিকে থাকা কঠিন। শেষ পর্যন্ত, আপনি খেলার ওপর প্রভাব ফেলতে সক্ষম হবেন।’

‘আমি এই শিক্ষা জেমি সিডন্সের কাছে থেকে পেয়েছি যেমন তিনি বলতেন, “তুমি যখন রানের জন্য সংগ্রাম করবে, তোমার হাতে শুধু দুটো সুযোগ থাকবে, হয় তুমি ড্রেসিং রুমে ফিরে যাও এবং আমাদের সঙ্গে বসে পড়ো, কিংবা তুমি শেষ পর্যন্ত লড়ে যাও।”

সোমবার (১৩ মে) সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ২ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে এখন পর্যন্ত শীর্ষে অবস্থান করছে রোডসের শিষ্যরা।

ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দুটি প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ খেলার পর ২ জুন ওভালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box